দুবাইতে তৈরী দু’হাজার টাকার জালনোট পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে এদেশে ঢুকছে

দু’হাজার টাকার নতুন নোট বাজারে আসতেই ‘বি’ এবং ‘সি’ ক্যাটিগরির জালনোট তৈরি করে ফেলেছিল পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চোরাকারবারিরা। এবার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘এ’ ক্যাটিগরির দু’হাজার টাকার জালনোট তৈরি হচ্ছে দুবাইয়ে। সম্প্রতি এমনই নতুন তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। তাঁরা জানতে পেরেছেন, এই জালনোট দেখে বোঝার উপায় নেই— আসল না নকল। কারণ, ভারতে তৈরি আসল দু’হাজার টাকার নোটে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যা যা গোপন সিকিউরিটি ফিচারস রয়েছে, হুবহু সবই ব্যবহার করা হচ্ছে এই নতুন জালনোটে। গোয়েন্দাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হাত ধরে দুবাইয়ে তৈরি নতুন জালনোট পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ঘুরে ভারতে ঢুকছে। যা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নোট বাতিলের পর বড় ধাক্কা খেয়েছিল জালনোট কারবারিরা। কিন্তু, ভারতে নতুন দু’হাজার টাকার নোট চালুর কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে ফের জালনোট তৈরির কারবার শুরু হয়।বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের  সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে সেই জালনোট এ দেশে ঢুকছে। গোয়েন্দাদের কথায়, চোরাকারবারিরা বাংলাদেশের তৈরি জালনোটকে ‘সি’ ক্যাটাগরি বলে। কারণ, এই জালনোটের মান ভালো নয়। সহজে ধরে ফেলা যায়। তাছাড়া, আসল নোটে যে যে সিকিউরিটি ফিচারস থাকে তার অনেকগুলি থাকে না। সাধারণ মানুষ সহজে চিনতে না পারলেও অভিজ্ঞ পুলিশ, গোয়েন্দা অফিসার এবং ব্যাংকের অফিসাররা সহজেই ধরে ফেলেন। তাছাড়া পাতলা ও ন্যাতন্যাতে হয়। ‘সি’ ক্যাটাগরির জালনোটের মান উন্নত করার জন্য দিন কয়েক পরই পাকিস্তানের বালুচপ্রদেশ এলাকায় ‘বি’ ক্যাটাগরির জালনোট তৈরি শুরু হয়। কিন্তু, আগের চেয়ে উন্নত হলেও এই ক্যাটাগরির জালনোটও সম্পূর্ণ নিখুঁত হয়নি।

তাই চোরাকারবারিরা অনেকদিন ধরেই ‘এ’ ক্যাটাগরির জালনোট তৈরির চেষ্টা করছিল। অর্থাৎ আসলে নোট যেভাবে তৈরি করা হয় হুবহু একইভাবে তৈরি হবে। যাতে কোনওভাবে বোঝা না যায়। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দুবাইয়ে ‘এ’ ক্যাটাগরির জালনোট তৈরি শুরু হয়ে গিয়েছে। একেবারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। দক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা আসল নোটের মতো জালনোটেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত খুঁটিনাটির বিষয়গুলি দেখছে। ভারতে আসল দু’হাজার টাকার নোট ছাপানোর জন্য বাইরে থেকে বিশেষ এক ধরনের কাগজ কেনা হয়। দুবাইয়ের চোরাকারবারিরাও ওই স্মার্ট ও কড়কড়ে কাগজ ব্যবহার করছে। ফলে, বোঝার কোনও উপায় নেই। যা দেশের অর্থনীতির পক্ষে মারাত্মক বিপজ্জনক।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ‘এ’ ক্যাটিগরির জালনোট তৈরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আইএস। দুবাই থেকে ওই জালনোট পাকিস্তানে নিয়ে যাচ্ছে আইএসআই। সুযোগ বুঝে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের কারবারিদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশের চোরাকারবারিরা সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে সেই নতুন জালনোট পাঠিয়ে দিচ্ছে এ দেশে। সেখান থেকে ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে। গোয়েন্দাদের দাবি, মূলত মালদহ সীমান্ত দিয়েই বেশি জালনোট ঢুকছে। তবে, সেগুলি কোন ক্যাটিগরির তা দেখা হচ্ছে।

Advertisements