IISWBM-এ অনুষ্ঠিত হলো মহম্মদের জীবনী নিয়ে সেমিনার

IISWBM-a onusthito holo mohammader jiboni niye onusthan (2)গত ১৬ই ডিসেম্বর, শনিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হলো মহম্মদের জীবন নিয়ে আলোচনা। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি অ্যাসোসিয়েসন। এই অনুষ্ঠান ঘিরেই শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরা চমকে উঠেছেন। কারণ ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম নিয়ে আলোচনায় কোনো বামপন্থী ছাত্র সংগঠন প্রতিবাদ করেননি, উল্টে দলবেঁধে যোগ দিয়েছে। এমনকি এই অনুষ্ঠানের জন্যে এই প্রতিষ্ঠানের গেটে বড়ো করে ব্যানার লাগানো হয়েছিল। তবে এই অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিলেও, ভবিষ্যতে হিন্দুদের কোনো ধর্মীয় আলোচনা করার অনুমতি প্রতিষ্ঠানের কতৃপক্ষ দেয় কিনা, সেটাই দেখার।

Advertisements

পাঁচলায় জিহাদের আঁচ : ভাঙা হলো রাধা গোবিন্দের মূর্তি

panchlay jihader anchহাওড়া জেলার অন্তর্গত পাঁচলার লস্করপুরের ২৪ পরতলার নামতলা এলাকা। এলাকায় প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো রাধা গোবিন্দের মন্দির রয়েছে। এই মন্দির হাওড়া জেলার খুব জনপ্রিয় মন্দির। এখানে বাৎসরিক উৎসবের সময় প্রচুর লোক সমাগম হয়। গত কয়েকদিন ধরেই মন্দিরে নাম-সংকীর্তন চলছিল। শনিবার ১৬ই ডিসেম্বর রাতে কীর্তন শেষ করে যে যার বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন রবিবার ১৭ই ডিসেম্বর ভোরে কীর্তনের দল মন্দিরে এসে দেখে যে রাধা গোবিন্দের মূর্তির মধ্যে রাধার মাথা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। মূর্তি ভাঙার খবর  চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে বিশাল সংখ্যক মানুষ মন্দির চত্বরে এসে জড়ো হন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পাঁচলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তাদের ঘিরে ধরে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় হিন্দু জনতা। পুলিশ ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দেয়। তবে পুলিশ দোষীদের আদৌ গ্রেপ্তার করতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কারণ এর আগে পাঁচলা বাজার লুট হয়েছে, নবী দিবসের মিছিলের অছিলায় হিন্দু বাড়িঘর ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আর এবার রাধা গোবিন্দের মূর্তি  ভাঙা হলো। আগের ঘটনায় দোষীদের সাজা হয়নি। তাই এবার দুষ্কৃতীরা সাজা পাবে কিনা এলাকাবাসীদের মনে সন্দেহ রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

মালদহের ইংলিশবাজারে জালনোট সমেত গ্রেপ্তার মহম্মদ সরিফুল শেখ

২০ হাজার টাকার জালনোট সহ এক যুবককে মালদহের ইংলিশবাজার থানার পুলিশ গত ১৪ই ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মহম্মদ সরিফুল শেখ। রতুয়ার ভাদোরের ওই বাসিন্দাকে রাতে মালদহ মেডিক্যাল লাগোয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১০টি নতুন দু’হাজার টাকার নোট মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকাগুলি নতুন সিরিজের। আর তা থেকেই গোয়েন্দা মহলের অনুমান ওই যুবক নতুন উন্নত মানের টাকাগুলির স্যাম্পেল কাউকে দেখাতে এনেছিল। কিন্তু পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এদিন মালদহ আদালতে তুলে তাকে পাঁচ দিনের জন্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জালনোট নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে পুলিশ চেষ্টা করছে।

ক্যানিং-এ কম্বল ও ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলব্যাগ বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং মহকুমার অন্তর্গত তালদি বাজার এলাকা। হিন্দু সংহতির প্রধান কাজ হিন্দু প্রতিরোধ হলেও দুঃস্থ হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে সহযোগিতার হাত হিন্দু সংহতি তার জন্মলগ্ন থেকেই বাড়িয়ে আসছে। আর তার অঙ্গ হিসেবে তালদি বাজারে গত ১৭ই ডিসেম্বর, রবিবার এক অনুষ্ঠানে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলব্যাগ ও খাতা এবং দুঃস্থ বয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয় হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস মহাশয়, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয় এবং সুদূর আমেরিকা থেকে আগত হিন্দু সংহতির শুভাকাঙ্খী শ্রী দিলীপভাই মেহেতা। অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে বরণ করে নেওয়া হয়। তারপর স্থানীয় আদিবাসী ভাইবোনেরা নৃত্য পরিবেশন করেন। তারপর সবমিলিয়ে প্রায় ২০০-এর বেশি মানুষকে কম্বল, স্কুলব্যাগ ও খাতা দেওয়া হয়। কম্বল ও খাতা তুলে দেন শ্রী তপন ঘোষ মহাশয় ও শ্রী দিলীপভাই মেহেতা। বিশেষভাবে উল্লেখ্য এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শ্রীমতি তপতি পাঁজা মহাশয়া।

পোস্ত চাষের হদিস পেতে ড্রোন নিয়ে নজরদারি মুর্শিদাবাদে

posto chaser hodis pete drone Murshidabadপোস্ত চাষের হদিস পেতে গত দু’দিন ধরেই গোটা মুর্শিদাবাদ জুড়ে চলেছে ড্রোন অভিযান। রঘুনাথগঞ্জ থানার আইসি সৈকত রায় জানান, পোস্ত চাষ রুখতে নজরদারি আছেই। সিভিক ভল্যান্টিয়ারদেরও সেই কাজে লাগানো হয়েছে। তবু তাতে কোথাও ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছে কি না তা দেখতেই পুলিশ ও কলকাতা থেকে আসা রাজ্য নারকোটিক্স বিভাগের অফিসারেরা ড্রোন অভিযান চালান। গত  শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, প্রায়  আধ ঘণ্টা ধরে লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জের সীমান্ত লাগোয়া কুলগাছি, ইছাখালি, ইলিমপুর, চমকপুরের উপর দিয়ে উড়ে ড্রোন নামল মাঠের মধ্যে। তবে কোথাও পোস্তর হদিস মেলেনি। কারণ একসময় এই এলাকা পোস্ত চাষের জন্য পরিচিত ছিল। দুষ্কৃতীরা বিঘের পর বিঘে জুড়ে জমিতে পোস্ত চাষ করতো। সারা দেশে মাদক চালানো হতো এই এলাকা থেকে। আর এর লাভের একটা অংশ খরচ হতো দেশবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপে। কিন্তু গত কয়েকবছরে গোয়েন্দাদের তৎপরতা বাড়ায় এখন পোস্ত চাষ কমেছে অনেকটাই।

কলকাতার নারকোটিক্স দফতরের ইন্টেলিজেন্স ইনস্পেক্টর সুরজিৎ সেন জানান,  “এক সপ্তাহ ধরে সারা রাজ্যেই পোস্ত চাষের চিহ্নিত এলাকাগুলিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। কলকাতা থেকে ড্রোন নিয়ে তাঁরা জেলায়-জেলায় ঘুরছেন। জেলা পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেই ছক করা হচ্ছে অভিযানের। সঙ্গে থাকছে স্থানীয় পুলিশও। এই দলটি ফিরে এসে রিপোর্ট জমা দিলে তবেই বোঝা যাবে রাজ্যে পোস্ত চাষের ছবিটা কতটা বদলেছে। কোথাও পোস্ত চাষের হদিস পাওয়া গেলে এর পর তা নষ্ট করতে অভিযান হবে।”

জালনোটের মামলায় সারাদেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থানে

Jalnoter mamlay saradesher২০১৬’র নিরিখে দেশের মধ্যে জাল নোট নিয়ে সর্বাধিক মামলা রুজু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। দেশের মধ্যে সর্বাধিক ১৮৩ জন গ্রেপ্তারও হয়েছে এই রাজ্যে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পক্ষ থেকে ২০১৬’র গোটা দেশের অপরাধ পরিসংখ্যানের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তাতেই দেখা যাচ্ছে, জাল নোট সংক্রান্ত মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সবার উপরে রয়েছে। তাতে আরও বলা হয়েছে, জাল নোট পাচারে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের সীমান্ত রাজ্য হিসেবে গুজরাত, উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে একই আসনে রয়েছে দিল্লিও। বলা ভালো, ২০১৬’তে সর্বাধিক মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি জাল নোট দিল্লি থেকে বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬’তে দিল্লিতে দেশের মধ্যে সর্বাধিক মোট ১,১৪,৭৫১টি জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যার মূল্য ৫,৬৫,২১,৪৬০ টাকা। এরপরেই দ্বিতীয় স্থানে ছিল গুজরাত। সেখানে ৩৯,৭২৫ টি জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যার মূল্য প্রায় ২,৩৭,২৪,০৫০ টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এখানে ২০১৬’তে ৩২,৮৬৯টি জাল নোট বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। যার মূল্য প্রায় ২,৩২,৯৫,৮০০ টাকা। এরপরে যথাক্রমে অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব এবং বিহারের মতো রাজ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে ২০১৬’তে গোটা দেশে ১৫,৯২,৫০,১৮১ কোটি টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। দেশের মধ্যে সর্বাধিক জাল নোট দিল্লিতে বাজেয়াপ্ত হলেও, পশ্চিমবঙ্গ মামলা রুজু এবং গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যানে সবার উপরে রয়েছে। এরাজ্যে ২০১৬’তে জাল নোট সংক্রান্ত ২০৩টি মামলা রুজু হয়েছে। যাতে ১৮৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। দ্বিতীয়স্থানে থাকা উত্তরপ্রদেশে ১২৫টি মামলা হয়েছে এবং ১১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।
তৃতীয়স্থানে রয়েছে কর্ণাটক, সেখানে মোট ৯৯টি মামলা হয়েছে। যাতে ৭৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এই তালিকায় এরপরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, গুজরাতের মতো রাজ্য। এদিকে, ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন মধ্যরাত থেকে ৫০০ এবং ১,০০০ টাকার নোট বাতিল। এর পরপরই ২,০০০ টাকার নোট বাজারে আনা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এখন এনসিআরবি রিপোর্টে বলা হয়েছে, দু’হাজার টাকার নোট বাজারে আনার পর ২০১৬’র মাত্র ৫৩ দিনেই ২,২৭২টি জাল দু’হাজার টাকার নোট দেশজুড়ে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। যার মধ্যে ১৩০০টি জাল নোট গুজরাত, ৫৪৮টি পাঞ্জাব এবং ২৫৪টি কর্ণাটক থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। ২০১৬ সালে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দ্বিতীয় সর্বাধিক ১৩,৭৮৬টি এক হাজার টাকার নোট এবং ১৯,০০৫টি ৫০০ টাকার নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে গোটা দেশে ২,৮১,৮৩৯টি জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার মূল্য ১০,১২,২২,৮২১ কোটি টাকা।

জলপাইগুড়িতে দুই নারী পাচারকারী গ্রেপ্তার

জলপাইগুড়ি জেলায় ইদানিং নারী পাচার বেড়ে গিয়েছে।  আর সেই জেলাতে নারী পাচার চক্রের দুই পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ।গত ১৭ই ডিসেম্বর, রবিবার রাতে ওই দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম বাসিরউদ্দিন মোল্লা ও সোভারুল ইসলাম। তাদের বাড়ি মালদহের কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরে। মালদহের এক মহিলাকে নেপালে পাচারের উদ্দেশে তারা জলপাইগুড়িতে এসেছিল। কোতোয়ালি থানার পুলিশ এদিন ফাঁদ পেতে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে ও দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে।

