জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন ঝরালেন তপন ঘোষঃ দিল্লীর বুকে সৃষ্টি হল নতুন ইতিহাস

কেমন আছেন কাশ্মীরের সেই সব ছিন্নমূল মানুষগুলি? যাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকান না। কোন সংবাদপত্র, মিডিয়া বা সাহিত্যিকের কলম যাদের কথা তুলে ধরে না। যাদের একটাই অপরাধ তারা সংখ্যালঘু! 

না, তবে মুসলমান সংখ্যালঘু হলে তাদের নিশ্চয়ই আজ এই দুর্দশা হত না এ কথা জোরের সঙ্গেই বলা যায় কিন্তু, তারা যে হিন্দুস্থানের বুকে হিন্দু সংখ্যালঘু। ভাবতে অবাক লাগলেও, সেই নব্বই’এর পর থেকে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের বাস্তুভিটা থেকে নির্মম ভাবে উচ্ছেদ হয়ে নিজের দেশের মাটিতেই উদ্বাস্তু হয়ে নিদারুণ পরিস্থিতিতে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতদের জ্বলন্ত সমস্যা আজও ভারতের এক বিরাট লজ্জা। 

আর এই জাতীয় লজ্জা নিয়েই সামান্য আলোচনা এবং তার আশু নিরসনের উদ্দেশ্যে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্দেশ্যেই গত ১৬ই জানুয়ারি বিকেল ৪’টের সময় দিল্লীর প্রখ্যাত জেএনইউ ক্যাম্পাসে স্কুল অফ সোশ্যাল সাইন্স প্রেক্ষাগৃহে এবিভিপি এবং ওয়াইফোরপিকে–এর পক্ষ থেকে “এক ভারত অভিযান-কাশ্মীর কি ঔর” শীর্ষক এক মহতী আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। 

এই সেই সাম্প্রতিক শিরোনামে উঠে আসা ওমর খলিদ এবং কানাইয়া কুমার খ্যাত জেএনইউ ক্যাম্পাস, যেখানে বামপন্থার নামে প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী স্লোগান ওঠে। কাশ্মীরের জঙ্গী বুরহান যাদের নয়নের মনি। যারা বলতে পারেন, কাশ্মীর কি আজাদী তক জঙ্গ রহেগা জঙ্গ রহেগা। কিংবা কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী, মণিপুর … কেরল মাঙ্গে আজাদী, – তারা যে এদিন হাত পা গুটিয়ে চুপ চাপ বসে থাকেন নি সেটা বলাই বাহুল্য। রীতি মত ডাফলি বাজিয়ে গলা ফাটিয়ে এদিনও তারা একই ভাবে ময়দানে নেমে পড়েনউগ্র স্লোগানের পাশাপাশি প্যাকার্ড ফেস্টুন নিয়ে তাদের চিরাচরিত নাটুকে আবহে এদিন দুপুর থেকেই প্রেক্ষাগৃহের বাইরে জড় হওয়া বামপন্থী ছাত্র-ছাত্রীরা যথারীতি এবিভিপি’র আয়োজিত এই আলোচনা সভার তীব্র বিরোধীতা সহ তথাকথিত দাভোলকার, পানসারে এবং কালবুর্গীদের হত্যাকারীদের মুন্ডুপাত করা ছাড়াও তপন ঘোষ মুর্দাবাদ ধ্বনি’তে বারংবার সোচ্চার হয়ে ওঠেন 

কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও সমস্থ প্রতিরোধকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এদিন যেভাবে গেরুয়া শিবির খোদ বামপন্থী দুর্গ বলে পরিচিত জেএনইউ ক্যাম্পাসে তাদের প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানটি সাফল্যমন্ডিত করতে সক্ষম হলেন, তাতে এদেশে বামপন্থা’র ভবিষ্যৎ যে চূড়ান্ত ব্যার্থ তা আরও একবার সুস্পষ্ট রূপে প্রমান হয়ে গেল। এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার হল যে, গেরুয়া শক্তিই ক্রমে ভারতের জাতিয়তাবোধের চালিকাশক্তির  আসনে আসীন হতে চলেছে। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কাশ্মীরের নিপীড়িত ও লাঞ্ছিত সেই সব লক্ষ লক্ষ হিন্দুর জীবনালেখ্য একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে সমবেত দর্শকমণ্ডলীর সামনে তুলে ধরা হয়। এরপর প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে সমাবেশের শুভারম্ভ হয়। সভায় উপবিষ্ট প্রখ্যাত বক্তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। 

মঞ্চে উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে এদিনের অন্যতম মুল আকর্ষন ছিলেন হিন্দু সংহতির মাননীয় সর্বভারতীয় সভাপতি তথা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ শ্রী তপন কুমার ঘোষ মহাশয়। বক্তা হিসেবে প্রথম থেকেই তিনি ছিলেন তীব্র আক্রমণাত্মক। তিনি তাঁর ভাষণে কাশ্মীরিয়ত-এর সাথে কাশ্মীরী হিন্দুদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরা ছাড়াও কি ভাবে তাদের সেখানে পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব সেই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন আলোকপাত করেন। পাশাপাশি কাশ্মীরের মাটিতে কি ভাবে হিন্দুদের একটি নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলা যেতে পারে, বা “পানুন কাশ্মীর” বা “আপনা কাশ্মীর”-এর স্বরূপটি কাশ্মিরী হিন্দুদের কাছে ঠিক কেমন হতে পারে, তার একটি স্বার্থক চিত্র অঙ্কন করতে সমর্থ হন। সভায় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে শ্রী ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণের মাক্কাল কাচ্চী’র শ্রী অর্জুন সম্পত এবং বিশিষ্ট বাগ্মী শ্রী অভয় ভর্তক সহ আরও অনেকে। এছাড়াও কাশ্মীরি হিন্দু পন্ডিতদের তরফেও নানা অভাব অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়। 

এদিনের প্রেক্ষাগৃহের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শরত বামপন্থী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রী তপন ঘোষ জানান যে, এই বামপন্থীরা যারা চিরটাকাল মেকী বাক স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে আকাশবাতাস বিদীর্ন করে তুলতে ভালোবাসেন, আজ তারাই এসেছেন কাশ্মীরী হিন্দুদের গলার আওয়াজকে স্তব্ধ করে দিতে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে তাদের এমনধারা নোংরা দ্বিচারীতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সব করে মেরুদণ্ডহীন এবং সামাজিক ভাবে সম্পুর্ন অপাংক্তেয় বামেরা তাদের সস্তা চটকদারি জনপ্রিয়তা’টা কিছুটা হলেও আজও হয়তো অর্জন করতে পারছেন, তথপি অন্যদিকে বলাই যায় যে, আখেরে নিজেদেরকেই সকলের কাছে করুনার পাত্র করে তুলছেন। সকলের কাছে তাই তাঁর ছুঁড়ে দেওয়া প্রশ্ন, এইখানে কম্যুনিস্টদের বরাবরের চেনা ঘাঁটি স্বয়ং জেএনইউ’র মত জায়গাতেই আজ যখন তারা (হিন্দুত্ববাদী’রা)সম্পুর্ন অপ্রতিরোধ্য, সেখানে আগামী দিনে তাঁর বা তাদের মত মানুষের গতিরুদ্ধ করা কি আর আদৌ সম্ভব? 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জেএনইউ-এর গত ১৬ই জানুয়ারীর সফল অনুষ্ঠান শেষে বর্তমানে শ্রী ঘোষের হরিয়ানার ফরিদাবাদ হয়ে জম্মুতে আসার কথা। আর এইপথেও আরও বেশকিছু কর্মসূচী তারই অপেক্ষায় আছে বলে শ্রী ঘোষ তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন।