জলপাইগুড়িতে রাজবাড়ির মন্দিরের মূর্তিসহ একাধিক মূর্তি ভাঙলো দুষ্কৃতীরা

এই পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মস্থান সুরক্ষিত নয়। তার প্রমাণস্বরূপ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক মন্দিরে দুষ্কৃতীদের আক্রমণ ঘটে চলেছে। সেই তালিকায় নতুন নাম যোগ হলো জলপাইগুড়ি শহর। গত ১৭ই মে রাতে জলপাইগুড়ি রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী মনসা মন্দিরের মূর্তিসহ শহরের একাধিক মন্দিরের মূর্তিতে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। পরেরদিন সকালে বিষয়টি শহরের বাসিন্দাদের নজরে আসে। তখনই শহর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শহরের একাধিক বাসিন্দা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে, জলপাইগুড়ির রাজবাড়ীর মনসা মন্দির খুবই ঐতিহ্যবাহী একটি মন্দির এবং মন্দিরটির সঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলার মানুষের আবেগ জড়িত রয়েছে। কিন্তু ওই মন্দিরটির মূর্তি ভেঙে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। এছাড়াও শহরের জেলা সদর হাসপাতালের ভিতরে থাকা কালী মন্দিরের মূর্তিও ভেঙে দুষ্কৃতীরা। ভাঙা হয় তিস্তা বুড়ির মন্দিরের মূর্তিও।  এছাড়াও রাজবাড়ীর পার্কে থাকা একাধিক মূর্তিও ভেঙে ফেলে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। মন্দির ভাঙার খবর পেয়ে শহরের প্রচুর মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জলপাইগুড়ি থানার পুলিসও। তথ্য প্রমান সংগ্রহ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শহরের বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন যে শুধুমাত্র মন্দিরের মূর্তিগুলি কেন ভাঙলো দুষ্কৃতীরা। এ নিয়ে তাদের অভিযোগের তীর শহরে গজিয়ে ওঠা বিশেষ সম্প্রদায়ের বস্তিগুলির ওপর এবং এই ঘটনায় শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

আবির খেলাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের লাভপুরে মন্দির ভাঙচুর, হিন্দুদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপালো মুসলিমরা

হরিনাম সংকীর্তনের নগর পরিক্রমায় আবির ছোঁড়া নিয়ে হিন্দুরা মুসলিমদের আক্রমণের শিকার হলো। ভাঙার চেষ্টা করা হলো মন্দির। মুসলিম দুষ্কৃতীদের আক্রমণে তিনজন হিন্দু মহিলা সহ মোট সাতজন জখম হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় বোলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। গত ১৬ই মে ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার লাভপুর থানার অন্তর্গত ছোটগোগা গ্রামে। জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই ওই গ্রামে কীর্তন অনুষ্ঠান চলছিল। গত ১৬ই মে শেষ দিনে ধুলোট অনুষ্ঠান অর্থাৎ নগর পরিক্রমা  চলছিল। সেই অনুষ্ঠানে হিন্দুরা আবির খেলছিলেন নিজেদের মধ্যে। সেই আবির খেলার সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়া এক মুসলমান মোটরবাইক আরোহীর গায়ে লাগে। তখন একটু খানি বচসা হয়। সেদিন বিষয়টি মিতে গেলেও পরেরদিন অর্থাৎ ১৭ই মে, শুক্রবার রাত্রে পশ্চিমপাড়ার একদল মুসলিম দুষ্কৃতী বাঁশ, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র নিয়ে হিন্দু পাড়ায় আক্রমণ চালায়। বিজলি দত্ত নামে এক হিন্দু গৃহবধূকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে ওই মুসলমান দুষ্কৃতীরা। মুসলিম দুষ্কৃতীদের মারে ওই মহিলা গুরুতর আহত হয়, তাঁর কোমর ভেঙে যায়। নিতাই দাস নামে আর এক হিন্দু গ্রামবাসীর হাত ভেঙে যায়। এছাড়াও, বেশ কয়েকজন হিন্দুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। এছাড়াও, গ্রামের যে মন্দিরে হরিনাম সংকীর্তন চলছিল, সেই মন্দিরটিতে আক্রমণ করে ভাঙতে থাকে মুসলিমরা। এলাকা বাসীরা প্রতিবাদ করলে কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।  এরপর ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে গ্রামবাসীরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুত্বই অবস্থা যাদের ছিল, তাদের বোলপুরে রেফার করা হয়। বাকিদের লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

হাসনাবাদের হাটখোলা বাজারে হামলা TMC আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীদের; ভেঙে দেওয়া হলো শনি ঠাকুরের মূর্তি

গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা বিজেপি করে, এই অজুহাতে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা চালালো টিএমসি-এর ঝান্ডাধারী মুসলিম দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত হাসনাবাদ থানার হাটখোলা বাজারে। স্থানীয় এক হিন্দু বাসিন্দা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে গত ১৯শে মে রাত দশটা নাগাদ  একদল মুসলিম দুষ্কৃতী হাটখোলা বাজার এলাকায় এসে বেছে বেছে একের পর হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায়। মুসলিম দুষ্কৃতীরা কয়েকটি আসবেস্টস-এর ছাউনি ভেঙে দেয়। এছাড়াও একটি ক্লাবে ভাঙচুর চালায়। এরপর ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা বাজারের পাশে থাকা একটি শনি মন্দিরে ভাঙচুর চালায়। মন্দিরে থাকা শনি ঠাকুরের মূর্তি টেনে বাইরে ফেলে দেয় এবং মন্দিরে থাকা পূজার উপাচার সামগ্রী তছনছ করা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এলাকার হিন্দু বাসিন্দারা এই ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তাঁরা তাদের সেই ক্ষোভ হিন্দু সংহতির প্রতিনিধির কাছে প্রকাশ করেছেন। তবে এই ঘটনায় এলাকার কিছু হিন্দু বাসিন্দারা এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ডানকুনিতে খুন হলেন গৃহবধূ পিঙ্কি বারি, গ্রেপ্তার প্রেমিক শেখ সেলিম

চিকিৎসককে দেখাতে যাওয়ার কথা বলে নিজের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন লিলুয়ার বাসিন্দা গৃহবধূ পিঙ্কি বারি। তার পরে আর বাড়ি ফেরেননি। সেইদিন রাতেই ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার হয় ডানকুনির হাউসিং মোড়ের কাছের একটি হোটেলে। গত ৯ই মে  এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস গত ১১ই মে পিঙ্কির ‘প্রেমিক’ শেখ সেলিম নামে এক মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় দিনমজুর সেলিম বিবাহিত এবং তাঁর একটি মেয়ে রয়েছে। চন্দননগর পুলিস কমিশনারেটের এক কর্তা জানিয়েছেন, ধৃত সেলিম জেরায় জানিয়েছে, পিঙ্কির সঙ্গে দু বছর আগে তাঁর আলাপ হয়। সেই থেকে দুজনের সম্পর্কের শুরু হয়। এদিকে পিঙ্কি বিবাহিত এবং তাঁর দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সেলিম আরও জানিয়েছে, সে এবং পিঙ্কি প্রায়ই বিভিন্ন হোটেলে সময় কাটাতো। কিন্তু ইদানিং পিঙ্কি তাকে অতটা গুরুত্ব দিচ্ছিলো  অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল। তাই সে পিঙ্কিকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। অভিযুক্তের দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিস। আপাতত ধৃত সেলিম পুলিস হেফাজতে রয়েছে।

ঝান্ডার আড়ালে মার খাওয়াই কি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর ভবিষ্যৎ?

সময় বদলেছে, শাসক বদলেছে। কিন্তু হতভাগ্য হিন্দুর সুদিন ফেরেনি। বাম জমানায় লাল ঝান্ডার আড়ালে জিহাদি মুসলিমরা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। সেই দীর্ঘ অত্যাচার রাজনীতির সংঘর্ষের পরিচয়ে হিন্দুর সামনে তুলে ধরেছে মিডিয়া। ফলে এ রাজ্যের আপামর হিন্দু বুঝতেই পারেনি যে রাজ্যের অন্য প্রান্তে হিন্দুর ওপর জিহাদের স্টিম রোলার চালানো হয়েছে।
বর্তমানে শাসকদল পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু হিন্দুর ওপর অত্যাচার বিন্দুমাত্র কমেনি। টার্গেট সেই একই- হিন্দু; মার খেয়ে, ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালানো হিন্দু। তাই এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। এবার টিএমসির ঝান্ডা নিয়ে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের হিন্দুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো সশস্ত্র জিহাদি মুসলিমরা। পুড়ে গেল ঘর-বাড়ি, ধানের গোলা, হিন্দুর দোকানঘর।
ঠিক আগের মতোই কোনো মিডিয়া দেখতে পেল না সেই ঘটনা। সেই আগের মতোই এই ঘটনাকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বলে চালানোর চেষ্টা করছে একদল লোক। এর মধ্যেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন কিছু হিন্দু। তাঁরা জানেন না, তারা ভোট দিতে গ্রামে ফিরে আসতে পারবেন কিনা। তবুও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গভীর নেশায় বুঁদ।
কিন্তু আজ পশ্চিমবঙ্গের তামাম হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে প্রশ্ন- এর শেষ কোথায়?
একবারও কি আপনারা ভেবে দেখবেন না ঝান্ডার আড়ালে টার্গেট আপনি, আপনার মন্দির, আপনার সম্পত্তি?

শুধুই কি মার খাবেন? নাকি পাল্টা মার দেবেন?

ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যু বাঙালি হিন্দুর; ‘বাংলাদেশে দেহ পাঠাও’, বললো পরিবার

আসামের  তেজপুরের বাসিন্দা বাসুদেব বিশ্বাস। তাঁর পরিচয় সে একজন বাঙালি হিন্দু। ৫৮ বছর বয়সী বাসুদেব বিশ্বাসের পরিবারের সকলে ভারতীয় হলেও, সরকারের চোখে তিনি ছিলেন বাংলাদেশী। তাই তাকে গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। গত ১২ই মে, শনিবার সেই ডিটেনশন ক্যাম্পেই মৃত্যু হয় বাসুদেব বিশ্বাসের। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর দেহ নিতে অস্বীকার করলো পরিবার। কিন্তু কারণ কি? পরিবারের বক্তব্য, আসলে ভারতীয় হলেও তাকে বাংলাদেশী চিহ্নিত করেই ছেড়েছে প্রশাসন। তাকে জীবিত অবস্থায় যখন ফেরানো গেল না, তখন তাঁর মৃতদেহ নিয়ে কি হবে? পরিবারের আরও দাবি, ডিটেনশন ক্যাম্পে অবহেলা  ও অত্যাচারেই বাসুদেববাবুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সরকারের তরফে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ বলা হচ্ছে। বাসুদেববাবুর পুত্ররা দেহ নিতে অস্বীকার কারণ হিসেবে বলেছেন যে, বাবা যেহেতু বাংলাদেশী ছিল, তাই তাঁর মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠাক সরকার। আর এসবের ফাঁপরে পড়ে হতভাগ্য বাঙালি হিন্দু বাসুদেব বিশ্বাসের মৃতদেহ মর্গেই পড়ে আছে।