আরএসএস-এর স্কুল বন্ধ করতে গিয়ে হাইকোর্টে ভর্ৎসিত রাজ্য সরকার

RSS-er school bondho korte giye high courte bidya varatiরাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের স্কুল বন্ধ করতে গিয়ে আদালতে বিপাকে পড়ল রাজ্য সরকার। আদালতের নির্দেশ ছাড়া সংঘ পরিচালিত স্কুলগুলি রাজ্য বন্ধ করতে পারবে না বলে জানিয়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।

রাজ্যে সংঘের প্রসার ঠেকাতে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার স্কুলগুলি বন্ধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সংঘ পরিচালিত স্কুলের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পরেই উত্তর দিনাজপুর জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আদালতে এমনই অভিযোগ করেছেন স্কুল কমিটির আইনজীবী লোকনাথ চট্টোপাধ্যায়।

মাস কয়েক আগেই রাজ্যের কাছে রিপোর্ট এসেছিল, প্রায় প্রতিটি জেলায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংঘের কার্যকলাপের পরিধিও বেড়েছে। এই তথ্য রাজ্যের শাসক দলের কপালে ভাঁজ ফেলে দেয়। বকলমে আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বিদ্যালয়গুলির বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করে নেয় রাজ্য প্রশাসন। বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে যে গত ৯ মার্চ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকে বিধানসভা অধিবেশন কক্ষে দু’দফায় এসে এ ব্যাপারে বিবৃতি দিতে হয়।

ওই দিন কামারহাটির সিপিএম বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, সরস্বতী শিশুমন্দির নামে কোনও বিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি? সারদা বিদ্যামন্দির নামে কোনও বিদ্যালয় কি সরকার থেকে অনুমোদন পেয়েছে? উত্তর দিতে উঠে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সরস্বতী শিশুমন্দির নামে কোনও স্কুলের অনুমোদন নেই। তবে সারদা বিদ্যামন্দির নামে পাঁচটি স্কুল অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে দু’টি করে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর দিনাজপুরে। একটি রয়েছে মুর্শিদাবাদে।

এর পরই অতিরিক্ত প্রশ্ন করতে উঠে মানসবাবু বলেন, বিবেকানন্দ বিদ্যাবিকাশ পরিষদ নামে একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, তাদের অধীনে ৩০০টি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অনুমোদন রয়েছে ২৫টির। দু’টি মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ও রয়েছে। ৩০০টি বিদ্যালয়ে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪৫ জন। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে এই বিদ্যালয়গুলি খোলা হয়েছে। নির্দিষ্ট জাতি ও সম্প্রদায়ের উপরে এই বিদ্যালয়গুলির পড়াশুনার পরিকাঠামো যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে। শিশুমনকে বিভ্রান্ত করছে। সরকারি সিলেবাসের বাইরে গিয়ে এই বিদ্যালয়গুলিতে পঠন-পাঠন হচ্ছে। মূলত ধর্মকে গুরুত্ব দিয়ে পড়াশুনা করানো হচ্ছে। পালটা বলতে উঠে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওয়েবসাইটে যা দেওয়া থাকে, তা সর্বদা সত্য নয়। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি তাঁদেরও নজরে এসেছে। ইতিমধ্যেই শ’খানেক বিদ্যালয়ের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও একটি বিদ্যালয়ের নাম বলেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্য সরকার কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না? কেন এই অনুমোদনহীন বিদ্যালয়গুলিকে দিনের পর দিন চলতে দেওয়া হচ্ছে?

রাজ্য সরকারের ওই মনোভাবকে কটাক্ষ করে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, গত পাঁচ বছরে আরএসএসের শাখার কার্যপরিধি বেড়েছে। ওই শাখাগুলির নিয়ন্ত্রণে থাকা বিদ্যালয়গুলি অনুমোদন পেয়েই রাজ্যজুড়ে বিস্তারলাভ করেছে। যতই প্রকাশ্যে বিরোধিতা করুক না কেন, তলে তলে মোদিভাই-দিদিভাইয়ের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা তো প্রথম থেকেই আমরা দাবি করে আসছি।

প্রথম ধাপে শিক্ষামন্ত্রী সরাসরি না বললেও, পরের ধাপে বলেন, আরএসএস স্কুল চালাচ্ছে এমন খবর দিলে তিনি বন্ধ করে দেবেন। এ ব্যাপারে বাম আমলের দিকে বল ঠেলে দিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলেই এই ধরনের বিদ্যালয় বেশি অনুমোদন পেয়েছে। তাঁদের আমলে কম হয়েছে। তবে এ ধরনের সিংহভাগ বিদ্যালয়ই হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পেয়ে রাজ্যের কাছে আবেদন করে। পড়াশুনায় ধর্মকে ব্যবহার করা নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সিলেবাসের বাইরে গিয়ে অন্য পাঠ্যক্রম পড়ানো কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা চলছে। কোনওরকম ধর্মান্ধতা বিদ্যালয়ে বরদাস্ত করা হবে না।

পরে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, আরএসএস-এর একটি শাখা যাবতীয় অনুমোদন নিয়ে এই বিদ্যালয়গুলি চালাচ্ছে। এই বিদ্যালয়গুলির বদলে রাজ্যের উচিত মাদ্রাসাগুলিতে নজর দেওয়া। কারণ সেখানে তো মহাপুরুষদের জীবনীও পড়ানো হয় না।

উত্তর দিনাজপুর জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরিকাঠামোর অভাব এবং প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অনুমোদন ছাড়াই চলছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ কর্তৃক পরিচালিত স্কুলগুলি। অবিলম্বে সেগুলি বন্ধ হওয়া উচিত। সেই নির্দেশ মতো বন্ধ হয়ে যায় ওই জেলায় সংঘ পরিচালিত ১০টি স্কুল।

সংঘের সংস্থা উত্তরবঙ্গ সারদা ট্রাস্টের অধীনে উত্তর দিনাজপুর জেলায় মোট ১০টি স্কুল চলে। যার মধ্যে রয়েছে ‘সারদা শিশুতীর্থ’ স্কুল। চলতি বছরের মার্চ মাসের চার তারিখে ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর স্কুল বন্ধের বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর সেই দশটি স্কুল একত্রিত হয়ে মামলা করে কলকাতা হাইকোর্টে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিগত ১০ বছর ধরে স্কুলগুলি চলছে।

১২ মে ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টরের জারি করা বিজ্ঞপ্তির উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের মামলা করে রাজ্য সরকার। বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চে ওঠে সেই মামলা। আদালতে কেন্দ্রের আইনজীবী অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল কৌশিক চন্দ্র বলেন, “শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, তাই এটা কেউ খর্ব করতে পারে না।” উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায় দান স্থগিত রাখেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন যে যতদিন না পর্যন্ত রায়দান হচ্ছে ততদিন স্কুল বন্ধ করতে পারবে না রাজ্য।

