মুসলিম শরণার্থীদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাইছে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ

immigration_webসাতটি মুসলিম দেশের নাগরিক ও শরণার্থীদের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, তা নিয়ে তুমুল কাটাছেঁড়া চলছে আদালতে৷ জারি হয়েছে সাময়িক স্থগিতাদেশ৷ নির্দেশ খারিজ হওয়ার আশঙ্কায় বিচারবিভাগের উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ অন্যদিকে, তাঁর মতোই মুসলিম দেশের শরণার্থীদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাইছে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ৷ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই মারাত্মক তথ্য৷ হাঙ্গেরি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না আশ্রয় নেওয়ার আবেদন গৃহীত হচ্ছে, সে দেশে ঢোকা শরণার্থীদের অস্থায়ী শিবিরে আটকে রাখা হবে৷ সব মিলিয়ে সিরিয়া-সহ গোটা বিশ্বের শরণার্থীরা নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে চলেছেন৷ তবে আশার কথা, চিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে গঠনমূলক সম্পর্ক চাইছে আমেরিকা৷ সে কথা জানিয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি লিখেছেন ট্রাম্প৷
হোয়াইট হাউসে পা রাখার পর তিন সপ্তাহও কাটেনি৷ এরই মধ্যে ট্রাম্পের মুখে বিষাদের সুর৷ তাঁর মত, “এটা খুবই দুঃখজনক৷” মার্কিন বিচারকদের প্রতি তাঁর কটাক্ষ, “হাইস্কুলের একটা খারাপ ছাত্রও আমার নিষেধাজ্ঞার পক্ষে রায় দিত৷” উল্লেখ্য, সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিক ও শরণার্থীদের আমেরিকায় ঢোকার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, তার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে নিম্ন আদালত৷ আপিল কোর্টও নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আইনজীবীকে৷ সেই আইনজীবী অগাস্ট ই ফ্লেনটেজেরও ধারণা, আদালতে ব্যাকফুটে ট্রাম্প প্রশাসন৷ শুনানিতে তিনি বিচারকদের বহু প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি৷ “আমি নিশ্চিত নই যে, আদালতকে বিষয়টি বোঝাতে পেরেছি কি না,” বলেছেন ফ্লেনটজে৷ যে পক্ষই জিতুক না কেন, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে অপর পক্ষ৷ তাই ট্রাম্পের গলায় হতাশার সুর স্পষ্ট৷
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটা জেনে উল্লসিত হতে পারেন যে, নিজের দেশ-সহ বিশ্বের অন্যত্র তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ হলেও সমর্থনও কম নেই৷ বিশেষত ইউরোপে৷ শরণার্থী সমস্যা সেখানেই বেশি প্রকট৷ বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় শরণার্থী নিতে হবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্দেশ জারি করেছে৷ যা ইইউ গোষ্ঠীর বিভিন্ন দেশ ভালভাবে নেয়নি৷ দশটি দেশের মানুষের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়েছিল রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স৷ তাতে দেখা গিয়েছে, ৫৫ শতাংশ মানুষই চান ট্রাম্পের মতোই মুসলিম দেশগুলির অভিবাসীদের ইউরোপে ঢোকা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক৷ এ বিষয়ে সবচেয়ে কট্টর অবস্হান পোল্যান্ডের৷ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ৭১ শতাংশ৷ তার পরই রয়েছে অস্ট্রিয়া (৬৫), বেলজিয়াম (৬৪), হাঙ্গেরি (৬৪), ফ্রান্স (৬১), জার্মানি (৫৩), ইতালি (৫১) ও গ্রিস (৫১)৷ তবে ব্রিটেনের ক্ষেত্রে এই মতের সমর্থক ৪৭ শতাংশ৷ প্রায় দশ হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে৷ বিশেষত, অবসরপ্রাপ্ত ও প্রবীণদের মধ্যে প্রবণতা বেশি৷ আমেরিকার বাসিন্দা, ইরান থেকে আগত হোমা হোমেই বলেছেন, “ট্রাম্পের জয়ের সঙ্গে শরণার্থীদের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অনেকে কথা বলছেন৷ কিন্তু বাস্তব চিত্রটা আরও ভয়ঙ্কর৷ গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে৷” এদিকে, চিনের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগ নিলেন ট্রাম্প৷ চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি জিনপিংয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী৷