সমুদ্রগড়ে হিন্দু সংহতির বস্ত্র বিতরণ

হিন্দু সংহতি সমুদ্রগড় শাখা আয়োজিত মা কালী পূজার দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ গতকাল ১২ই মে, রবিবার  এলাকার দরিদ্র মহিলাদের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হলো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে অনুষ্ঠিত বসে আঁকো প্রতিযোগিতার পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তারপরেই বস্ত্র বিতরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়।  এই অনুষ্ঠানে সমুদ্রগড় এলাকার শতাধিক মহিলার হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রী শিবু রাজবংশী, শ্রী প্রশান্ত শিকদার এবং সুমন দাস।

রমজান মাসে রেশনে বিশেষ বরাদ্দ সরকারের

এর আগে সংখ্যালঘুদের নাম করে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি, মাদ্রাসায় ঢালাও বরাদ্দ, বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্যে ঋণ, ইমাম ভাতা তো ছিলই। এবার রেশনেও শুরু হলো মুসলিম তোষণ। কারণ রমজানের রোজা চলাকালীন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্যে রেশনে বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করলো রাজ্য সরকার। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, রমজান মাসের জন্যে রেশনে চিনি,ময়দা,তেল, ছোলার বিশেষ বরাদ্দ হয়েছে। আগামী ৪ঠা জুনের মধ্যে দুই দফায় রোজা পালনকারী গ্রাহকদের এই বিশেষ বরাদ্দ সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গিয়েছে,জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা অন্ত্যোদয় এবং স্পেশাল প্রায়োরিটি রেশন গ্রাহকরা এটা পাবেন। এছাড়াও, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ছোলা ও ময়দার প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র রমজানের মাসে ১৯টাকা কেজি দরে ময়দা ও ৪৭টাকা কেজি দরে ছোলা পাবেন। প্রথম দফায় পরিবার পিছু ৫০০গ্রাম করে দুটি সামগ্রী দেওয়া হবে। এছাড়াও পরিবার প্রতি ১ লিটার করে তেল বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে রেশন ডিলারদের সংগঠন আপত্তি তুলেছে। তাঁরা সব শ্রেণীর গ্রাহকদের এই বিশেষ বরাদ্দ  তুলেছেন। তারা সরকারকে চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে সব শ্রেণীর গ্রাহকরা এই বিশেষ বরাদ্দ পান। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে অনেকে মনে করছেন যে, স্পেশাল প্রায়োরিটির আড়ালে মুসলিম সম্প্রদায়ের রেশন গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।

সমূদ্রগড়ে হিন্দু সংহতি আয়োজিত মা কালীর পূজায় জনসমুদ্র

গত ১১ই মে, হিন্দু সংহতির সমূদ্রগড় শাখার আয়োজিত মা কালীর পূজা মহা ধুমধামের সঙ্গে পালিত হলো। পূজার সঙ্গে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জেলে বন্দী তিন হিন্দু সংহতি কর্মী শ্রী সঞ্জিত শর্মা, শ্রী প্রতাপ সরকার এবং শ্রী সঞ্জয় সূত্রধর-এর মুক্তির দাবি তোলা হয় । আজ ছিল পূজার প্রথম দিন। প্রথম দিনে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। যজ্ঞনুষ্ঠানে আশেপাশের প্রচুর মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় পূজাস্থলে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে এবং পূজা প্রাঙ্গণ মেলার আকার ধারণ করে। সেই সঙ্গে আপামর জনগণকে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস এবং সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি উপস্থিত ছিলেন।

বীরভূমে জিহাদি মুসলমানের তান্ডব, হিন্দুদের লক্ষ্য করে বোমাবাজি; হিন্দুর দোকান ভাঙচুর ও লুঠপাট

আবার জিহাদি মুসলমানদের হাতে আক্রান্ত হলো বীরভূমের সিউড়ির হিন্দুরা। জিহাদি মুসলমানরা নির্বিচারে হিন্দুদের বাড়িঘর, দোকানে ভাঙচুর ও লুঠপাট চালালো। সেইসঙ্গে চললো দেদার বোমাবাজি। জিহাদি মুসলমানদের তান্ডবের সামনে রীতিমতো অসহায় দেখালো পুলিসকে। গত ৯ই মে, বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বীরভূমের সিউড়ি থানার অন্তর্গত পুরন্দরপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে পুরন্দরপুর থেকে বোলপুর যাওয়ার রাস্তায় একটি লরির সাথে একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে এবং মোটরসাইকেল-আরোহী দুজন মারা যায়। তারপর থেকেই এলাকাবাসীরা সতর্কতামূলক কিছু পদক্ষেপ নেয়। এছাড়াও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায় ওই রাস্তায় প্রায়দুর্ঘটনা হয়, তাই প্রশাসন থেকে সকাল ৬টা থেকে রাত্রি ৮ টা পর্যন্ত ছয় চাকার থেকে শুরু করে কোনো বড়ো গাড়ী ওই রাস্তায় প্রবেশ করবেনা, এই রকম নিয়ম জারি করে। সেই মতো নো এন্ট্রি বোর্ড লাগানো হয়।  সকাল ৬টা থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত বড়ো  গাড়ী চলাচল বন্ধ হওয়ায় পুরন্দরপুর এর আশেপাশে মুসলমানদের ছিল বিশাল আপত্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, এলাকার মধ্য দিয়ে বড়ো বড়ো গাড়ি করে বালি, পাথর ইত্যাদি অন্য জায়গায় যেত। আর ঐসব গাড়ি থেকে মুসলমানরা তোলা আদায় করতো। কিন্তু বড় গাড়ি চলাচল এলাকার হিন্দু ছেলেরা বন্ধ করে দেওয়ায় মুসলিম তোলাবাজদের আয়ের উৎসে টান পড়েছিল। তাই মুসলমানরা ক্ষুব্ধ ছিল পুরন্দরপুরের হিন্দু বাসিন্দাদের ওপর।

সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে বৃহস্পতিবারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ঐদিন অর্থাৎ ৯ই মে,  বৃহস্পতি বার সকাল বেলা থেকে পুরন্দরপুর এলাকাবাসী পুরন্দরপুর থেকে বোলপুর যাওয়ার রাস্তায় বেশ কিছু বাম্পার তৈরি করে। এছাড়াও সেই এলাকার কিছু ছেলে যারা জোরে গাড়ী চালিয়ে যাচ্ছিল এবং ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালিয়ে যারা ওই রাস্তাদিয়ে  যাচ্ছিল তাদের দাঁড় করিয়ে সাবধান করছিল এবং কিছুজনকে কান ধরে উঠবস করায়।  আর এই কান ধরে উঠবস করার ঘটনাটি ভাইরাল হয়।বিকালে ওই রাস্তায় নো এন্ট্রি নিয়ে ওই এলাকায় প্রশাসনিক একটি বৈঠক হয় এবং কোন ধরে উঠবস করানোর ঘটনাটি সামনে এলে ওই ছেলেদের বারণ করা হয়।
কিন্তু এই ঘটনাকে উপলক্ষ করে এলাকার মুসলিমরা রাতে হিন্দুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওই দিন রাত্রি ৮ টার দিকে হঠাৎই কয়েকশো জিহাদি মুসলমান পুরন্দরপুর বাজারে এসে হিন্দুদের লক্ষ্য করে বোমা ছুড়তে শুরু করে। বোমাবাজিতে মুহূর্তের মধ্যে হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে বাজারের মধ্যে আসা মানুষজন ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। তারপর মুসলিমরা বাজারের একের পর এক হিন্দু দোকানে ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৩৫টির বেশি দোকানে ভাঙচুর চালায় মুসলমানরা। স্থানীয় কিছু হিন্দু যুবক প্রতিরোধ করতে রাস্তায় নামে। তাতে মুসলিমদের সঙ্গে অল্প সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে পুলিসবাহিনী RAF নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। বর্তমানে এলাকায় RAF মোতায়েন থাকলেও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হিন্দু সংহতির প্রতিনিধি এলাকা পরিদর্শনে যায় এবং এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং আক্রান্ত হিন্দু বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। সেইসঙ্গে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে এলাকার হিন্দু বাসিন্দাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রাস্তা আটকে নামাজ পড়ার প্রতিবাদ করায় হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, উত্তপ্ত আসামের হাইলাকান্দি; কারফিউ জারি

আসামের হাইলাকান্দি শহরের কেন্দ্রস্থলে রাস্তা আটকে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে নির্বিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করলো মুসলিমরা। গতকাল ১০ই মে, শুক্রবার  দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সামাল দিতে বিশাল পুলিসবাহিনী ও RAF মোতায়েন করতে হয়। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই হাইলাকান্দির মুসলমানরা ফেসবুকে শহরের সম্পূর্ণ হিন্দু এলাকা মারোয়াড়ি পট্টিতে রাস্তা আটকে জুম্মার নামাজ পড়ার জন্য মুসলমানদেরকে আহ্বান জানিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলো। সেই মতো আজ দুপুরে রাস্তা আটকে নামাজ পড়তে শুরু করে মুসলমানরা। হিন্দু পথচারী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করলে মুসলমানরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একের পর এক হিন্দুদের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। কিছু হিন্দু প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও, উন্মত্ত মুসলিম জনতার সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা। একাধিক গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় মুসলিম জনতা। খবর পেয়ে পুলিসবাহিনী এলেও মুসলিম যুবকরা পুলিসকে লক্ষ্য করে কাশ্মীরি স্টাইলে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে RAF ডাকতে হয়। তারপরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভারতীয় সেনার গুলিতে পাকিস্তানের নাগরিকের মৃত্যু, ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানালো পাকিস্তান

একটা সময় ছিল যখন সীমান্তে পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে ভারতের দিকে গোলাগুলি বর্ষণ করতো। তখন ভারত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠাতো, প্রতিবাদ জানাতো । কিন্তু কাজের কিছুই হতো না। সীমান্ত সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিকে বিশেষ পাত্তাই দিতো না পাকিস্তান। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার। ফলে এখন উল্টোটা হচ্ছে। এবার নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি ভাঙার অভিযোগে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার গৌরব আলুওয়ালিয়া তলব করে প্রতিবাদ জানাল পাকিস্তান সরকার। বুধবার পাক বিদেশ দপ্তর দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর জেনারেল মহম্মদ ফয়জল বলেন, ‘গত ২ মে এবং ৫ মে নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় সেনার গোলাবর্ষণে তিন অসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন দু’জন। আমরা ভারতীয় কূটনীতিককে জানিয়েছি, সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের এই ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে বিপজ্জনক। এর ফলে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা বাড়বে।’ পাক বিদেশ দপ্তরের তরফে এদিন একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২ মে রাখচিকরি সেক্টরে ভারতীয় সেনার গোলাবর্ষণে ১৫ বছরের তাহির হাফিজের মৃত্যু হয়। তার ৯ বছরের বোন তাহিরা গুরুতর জখম হয়। এর পরে ৫ মে ১২ বছরের মহম্মদ জাহিদ এবং নাসরিন নামে এক স্থানীয় মহিলা ভারতীয় বাহিনীর গোলায় নিহত হন। জখম হন সনিয়া বিবি নামে এক গ্রামবাসী।

লাহোরের দাতা দরবারে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ চালালো তালিবান , মৃত ১০