প্যাকেট ভরা গরুর মাংস পাচার হচ্ছে বাংলাদেশে

বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার রুখতে পুলিশ এবং বিএসএফ যতই সক্রিয় হচ্ছে, ততই নিত্য-নতুন কৌশল নিচ্ছে পাচারকারীরা৷ এত দিন মূলত রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার হত৷ সীমান্তে কড়া নজরদারির ফলে সেটা আর সব সময় সম্ভব হচ্ছে না৷ তাই পুরোনো পন্থা বদলে প্যাকেটে ভরে পাচার হচ্ছে জবাই করা গোমাংস৷ তার জন্য রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় গজিয়ে উঠেছে অনেক কোল্ড স্টোরেজ এবং প্রসেসিং ইউনিট৷ সেখানেই গরুর মাংস কেটে প্যাকেটে ঢোকানো হচ্ছে৷ তারপর কাঠ কিংবা ঘুঁটের বস্তায় ভরে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে৷ কোথাও আবার মাছের হাঁড়ি অথবা ফলের ঝুড়িতে সীমান্ত টপকে যাচ্ছে প্যাকেটজাত গোমাংস৷ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পেশ করা রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে৷ তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশকেও সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷ রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গরু পাচারের ঘটনা নতুন নয়৷ বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং সুন্দরবনের উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে রোজই বাংলাদেশে পাচার হয় হাজার হাজার গরু৷ সেই গরু পাচারকারীদের বিরুদ্ধেই খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক’দিন আগে শোরগোল ফেলেছেন রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন৷ গরু পাচার নিয়ে রাজ্যের মানুষ কমবেশি অবহিত হলেও গোমাংস পাচারের ঘটনা একেবারেই নতুন৷ আর সেটাই নতুন করে ভাবাচ্ছে বিএসএফ এবং পুলিশকর্তাদের৷ বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি গরু পাচার রুখতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার৷ তার জন্য সীমান্তে বিএসএফের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে৷ কয়েক দিন আগে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গে কলকাতায় বৈঠকও করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ সম্প্রতিকালে একাধিক সরকারি সভায় গরু পাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও৷ তাতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন৷ শুরু হয়েছে ব্যাপক ধড়পাকড়৷ ফলে আগের মতো খুল্লামখুল্লা গরু পাচার সম্ভব হচ্ছে না৷ সম্ভবত সেই কারণেই কাটা মাংস পাচারের ঘটনা রাতারাতি বেড়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশ এবং বিএসএফ -এর শীর্ষকর্তারা৷

জানা গিয়েছে , উত্তর ২৪ পরগনার বামনগাছি এলাকার একটি কোল্ড স্টোরেজ কাম মাংস প্রসেসিং ইউনিট থেকে রোজই প্যাকেটবন্দি মাংস বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে৷ কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্যাকেটে ভরে প্রথমে আনা হচ্ছে বনগাঁ সীমান্তে৷ তার পর বস্তা এবং মালপত্রের ব্যাগে ভরে পাচার হচ্ছে৷ বনগাঁর আশপাশে গ্রামের দিকে অনেক অনুমোদনহীন কসাইখানাও তৈরি হয়েছে৷ সেখান থেকেও গরুর মাংস পৌঁছে যাচ্ছে পাচারকারীদের হাতে৷ সম্প্রতি বনগাঁ সীমান্তে ঘুঁটে এবং কাঠের বস্তা থেকে বহু বার প্যাকেটে ভরা মাংস আটক করেছেন বিএসএফ জওয়ানরা৷ এই কাজে যুক্ত এলাকার বহু মহিলাও৷ বিএসএফ-এর এক শীর্ষকর্তা জানান, গত কয়েক মাসে গরুর মাংস পাচারের ঘটনা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে৷ বিএসএফ জওয়ানদের পক্ষে গরু পাচারকারীদের পাকড়াও করা তেমন একটা কঠিন কাজ নয়৷ কিন্ত গরুর মাংস ধরা সমস্যা৷ হিন্দু বিএসএফ জওয়ানরা গরুর মাংস আছে শুনলে বস্তায় হাতই দিতে চান না৷ যাঁদের গরুর মাংস সমেত ধরা হচ্ছে, তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন, নিজেদের জন্য তাঁরা মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন৷ ফলে তাঁদের ধরাও মুশকিল হচ্ছে৷ এই বেআইনি কারবার রুখতে রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় কোল্ড স্টোরেজ এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানার উপর নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন বিএসএফ কর্তারা৷

পুলিশ সূত্রের খবর, গরুর মাংস পাচারের অভিযোগে বামনগাছি এলাকার এক কোল্ড স্টোরেজের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল৷ কিন্ত পুলিশের কাছে তারা দাবি করে, সেখান থেকে মূলত কলকাতা এবং তার আশপাশের এলাকায় মাংস সরবরাহ করা হয়৷ মাঝ পথেই সেই তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়৷ ফলে গরু পাচার কমলেও গোমাংস পাচার বেড়েই চলেছে৷ জেলা বা রাজ্য পুলিশের কোনও কর্তাই অবশ্য মুখ খুলতে চাননি৷

