গণপিটুনির ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় মুসলিমদের খেপিয়ে তোলার চেষ্টা, মোদী-যোগীকেও তোপ মাসুদের

masood-azharভারতে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল পান্ডা জইশ-ই-মহম্মদের মাথা মৌলানা মাসুদ আজহারের এবার ভারতীয় মুসলিমদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা। জঙ্গি সংগঠনের একটি পত্রিকা মাসুদ একটি নিবন্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছে। সেইসঙ্গে গণপিটুনির ইস্যু তুলে ভারতীয় মুসলিমদের খেপিয়ে তোলার চেষ্টাও করা হয়েছে মাসুদের লেখায়।
পঠানকোট হামলার মূলচক্রী লিখেছে, এই নিবন্ধ ভারতে শোরগোল ফেলে দেবে।তাতে সে পরোয়া করে না। ভারতে যাবতীয় ঘটনায় দায় তার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে তার কোনও মাথাব্যথা নেই। মাসুদের দাবি, বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা, ধরপাকড়,ফাঁসিতে ঝোলানো, ষড়যন্ত্র মুসলিমদের মনে ভয় ধরাতে পারে না। জইশের পান্ডা কুম্ভীরাশ্রু বর্জন করে লিখেছে, ভারতীয় ও কাশ্মীরী মুসলিমদের ওপর অত্যাচার ও নিগ্রহের খবরে তাদের হৃদয়ে আগুন জ্বেলে দেয়।
উল্লেখ্য, পঠানকোট, নাগরোটা, গুরদাসপুর এবং আখনুর ছাড়াও আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরিফে ভারতীয় কনসুলেটের ওপর হামলা সহ ভারতীয় সেনা ও সাধারণ মানুষের ওপর একাধিক হামলার ঘটনায় জড়িত মাসুদের জঙ্গি গোষ্ঠী।
গত ১৫ জুলাই দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার ত্রালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছিল জইশের তিন জঙ্গি।
নিজের নিবন্ধে গোরক্ষকদের মারধরে কয়েকজনের মৃত্যু ও হরিয়ানায় এক কিশোরের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভারতীয় মুসলিমদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নিরীহ ভারতীয় নাগরিকদের খুনের ঘটনায় জড়িত মাসুদ লিখেছে, ভারতের অবস্থা খুবই খারাপ, অসহ্য ও নিন্দাজনক। সে আরও লিখেছে, বুকে ক্ষত নিয়ে সুলতানের মতো ঘোরার থেকে হাসিমুখে মৃত্যুও অনেক ভালো। মৃত্যু তো একদিন আসবেই। কিন্তু কোনও মুসলিম আঘাত সহ্য করতে পারে, কিন্তু পরাজয় সহ্য করতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মাসুদ লিখেছে, মুসলিমদের রক্ত খুবই মূল্যবান। মুসলিমদের বিনাশ করা যায় না। পাকিস্তানে প্রকৃত মুসলিম শাসক এলে তিন-চারদিনের মধ্যেই উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া হবে।
এই মাসুদকেই রাষ্ট্রপুঞ্জ কর্তৃক আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে আখ্যা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও আমেরিকা। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে মদত দিতে এই প্রচেষ্টায় বাধার প্রাচীর গড়ে তুলেছে চিন।
সেই মাসুদ পাকিস্তানে বসে ভারতের বিরুদ্ধে অবাধে হুঙ্কার ছাড়ছে। ভারতীয় মুসলিমদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি আমেরিকা সরকারের একটি রিপোর্টে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় না। লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠন পাকিস্তানে অবাধে কাজ চালাচ্ছে, জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, সংগঠিত করছে এবং অর্থ সংগ্রহ করছে।

Advertisements