লাহোরের দাতা দরবার সুফি সৌধের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১০ জনের, আহত কমপক্ষে ২৪। নিহতদের মধ্যে তিন জন পুলিশ আধিকারিক, দু’জন নিরাপত্তারক্ষী এবং পাঁচ জন সাধারণ নাগরিক, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। গতকাল ৮ই মে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ন’টা নাগাদ সৌধের মহিলা প্রবেশদ্বারের বাইরে বিস্ফোরণটি ঘটে। ২০১০ সালে সন্ত্রাসহানার পর থেকে এই সৌধে কড়া নিরাপত্তা থাকে। রমজান মাসে সেই নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও হামলা এড়ানো গেল না। বিস্ফোরণের পর পুলিশের দোমড়ানো-মোচড়ানো গাড়ির ছবি সামনে এসেছে, তাতে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পুলিশকে লক্ষ করেই হামলা চালানো হয়েছিল। পাকিস্তানি তালিবানের শাখা সংগঠন হিজবুল আহরার হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে সৌধে মহিলাদের প্রবেশের অধিকার দেওয়ার কারণেও এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ তালিবান বরাবরই নারী স্বাধীনতার বিরোধী। এর আগে তালিবানের জিহাদিরা মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতায় স্কুল জ্বালানো, বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো কাজ করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দাতা দরবার দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সুফি সৌধ। দাতা গঞ্জ বক্সির এই সমাধিসৌধে প্রতিবছর হাজার হাজার শিয়া ও সুন্নি মুসলিম ভিড় জমান। ২০১০ সালে একবার আত্মঘাতী হামলার শিকার হয়েছিল এই সুফি সৌধ। প্রাণ গিয়েছিল ৫০ জনের, আহত হয়েছিলেন ২০০-রও বেশি মানুষ।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস


Calcutta killing২০ শে জুন – পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এই তথ্যটি হয়তো পাঠককে হতচকিত করে দিতে পারে কারণ ইতিপূর্বে তিনি এটি শোনেন নি বা এজাতীয় কোন তথ্য তাঁর কাছে নেই। কিন্তু এটিও ঠিক পাঠক অবহিত নন বলেই যে এরকম কোন দিবসের অস্তিত্ব বা যৌক্তিকতা নেই তাও কিন্তু নয়। এই সসাগরা পৃথিবীতে অনেক কিছুই ঘটে, তা প্রতি বছর স্মরণ ও করা হয়, যা আমরা জানিনা। পশ্চিমবঙ্গ দিবসটি কতকটা সেরকমই – এই দিনটিতে ১৯৪৭ সালে বর্তমান ভারতে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ নামক রাজ্যটির জন্ম হয়েছিল, এক তীব্র মরণপণ সংগ্রাম ও রক্তস্নানের মাধ্যমে। এবং এটি দৃঢ়তার সাথেই বলা যায় যদি এই ভূখণ্ডটি সৃষ্টি না হতো, পূর্বতন অখণ্ড বঙ্গের অন্তত একটি অংশেও pluralism বলে কিছু অস্তিত্ব থাকতনা। সহস্র সহস্র হিন্দুর, সুমন জাহিদ, শাহজাহান বাচ্চুর রক্তস্নাত পার্শবর্তী বাংলাদেশ থেকে তা অন্তর্হিত হয়েছিল ‘৪৭ সালেই – তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ ১৯৪৯ র পূর্ব পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২৯% র অধিকারী হিন্দুরা আজ সেখানে মাত্র ৮% এসে পৌঁছেছে এবং গবেষকদের মতে, উত্তরোত্তর ইসলামী বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার কল্যাণে সেটি শূন্য তে পৌঁছতে বেশী সময় নেবেনা। মুক্তমনা বা liberal দের অবস্থাও তথৈবচ এবং অভিজিৎ রায়, সুমন জাহিদ, ওয়াশিকুর রহমান, আসিফ মহিউদ্দিন, আহমেদ রাজীব হায়দার, হুমায়ুন আজাদ বা সদ্য নিহত শাহজাহান বাচ্চু তারই প্রমাণ। অর্থাৎ, ১৯৪৭ এ তৎকালীন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হিন্দু রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দেশবিভাগের যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পশ্চিমবঙ্গ র সৃষ্টি করেছিলেন তার সার্থকতা এই ভয়ঙ্কর সময়েই, যখন নিরন্তর আঘাতে সুস্থ, ধর্মীয় ও মানবিক চিন্তা রক্তাক্ত, বোঝা যায়।

আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা নেই যে ভারতে অবস্থিত প্রত্যেক অঙ্গরাজ্যেরই একটি করে রাজ্য দিবস আছে। অথচ সাম্প্রদায়িক বিভক্তি, রক্তস্নানের মধ্য দিয়ে বাঙালী হিন্দু জাতি র জন্য নির্মিত, ঐতিহাসিক ভাবে সত্য পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনে কেউ উৎসাহ প্রদৰ্শন করেননি। ভাবীকাল যদি জানতে চায় এই অনুৎসাহের কারণ – বাঙালী হিন্দু মনন কে অবদমিত করার জন্যেই কিনা – তখন তার উত্তর দিতে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ নেতৃত্ব প্রস্তুত থাকবেন তো? পয়লা মে পালিত হয় মহারাষ্ট্রে “মহারাষ্ট্র দিবস” হিসেবে, ১ লা নভেম্বর কর্ণাটক দিবস ও ৩০ শে মার্চ রাজস্থান দিবস পালিত হয়। কিন্তু পশ্চিমবংগর ক্ষেত্রেই এতো বিড়ম্বনা কেন? সমস্যা হল রাজনীতির সেই ব্যবসাদারদের যাদের কাছে দেশপ্রেম, স্বজাতিপ্রীতি ও চেতনা বিক্রেয়। তাঁরাই এই ক্ষেত্রে বৃহত্তম প্রতিবন্ধকতা। তবুও জাতির নিদ্রাভঙ্গ হয়, চেতনা র উন্মেষ ঘটে, কালের চাকা পরিবর্তিত হয় ও ইতিহাস তার নয়া দাবী নিয়ে জাতির সম্মুখীন হয়। এটি স্মরণে রাখা প্রয়োজন, পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্ট হয়েছিল দেশভাগের সময়, বিশেষত জাতীয় স্বাধীনতা প্রাপ্তির আগে, অন্যান্য রাজ্যগুলির অধিকাংশের জন্ম হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের একক সিদ্ধান্ত হেতু। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্ট হয়েছিল এই ভূখণ্ডের হিন্দু জনসাধারণের ঐকান্তিক ইচ্ছায়, বিশিষ্ট হিন্দু বুদ্ধিজীবিদের নেতৃত্বে ও রাজ্যবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের বঙ্গীয় আইনসভায় সম্মিলিত ভোটদানের মাধ্যমে। তাই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন এক ঐতিহাসিক ও আবশ্যিক কর্তব্যও বটে।

১৯৪৭-এ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আইন অনুসারে বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের ব্যবস্থা হল। যেহেতু বঙ্গীয় আইনসভা ভারত বা পাকিস্তানে যুক্ত হবার ব্যাপারে একমত ছিল না ফলে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভা ভেঙে তৈরি হল পূর্ববঙ্গ আইনসভা ও পশ্চিমবঙ্গ আইনসভা। মুসলমান প্রধান অঞ্চল নিয়ে হল পূর্ববঙ্গ ও হিন্দু প্রধান অঞ্চল নিয়ে হল পশ্চিমবঙ্গ। ঐ দিনেই পশ্চিমবঙ্গ আইনসভার সদস্যরা ৫৮-২১ ভোটে বাংলাভাগের পক্ষে ও পাকিস্তানে যোগদানের বিপক্ষে ভোট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ গঠন সুনিশ্চিত করেন। ১৯৪৭ সালের ২০শে জুন তৈরী হল পশ্চিমবঙ্গ ও তার আইনসভা। ভারত স্বাধীন হল ১৫ ই আগস্ট, ১৯৪৭। কিন্তু ইতিহাসে এই প্রশ্নটি রয়ে যায় – অন্য কোন পন্থার কি সম্ভাবনা ছিল এই যন্ত্রণাময় পদ্ধতির পরিবর্তে? এই জিজ্ঞাসা এখনো দেখা দেয় গবেষক, চিন্তাবিদদের মনের গহনে কিন্তু পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিবেচনা করল বাঙালী হিন্দু জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে পৃথক হওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ ছিলোনা।

সংক্ষেপে, আলোকিত, ধীশক্তিসম্পন্ন, তেজস্বী বাঙালীকে ধ্বংস করার জন্য উদ্যত হয়েছিল মহাশক্তিরা যাঁর মধ্যে অন্যতম বা সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। বস্তুতপক্ষে, ১৯১১ সালে ব্রিটিশরাজ কর্তৃক বঙ্গভঙ্গ রোধের সময় থেকেই ঘনিয়ে এলো বাঙালী হিন্দুর কাল। যে সময়ে পৃথিবীজুড়ে উচ্চারিত হতো “Rule, Britannia! rule the waves: Britons never will be slaves”, সেই একই যুগে বাঙালী হিন্দুদের তেজস্বী প্রতিবাদ ও প্রত্যাঘাত হেতু বঙ্গভঙ্গ রোধ ব্রিটিশ রাজের কাছে চূড়ান্ত অপমানজনক মনে হয়েছিল। ফেব্রুয়ারী ১৭, ১৯০৪ সালে লর্ড কার্জন, ভারতবর্ষের তৎকালীন ভাইসরয়, একটি চিঠি লেখেন William St John Fremantle Brodrick (Secretary of State for India) কে,

“The Bengali is who like it themselves as a nation and who dream of a future when the English will be turned out and a Bengali Babu will be installed in the Government House, Calcutta, of course, bitterly resent any interfere that will be likely to interfere with the realization of this dream. If we are weak enough to yield to their clamor now, we shall not be able to dismember or deduce Bengal again; and you will be cementing and solidifying on the Eastern flank of India, a force already formidable and certain to be a source of increasing trouble in the future.”

– “Genesis of Pakistan” – Nagarkar.

বাঙালি হিন্দুর সম্বন্ধে লর্ড কার্জনের এই মূল্যায়ন আমাদের সাহায্য করে পরবর্তী যুগে ব্রিটিশ কর্তৃক বাঙালীর ধ্বংসের ধারাবাহিকতাকে অনুধাবন করতে। ব্রিটিশের যোগ্য সহযোগী হিসেবে মুসলিম লীগের পাকিস্তান গঠন ও হিন্দু জাতির নিশ্চিহ্নকরণের অভিমুখে ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কার্যাবলী এক নব অধ্যায়ের সৃষ্টি করে।

সমগ্র বাংলাতে হিন্দু আধিপত্য ক্রমাগত ক্ষুণ্ন করার সাথে ১৯৩২ সালের Communal Award, ভারত রক্ষা আইন – ১৯৩৫ প্রণয়নের মাধ্যমে অবস্থা এই পর্যায়ে পৌঁছল যে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ শ্রী নীরোদ চন্দ্র চৌধুরী পর্যন্ত স্বীকার করলেন হিন্দুদের দেখার কিছু থাকলো, বলার কিছু থাকলো কিন্তু করার কিছু থাকলোনা। অর্থাৎ ১৯৩৫-৩৬ সালের মধ্যেই অবিভক্ত বঙ্গের একদা প্ৰচণ্ড শক্তিশালী বাঙালী হিন্দু, কি শিক্ষা, কি অর্থনীতিতে, পথের কপর্দকহীন ভিক্ষুকে পরিণত হল প্রায়। যেটুকু বাকি ছিল তাও সম্পূর্ণ হল ১৯৩৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক শ্রীপদ্মর বিদায়ের মাধ্যমে। শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই প্রথম মুসলমান ও হিন্দুর সম্মুখ সমর হল ও শিক্ষাক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক কর্ম সত্বেও হিন্দু সমাজ পরাজিত হল। ৪০ র দশকের বাংলার মুসলিম লীগ সরকার দ্বারা আনীত মহা বিতর্কিত ও সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতদুষ্ট “Secondary Education Bill” এবং তার বিরুদ্ধে শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হিন্দু সমাজের সংগ্রাম রাজনৈতিক উত্তাপকে এক নয়া মাত্রা প্রদান করে। সংগ্রাম এতো গুরুতর হয়ে ওঠে যে জনাব আবু হোসেন সরকারের মতো ব্যক্তিও বলে ওঠেন যে এই bill শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হলে, “হিন্দুস্তান বা পাকিস্তান র পরিবর্তে চারিদিকে শুধু গোরস্থানই থাকবে।”

কিন্তু পাকিস্তান গঠনের নেশায় উন্মত্ত মুসলিম লীগ ও জিন্না এই জ্ঞানগর্ভ উপদেশ শোনার জন্য অপেক্ষা করেননি। বাংলার বিধানসভায় একের পর এক bill এনে হিন্দুজমিদারশ্রেণীর ক্ষতিসাধন করে কৃষক দরদী সাজার উন্মাদনা তখন লীগ কে গ্রাস করেছে কিন্তু অচিরেই বোঝা গেল দরদের পরিবর্তে সমগ্র বাংলাতে এক ইসলামিক রাজত্ব গড়ার জন্যে সে মরিয়া। তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ হল আগস্ট ১৬, ১৯৪৬ র সম্মুখ সমর, ইতিহাসে যা প্রসিদ্ধ “Direct Action Day” হিসেবে। একইসময়ে ক্রমশ রসাতলে যাওয়া পরিস্থিতির ওপর রাশ টানার পরিবর্তে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ সরকার উত্তাপ অনুভব করলেন সেই আগুনের যা সমগ্র ভারতকে দগ্ধ করল। ১৬ ই আগস্ট ও তারপরের কয়েকটি দিন কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যা ঘটল তাকে বোধহয় নারকীয় আখ্যাও দেওয়া চলেনা। তার প্রারম্ভ হয়েছিল মুসলিম লীগের নেতৃত্বে নৃশংসতম ইসলামী আক্রমণে, শেষ হল হিন্দুদের ভয়াল, ভয়ঙ্কর প্রত্ত্যুত্তরে। অক্টোবর ১০, ১৯৪৬ – কোজাগরী লক্ষী পূর্ণিমার রাত্রে গোলাম সারওয়ারের নেতৃত্বে নোয়াখালীর সংখ্যালঘু হিন্দুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল কাশেমের ফৌজ, যে অগ্নি নির্বাপিত করতে স্বয়ং গান্ধীজিকে ছুটে আসতে হয়েছিল সেখানে এবং নোয়াখালীর প্রতিক্রিয়ায় অক্টোবর ২৬ এ বিহারে হিন্দুরা ঝাঁপিয়ে পড়ল সেখানকার মুসলমান অধিবাসীদের ওপর। তারপরই জ্বলে উঠল উত্তরপ্রদেশের গড়মুক্তেশ্বর। এর মধ্যেই ঘটলো শ্রীহট্টের গণভোটের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় – যেদিন গণতন্ত্রের সমস্ত ধ্যানধারণার বলাৎকার করে শ্রীহট্টকে তুলে দেওয়া হল পূর্ব পাকিস্তানের হাতে ও তার সাথেই পূর্ণ হল বাঙালী হিন্দু সমাজের সর্বনাশের ইতিবৃত্ত। বাঙালীর সেই পলায়ন আজও থামেনি। ‘৪৭ এ তার পরিচয় ছিল ধুবুলিয়া উদ্বাস্তু ক্যাম্পের অধিবাসী হিসেবে, আজ তার পরিচয় আসামের ডিটেনশন ক্যাম্পের উদ্বাস্তু হিসেবে।

কিন্তু ১৬ ই আগস্ট যে ভয়ঙ্কর ঘটনাপ্রবাহ শুরু হল কলকাতায় (ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একদা রাজধানী) তা থামলোনা ভারতের স্বাধীনতার পরেও, এমনই ভয়ঙ্কর ছিল পারস্পরিক বিদ্বেষ, তৎসহ হিন্দু প্রতিক্রিয়া।

“২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৬ অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার গোরক্ষপুর অধিবেশনে দেশভাগের দাবী তুলে ‘স্বধর্ম রক্ষার কারণে রক্তস্নানের জন্যে’ হিন্দুদের প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন এল. বি. ভোপটকর। মহাসভা এই উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করে ফেলে; চারমাস পরে সাতচল্লিশের এপ্রিল মাসে বঙ্গীয় হিন্দু মহাসভার তারকেশ্বর অধিবেশনে নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দেশভাগকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন। নির্মলচন্দ্র বলেন, হিন্দুদের কাছে এটা জীবন-মরণের প্রশ্ন; ‘বাঙলার হিন্দুরা জাতীয় সরকারের অধীনে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করবে।’ দিল্লীর একটি সভায় শ্যামাপ্রসাদ এমনও বলেন যে, পাকিস্তান যদি নাও হয়, তাহলেও বাঙলার হিন্দুদের জন্য একটা আলাদা প্রদেশ চাই: Even if Pakistan is not conceded….we shall demand the creation of a new province composed of the Hindu majority areas in Bengal. সাতচল্লিশের গোড়াতেও শ্যামাপ্রসাদ দেশভাগের কথা বলেননি; কিন্তু এখন তাঁর মনে হয়, দেশভাগ ছাড়া অন্য কোন সমাধান তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।“

“কলকাতার নাগরিক জীবন তখন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। টানা কারফিউ চলে অঞ্চলে অঞ্চলে। দাঙ্গার পিছনে সরকারের মদত রয়েছে। হিন্দু পত্র-পত্রিকার ওপরেও দমনপীড়ন চলছে। এক বিশেষ অর্ডিন্যান্স বলে অমৃতবাজার পত্রিকা, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড, আনন্দবাজার পত্রিকা, মডার্ন রিভিউ-এর ওপর জরিমানা ধার্য করা হয়; বাজেয়াপ্ত করা হয় জমা রাখা টাকা (ডিপোজিট)। ক্রমাগত দাঙ্গায় উৎপীড়িত হিন্দুর ক্ষোভ তাই একটা সমাধানের দিশা দেখতে পায় হিন্দু মহাসভার দাবীতে; হিন্দু পত্র-পত্রিকাও সমর্থন করেন সেই দাবী।“

‘অর্চনা’ পত্রিকা (শ্রাবণ, ১৩৫৪) তারকেশ্বর অধিবেশনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ লেখা ছাপে। মডার্ন রিভিউ (মে, ১৯৪৭) মন্তব্য করে: ‘দেশভাগ এখন একটা “গৃহীত সত্য” (accepted fact) হয়ে গেছে।’ ডিসেম্বর মাসেই ‘প্রবসি লিখেছিল: ‘দুই সম্প্রদায়ের মিলনের আশা সুদূর পরাহত। ……বঙ্গ বিভাগের প্রস্তাব স্থিরভাবে বিচার করা প্রয়োজন হইয়াছে।’ সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করে এখন ‘প্রবাসী’; ‘শনিবারের চিঠি’ (বৈশাখ, ১৩৫৪) পরিষ্কার লেখে: ‘পৃথক হইয়া যাওয়াই ভাল।’ হিন্দু পত্র-পত্রিকার প্রচারে হিন্দু মহাসভার দাবী প্রায় গণদাবীর চেহারা নেয়। গ্যালপ পোলের ভেতর দিয়ে ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’ প্রমাণ করে দেয়, পাঠকদের ৯৮ শতাংশই বাঙলা ভাগ চায়; বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করার জন্যে অমৃতবাজার পত্রিকা ‘বেঙ্গল পার্টিশন ফান্ড’ নামে একটা তহবিলই খুলে ফেলে। “ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা – ছেচল্লিশের দাঙ্গা” – শ্রী সন্দীপ বন্দোপাধ্যায়

কে ছিলেন না এই মহতী সংগ্রামে? পশ্চিমবঙ্গের দাবী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য্যায় একাকী কিন্তু ক্রমে যুক্তি ও বোধে শাণিত হয়ে তাঁর পাশে দৃঢ়চিত্তে এসে দাঁড়িয়েছিলেন শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ, শ্রী নলিনাক্ষ সান্যাল, পন্ডিত লক্ষীকান্ত মৈত্র, শ্রী নীহারেন্দু দত্ত মজুমদার, মেজঃ জেনাঃ এসি চ্যাটার্জি, শ্রী নলিনীরঞ্জন সরকার, শ্রী যাদবেন্দ্রনাথ পাঁজা, শ্রী বিধানচন্দ্র রায়, ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ডঃ মেঘনাদ সাহা, স্যার যদুনাথ সরকার, ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার, ডঃ মাখলাল রায়চৌধুরী, অমৃতবাজার-যুগান্তর পত্রিকা গোষ্ঠী, আনন্দবাজার পত্রিকা, দৈনিক বসুমতি, Modern Review ও প্রবাসী গোষ্ঠী, ডঃ রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায়, ডঃ বিনয় সরকার প্রমুখ ব্যক্তিগণ।

এমতাবস্থায়, ২০শে জুন, ১৯৪৭ অখণ্ড বাংলার হিন্দু প্রধান অঞ্চলের সদস্যরা পৃথকভাবে বসেন। কংগ্রেসের সঙ্গে হিন্দু মহাসভা ও কম্যুনিস্ট প্রতিনিধিরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট দেয় এবং পক্ষে সর্বমোট ভোট পড়ে ৫৮টি। মুসলিম লীগ বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাবের বিরোধী হিসেবে দলবদ্ধভাবে ভোট দেয়; তাদের পক্ষে ভোট পড়ে ২১টি। ৫৮-২১ ভোটে বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব, সমস্ত প্রতিকূলতার বিপক্ষে আসীন হয়ে, গৃহীত হয়ে। এটি বলা প্রয়োজন, মাউন্টব্যাটেন রোদেয়াদে এটি পূর্ব থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল, একটি বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধিরা বাংলা ভাগে ইচ্ছুক হলেই, প্রস্তাব গৃহীত হবে। হিন্দু বিভাগে সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস সেই পথেই যায়, সৃষ্টি হয় পশ্চিমবঙ্গের।

গত ৭০ বছরে ভাগীরথী দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গেছে। মূলত, হিন্দুদের জন্য গঠিত হলেও পশ্চিমবঙ্গ এখন হিন্দুদের হাতছাড়া; অবস্থা এমন যে তাঁরা বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত প্রকাশ, প্রতিবাদে আগ্রাসী হওয়ার সাহসটুকুও হারিয়েছেন. এই হতশ্রী অবস্থা বর্তমানে কেন তা নিয়ে চর্চার প্রয়োজন।সমস্যাটি আত্মস্থ করে, আপন ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে বাঙালী হিন্দুর পক্ষে পুনরায় অগ্রসর হতে আজ মণীষা র প্রয়োজন, প্রজ্ঞার প্রয়োজন।

 সৌজন্য: বঙ্গদেশ পত্রিকা

লেখক: অনিমিত্র চক্রবর্তী