হিন্দু বিরোধী জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারি করতে অস্বীকার করলো ইন্টারপোল

hindu birodhi jakir nayek-er biruddheবিতর্কিত হিন্দু বিরোধী ইসলামিক ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েককে দেশে ফেরানোর পথে বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র। কারণ, জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারির দাবি খারিজ করে দিল ইন্টারপোল। ইন্টারপোলের বক্তব্য, বিতর্কিত ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে যে তথ্যপ্রমাণ ভারত দিয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। ভারতের দেওয়া তথ্য ‘অপরিণত’। ইন্টারপোলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাকির নায়েক। তিনি বলেছেন, আমি শান্তি পেয়েছি। তবে, আরও বেশি শান্তি পাব যদি আমার ভারত সরকার এবং ভারতের পুলিশ আমাকে সঠিক বিচার দিতে পারে। সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলে তবেই আমি পূর্ণ শান্তি পাব। কেন বাতিল হল কেন্দ্রের দাবি? এ ব্যাপারে ইন্টারপোল জানিয়েছে, ভারতের দাবি অনেক দিক থেকে অপরিণত। সঠিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করা হয়। কিন্তু ভারত সরকার শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতেই এই দাবি জানিয়েছে। এখনও জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়নি। পুলিশ এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে অভিযোগ দায়ের করেনি। কেন্দ্রীয় গোয়ন্দা সংস্থা জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বাধা আসলেও এখনই হার হয়নি। গত বছর বাংলাদেশে জঙ্গি সন্ত্রাসের সঙ্গে নাম জড়ানোর পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান জাকির নায়েক। তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে। পাঁচ বছরের জন্য জাকিরের সংস্থা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কাশ্মীরকে স্বাধীন করে একাত্তরের হারের বদলা নেবো, মন্তব্য হাফিজ সইদ-এর

kashmirke swadhin kore ekattorer harereকাশ্মীরকে স্বাধীন করে ১৯৭১-এ পাকিস্তানের হারের বদলা নেওয়া হবে। ফের হুঙ্কার দিল জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান ও মুম্বই হামলার মাথা হাফিজ সইদ। লাহোরে এক সভায় হাফিজ সইদের হুমকি, ‘‘পাকিস্তান ১৯৭১ সালের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছিল। সেই পরজয়ের বদলা নেওয়া হবে কাশ্মীরকে স্বাধীন করে।’’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই থামাতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে আক্রমণ করে পাক সেনা। সে সময় পাকিস্তানের কয়েক হাজার সেনাকে আটকে দেয় ভারত। অসহায় পাক সেনারা ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ফলস্বরূপ স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই রাগ এখনও পুষে রেখেছে পাকিস্তান। সেই কথাই বেরিয়ে এল সইদের মুখ থেকে। জঙ্গি মদতের অভি‌যোগে বেশ কিছুদিন সইদকে গৃহবন্দি করে রাখে পাকিস্তান। তবে শেষপ‌র্যন্ত আদালতের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বন্দিদশা থেকে ছাড়া পেয়েই সইদ ঘোষণা করে, কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে জামাত-উদ-দাওয়া। শনিবার নওয়াজ শরিফ ও তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের উদ্দেশ্যে সইদের বার্তা, তোমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে, পাকিস্তানকে রক্ষা করবে। কিন্তু তোমরা দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছ। তোমরা নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলে। দেশের মানুষের সঙ্গে তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছ।

জাল আধার, ভোটার কার্ড দিয়েই বানানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট

জাল আধার কার্ড থেকে ভোটার কার্ড – সবই তৈরি করে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের কুখ্যাত অপরাধী ও জঙ্গিদের হাতে। তারপর সেই জাল আধার ও ভোটার কার্ড দেখিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আসল ভারতীয় পাসপোর্ট। এর জন্য স্থানীয় ঠিকানা ‘ভাড়া’ দিচ্ছে দালালরা। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চার বাংলাদেশি নাগরিককে জেরা করে গোয়েন্দারা এমন তথ্যই হাতে পেয়েছেন। এক একটি পাসপোর্ট তৈরির জন্য কাগজপত্র তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে এমন অন্তত ৭০ জন দালালের খোঁজ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কুখ্যাত অপরাধী ও জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। গোয়েন্দারা তাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলার গোয়েন্দা দপ্তর ও পুলিশের কর্তাদের হাতে সেই তথ্য চলে এসেছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই কয়েকটি জায়গায় পুলিশ তল্লাশিও শুরু করেছে।

দমদম বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চার বাংলাদেশি নাগরিককে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, মধ্যমগ্রামের বাদু, বিরাটি ও নিউটাউনের তিন দালালের কাছ থেকে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছিল। তাদের নামও হাত পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, জনপ্রতিনিধিদের যে সার্টিফিকেট রেসিডেন্সিয়াল প্রমাণ হিসাবে জমা দেওয়া হচ্ছে, তাও আদতে জাল। মূলত সার্টিফিকেটের প্যাড ছাপিয়ে জাল সিল মেরে তা দেওয়া হচ্ছে। তারপর কয়েকটি নির্দিষ্ট সাইবার কাফে থেকে আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির ঠিকানা হিসেবে যা দেওয়া হচ্ছে, তাও আদতে ভুয়ো। ওই দালালের পরিচিত কারও বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় ওই ঠিকানাই প্রমাণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী এই চক্রের বিষয়টি জানলেও তাঁরা চুপ করে থাকেন। ফলে তাঁদের পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনেও কোনও সমস্যা হচ্ছে না। মুর্শিদাবাদে মাস দুয়েক আগে এই রকম চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

স্ত্রীকে রহমানির বই পড়ার উপদেশ দিতো বাংলাদেশী জঙ্গি আকায়েদুল্লা

strike rohomanir boi porar upodeshআমেরিকার ম্যানহাটনে বোমা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত বাংলাদেশী জঙ্গি আকায়েদুল্লা তার স্ত্রীকে সবসময় রহমানির বই পড়তে বলতো। বাংলাদেশী পুলিশ তার স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদৌসকে জেরা করে তথ্য জানতে পেরেছেন। কে এই রহমানী? এর পুরো নাম হলো জসিমুদ্দিন রহমানী। এর অনুপ্রেনা ও নেতৃত্বে তৈরি হয় বাংলাদেশী জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিম। এই জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার আদর্শে পরিচালিত হয়। এই সংগঠন বাংলাদেশের একের পর এক ব্লগার খুনে জড়িত। তবে আকায়েদুল্লার স্ত্রীর বাড়িতে রহমানির কোনোরকম বইপত্র পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী বাংলাদেশী পুলিশের কাছে দাবি করেন যে বাংলদেশে থাকার সময় তার স্বামীর সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগ ছিল না। তবে সে খুব ধার্মিক ছিল, ইসলাম ধর্মের নিয়মগুলো খুব কঠোরভাবে মেনে চলতো বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

কাটোয়ায় প্রায় ২৪ কেজি গাঁজা সহ গ্রেপ্তার ৩

গত ১৩ই ডিসেম্বর, বুধবার রাতে কাটোয়ার ফুলবাগান মোড় থেকে প্রায় ২৪ কেজি গাঁজা সহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম জটাই শেখ, জানবাজ শেখ ও শান্তিগোপাল সাহা। তাদের বাড়ি নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ এলাকায়। বৃহস্পতিবার ওই তিনজনকে পুলিশ বর্ধমানে মাদক সংক্রান্ত বিশেষ আদালতে তুললে বিচারক ১৪দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই রাতে কাটোয়ার ফুলবাগান মোড় থেকে ২৩ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা সহ ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার মধ্যে গাঁজা পাচারের কাজে যুক্ত ছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে।