ধুর পাচারকারীদের ধরার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই পুলিশের

সীমান্তে কোথাও কোথাও কাঁটাতারের বেড়া আছে ঠিকই, কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অনেক জায়গাতেই কোনো বেড়া নেই। আর সেই স্থান দিয়ে বিএসএফ-এর নজর এড়িয়ে এক শ্রেণীর দালালদের মাধ্যমে প্রচুর বাংলাদেশী এদেশে ঢুকে পড়ছে। এই দালালরা মূলত একটি সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় মানুষদের কাছে এরা ”ধুর সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত।‘ধুর’ বলতে বোঝায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। যারা দালাল ধরে ঢোকে এ দেশে। সেই দালালদের নেটওয়ার্ক সর্বত্র ছড়ানো। আইন-আদালত-বিএসএফ থেকে শুরু করে কোথায় জাল ভারতীয় পাসপোর্ট বানানো যাবে, কাকে কত টাকা দিলে জাল আধার কার্ড তৈরি হয়ে যাবে, এ সব তাদের নখদর্পণে। বাংলাদেশ থেকে বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে চোরাপথে এ দেশে আসতে হলে ধুর সিন্ডিকেটের কাউকে না কাউকে ধরতে হবে। নির্দিষ্ট টাকা হাতে গুঁজে দিলেই এ দেশের সীমাম্তের দরজায় চিচিং ফাঁক।সম্প্রতি গাইঘাটার ঠাকুরনগর এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এ দেশের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড, জনপ্রতিনিধিদের স্ট্যাম্প, প্যাড উদ্ধার করে। গ্রেফতারও হয় দু’জন। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, তারা মূলত বাংলাদেশিদের কাছে ওই সব নথিপত্র মোটা টাকায় বিক্রি করত। ‘ধুর’ কারবারিদের সঙ্গেও তাদের যোগ ছিল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ‘ধুর’ সিন্ডিকেটের মূল ডেরা এখন হাবরার মছলন্দপুর। কারবারের মাথারা এখানেই ঘাঁটি গেড়ে আছে বলে খবর পুলিশের কাছে। পেট্রাপোল, জয়ন্তীপুর, বাঁশঘাটা, কুরুলিয়া, আংরাইল, ঝাউডাঙা, বসিরহাটের হাকিমপুর, স্বরূপনগর-সহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশিরা এ দেশে ঢোকানোর বিশাল বেআইনি ব্যবসা ফেঁদে বসেছে তারা। ধুর পাচারকারীদের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের যোগাযোগের প্রমাণও পুলিশ বার বার পেয়েছে। কিছু দিন আগেই সম্প্রতি পেট্রাপোলে এক যুবককে কুপিয়ে খুন করা হয়। ওই খুনের পিছনে ধুর পাচারের দখলের বিষয়টি ছিল বলে পুলিশের কানে আসে।  কিন্তু সব জেনেও পুলিশ কেন চুপ করে থাকে বা কেন ধুর পাচারকারীদের ধরার ব্যাপারে উৎসাহ দেখাচ্ছে না,  সেটা সত্যি বিস্ময়ের।
Advertisements