হাওড়ার দাশনগরে একই রাতে দুটি মন্দিরে চুরি, দুষ্কৃতীরা অধরা

গত ১৯শে ফেব্রূয়ারি, মঙ্গলবার হাওড়া জেলার অন্তর্গত দাশনগর এলাকার একটি শ্যামাকালী ও তারা মায়ের মন্দিরে চুরি হয়েছে। দু’টি মন্দির থেকেই দুষ্কৃতীরা প্রতিমার গায়ে থাকা অলঙ্কার ও বাসনপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এই নিয়েও দাশনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ব্যাপক আকার নিয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে। অথচ পুলিস এখনও পর্যন্ত কোনও চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

Advertisements

কাশ্মীরে সেনা হত্যার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ হিন্দু সংহতির

কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপুরায় সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় হিন্দু সংহতির বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হলো।

গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি হিন্দু সংহতির পূর্ব বর্ধমান সদর শাখার উদ্যোগে এবং প্রমুখ কর্মী শিবাংশু ভঞ্জের নেতৃত্বে  কয়েকশো কর্মী বর্ধমান শহরে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিল বর্ধমান শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে। মিছিল থেকে পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পাল্টা প্রতিশোধেরও দাবি তোলা হয়। মিছিলের শেষে বীরগতিপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানদের স্মৃতিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।
এছাড়াও, গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিংয়ের তালদিতে  হিন্দু সংহতির কর্মীরা কাশ্মীরে সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। কয়েকশো কর্মীর বিক্ষোভে তালদি বাজার কেঁপে ওঠে। কর্মীরা ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ শ্লোগান দেন। মিছিলের শেষে মাসুদ আজহারের কুশপুতুল এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়।
এছাড়াও, গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি, হিন্দু সংহতির পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা ইউনিটের উদ্যোগে কাশ্মীরে সেনা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মিছিলটি আউশগ্রাম থানার সামনে থেকে শুরু হয়ে বাজার ঘুরে আবার থানার সামনে শেষ হয়।
 এছাড়াও, আজ হাওড়া জেলার আমতায় হিন্দু সংহতির উদ্যোগে একটি মিছিল বের করা হয় কাশ্মীরে সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে। এই মিছিলে কয়েকশো হিন্দু সংহতি কর্মী যোগ দেয়। মিছিল থেকে পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান দেওয়া হয় এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়।
হাওড়া জেলার আমতা ছাড়াও হুগলি জেলার চণ্ডীতলা থানার অন্তর্গত মশাট বাজারে হিন্দু সংহতির কর্মীরা পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে কাশ্মীরে সেনা জওয়ান হত্যার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। এছাড়াও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

করিমগঞ্জের দোহালিয়ার সর্বহারা হিন্দু পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

Dohaliyaগত ১০ই ফেব্রূয়ারি রাতে আসামের করিমগঞ্জ জেলার অন্তর্গত দোহালিয়ায় ২টি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় মুসলিম দুষ্কৃতীরা। পুড়ে ছাই হয়ে যায় ১ টি হিন্দুর বাড়ির সর্বস্ব এবং এর একটি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়। এমনকি বাড়ির পাশে থাকা একটি টিনের তৈরি মন্দির পুড়ে ছাই হয়ে যায়।সেই দিন থেকে ওই দুটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল খাটিয়ে বসবাস করছিল। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। এই রকম পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিট। গতকাল ১৫ই ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সেই পরিবারের হাতে ১০ টিন তুলে দেওয়া হয় হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ৪ঠা ফেব্রূয়ারি তারিখে। সেইদিন দুপুরে করিমগঞ্জ জেলার পাঠারকান্দি মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের আরবি শিক্ষক মাওলানা মেহবুব হাসান স্কুলের ভিতরেই দুই হিন্দু ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। এই মেহবুবপ্রতিবাদে পাথারকান্দি ও নিলামবাজারে পথ অবরোধ করে হিন্দুরা। এমনকি ওই আরবি শিক্ষককে স্কুলের বাইরে বেধড়ক মারধর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।পরে ওই শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। এর প্রতিবাদে মাদ্রসা ছাত্রদের সংগঠন আমসা পথ অবরোধ করে। আর এই কারণেই দোহালিয়ায়  হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানো হয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোহালিয়াকে কেন বেছে নেওয়া হলো?কারণ দোহালিয়া পাহাড়ের কোলে একটি প্রত্যন্ত গ্রাম এবং যে গ্রামে হিন্দু সংখ্যালঘু-মাত্র ৩০০ হিন্দুর বাস। গ্রামটির দুরত্ব আসিমগঞ্জ বাজার থেকে ১ কিমি।তাই ওই অল্পসংখ্যক হিন্দু টার্গেটে পরিণত হলো ।আরো বড় ক্ষতি হতে পারতো, কিন্তু হিন্দুরা সজাগ থাকায় মুসলিম  দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। আর সেই হামলায় সর্বস্ব হারানো পরিবারদুটির পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতির কর্মী অমিত রায় এবং শুভম দাস আসিমগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ১ কিমি পথ টিন মাথায় নিয়ে, পায়ে হেঁটে  গিয়ে পরিবারগুলোর হাতে সাহায্য পৌঁছে দেন।ভবিষ্যতেও ওই পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে।

হিন্দু ধর্মে ফিরলেন অলিপুরদুয়ারের খ্রিস্টান তরুণী হীরামনি

হিন্দু সংহতির সহায়তায় হিন্দু ধর্মে ফিরলেন আলিপুরদুয়ার জেলার তুরতুরী গ্রামের বাসিন্দা খ্রিস্টান তরুণী হীরামনি খাড়িয়া। তিনি বিয়ে করলেন একই জেলার উত্তর রামপুর বস্তির হিন্দু তরুণ বিশ্বজিৎ দেবনাথকে। গতকাল ১৫ই ফেব্রুয়ারি হিন্দু সংহতির সহযোগিতায় এবং কর্মীদের উদ্যোগে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয় সম্পূর্ণ হিন্দু রীতিতে। বিশ্বজিৎ এবং হীরামনির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।কিন্তু তাঁরা বিয়ে করতে চাইলে বাধা আসে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হীরামনির পরিবার থেকে। তখন তাঁরা হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীদের কাছে সহযোগিতা প্রাথর্না করে।তখন হিন্দু সংহতি কর্মীদের সহযোগিতায় এবং ব্যবস্থাপনায় বিশ্বজিৎ এবং হীরামনির শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মে স্বাগতম হীরামনিকে।

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় বালুরঘাটে পাক পতাকা পুড়িয়ে মিলিটারি অ্যাকশনের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রদপ্তর কে চিঠি হিন্দু সংহতির

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে গর্জে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুর। গতকাল ১৫ই ফেব্রূয়ারি, শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নামেন সাধারণ মানুষ। পাকপতাকা ও পাক প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করে প্রতিবাদ জানানো হয় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে পিছপা হননি হিন্দু সংহতি ও। ওই ঘটনায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে করা মিলিটারি অ্যাকশন নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্পিড পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি করা হয় হিন্দু সংহতির তরফে। পাশাপাশি এদিন বিকেলে শহরের হিলি মোড়ে দেশের ৪৪ জন বীর শহীদদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ জানায় হিন্দু সংহতি সদস্যরা। সংগঠনের তরফে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করে পোড়ানো হয় পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। দাহ করা হয় পাক প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকাও। একই ঘটনায় এদিন বালুরঘাটের বাদামাইলে হিলি বালুরঘাট জাতীয় সড়কের ওপর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কুশপুতুল দাহ করে স্থানীয় বাসিন্দারা।

বালুরঘাটে হিন্দু সংহতির তরফে রজত রায় জানিয়েছেন, জঙ্গি প্রশিক্ষণের আঁতুড়ঘর পাকিস্তান। সেখানে বসেই পাকিস্তান এমন সব সন্ত্রাসমূলক কাজ করে চলেছে। এর বিরুদ্ধে কড়া মিলিটারি অ্যাকশন নিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে তাদের সংগঠনের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সাথে পোড়ানো হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকাও।

সেনা জওয়ানদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বনগাঁতে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ হিন্দু সংহতির

FB_IMG_1550286982658কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাদের কনভয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখালেন হিন্দু সংহতির সদস্যরা। গতকাল ১৫ই ফেব্রূয়ারি, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ থানার বাটার মোড় অবরোধ করে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হলো বনগাঁর হিন্দু সংহতির নেতা অজিত অধিকারীর নেতৃত্বে । এদিন হিন্দু সংহতির সদস্যরা সংগঠনের পতাকা নিয়ে সারা বনগাঁ শহর ঘুরে বাটার মোড়ে অবস্থান বিক্ষোভ করে। পরে ৩০ মিনিট বাটার মোড় অবরোধ করে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায়। পরে পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। এই অবরোধ ও বিক্ষোভে সামিল হয় সাধারণ পথ চলতি মানুষও। অবরোধকারীরা জানায়, মারের বদলা মার। মিছিলের পর শহীদ জওয়ানদের উদ্দেশ্যে শোক পালন করা হয়।

মাইক বন্ধের নামে মন্দিরে পুলিসের ভাঙচুরের অভিযোগ, বিক্ষোভে রণক্ষেত্র নিউ টাউনের পাথরঘাটা


new townমন্দিরের মাইক বাজানো বন্ধকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার নিউটাউনের পাথরঘাটা গ্রাম। গ্রামবাসী-পুলিস খণ্ডযুদ্ধে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পাথরঘাটা গ্রাম। এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, লাউডস্পিকার বন্ধের নামে মন্দিরে ভাঙচুর চালায় পুলিস। আর তারপরই পুলিসের ওপর হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
অভিযোগ, ভরা পরীক্ষার মরসুমে গভীর রাতেও মাইক বাজানো হচ্ছিল মন্দিরে। তাতে আপত্তি জানায় পুলিস। মাইক বন্ধ করে দিতে বলে পুলিস। এরপরই এককথা-দুকথায় বচসা শুরু হয়ে যায়। বচসা গড়ায় বিক্ষোভে। অভিযোগ, এরপরই মাইক বন্ধের নামে মন্দিরে ভাঙচুর চালায় পুলিস। আর এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী। রাস্তায় টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। যত সময় গড়ায় তত উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
গ্রামে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দেয় উত্তেজিত জনতা। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় গ্রামে ঢোকার পথ। অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পঞ্চায়েত প্রধান এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি। তাঁদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে দেখে তখনকার মত এলাকা ছেড়ে চলে যায় পুলিস।
তারপর আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালে আবার নতুন করে উত্তেজনা ছাড়ায় পাথরঘাটা গ্রামে। বন্ধ সমস্ত দোকানপাট। কোনও গাড়িও চলছে না এলাকায়। এদিন সকালে আবার গ্রামে ঢোকে পুলিস। আর গ্রামে ফের পুলিস ঢোকার খবর পেয়েই মারমুখী হয়ে ওঠে বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, ভাঙচুর করা হয় পুলিসের গাড়ি। উত্তেজিত জনতা বেধড়ক মারধর করে পুলিসকে।

হিন্দু সংহতির ১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন

গত ইংরেজি ২০০৮ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বাঙালি হিন্দুর আশা ভরসার আর এক নাম হিন্দু সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১০ বছর ধরে যে সংগঠন প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলার জিহাদে আক্রান্ত, অত্যাচারিত, নিপীড়িত হিন্দুর কল্যাণের লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।প্রতি বছর এই দিনটিতে প্রতিষ্ঠা দিবস কলকাতার বুকে পালিত হয় রানী রাসমণি এভিনিউ তে। কিন্তু এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকার কারণে মাইক ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় এই অনুষ্ঠা হলে করতে হলো।আর তাই এই বছর ১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হলো কলকাতার ভারতসভা হল-এ। এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ৫০০ কর্মী-সমর্থক যোগ দেন। হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য ও স্বামী বলভদ্রজি মহারাজ ভারতমাতার ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে সভার কাজ শুরু করেন। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়,শ্রী দেব চ্যাটার্জি ও কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শ্রী শান্তনু সিংহ; সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি ও শ্রী মুকুন্দ কোলে; কোষাধ্যক্ষ শ্রী সাগর হালদার, হুগলী জেলার সভাপতি শ্রী পার্থপ্রতিম ঘোষ, ক্যানিং এর বিশিষ্ট নেতৃত্ব শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী, বনগাঁর নেতা শ্রী অজিত অধিকারী , নেত্রী স্নেহা নস্কর প্রমুখ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাঙালি হিন্দুর সামনে পশ্চিমবঙ্গে অত্যাচারিত, বঞ্চিত হিন্দুদের চরম বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং তার প্রতিকার, প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে হিন্দুদেরকে এই প্রতিরোধের কাজে সহযোগী হওয়ার আহ্বান জানান সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়। শেষে জাতীয় সংগীত গানের মাধ্যমে এবং আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে হিন্দু প্রতিরোধের কাজকে আরো শক্তিশালী করার শপথ নিয়ে সভার কাজ শেষ হয়।

অভিজিৎ সর্দার, পতিতপাবন নস্কর, অনাদি নস্কর, সুজিত নস্করের বলিদান স্মরণ হিন্দু সংহতির

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তী থানার অন্তর্গত ৩নং সোনাখালী গ্রাম। এই গ্রামের হিন্দুদের স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার ছিল না ২০০০ সাল নাগাদ। গ্রামের হিন্দুদের ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করতো মুসলিম দুষ্কৃতী আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে। হিন্দুদেরকে জমির ধান ট্যাক্স হিসেবে দিতে হতো, গরু চুরি করে নিয়ে যেত মুসলমানেরা, হিন্দু মেয়েদেরকে তুলে নিয়ে যেত মুসলমানেরা। রাজনীতি নেতারা, পুলিস-প্রশাসন কেউ হিন্দুদের সুবিচার দিতে পারেনি। তাই এর প্রতিকার করতে, হিন্দুদের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার দিতে এগিয়ে এসেছিলেন গ্রামের কয়েকজন তরতাজা হিন্দু যুবক RSS এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে। তাদের নেতৃত্বে হিন্দুদের ঐক্য গড়ে ওঠে সোনাখালী ও আশেপাশের গ্রামে। সেই মতো তারা ২০০১ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি একটি বনভোজনের আয়োজন করে। কিন্তু তার আগের দিন ১০ই ফেব্রুয়ারি হিন্দু যুবকদেরকে ঘিরে ধরে আনোয়ার হোসেন ও তার বাহিনী। গুলি করে , গলার নলি কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয় তরতাজা চার জন হিন্দু যুবককে-অভিজিৎ সর্দার, পতিতপাবন নস্কর, অনাদি নস্কর এবং সুজিত নস্করকে। তার প্রতিবাদে হিন্দুদের প্রতিক্রিয়ায় মুসলিমদের গ্রামছাড়া করা হয়। আজও পর্যন্ত সেই গ্রামে মুসলিমরা ফিরতে পারেনি। তাদের সেই বলিদানকে RSS কোনোদিন মনে রাখেনি।কিন্তু হিন্দু সংহতি প্রতিষ্ঠার পর হিন্দু সংহতি প্ররি বছর এই দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আসছে।
গতকাল ১০ই ফেব্রুয়ারি, সেই দিনটিকে স্মরণ করা হলো হিন্দু সংহতির উদ্যোগে। তাদের সেই বলিদানকে স্মরণ করে এক স্মরণসভা এবং এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিলো। রক্তদান শিবিরে শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মীরা রক্তদান করে। গতকাল তাদের বেদিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা অর্পণ করেন হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, বিশিষ্ট নেতৃত্ব শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী, কোষাধ্যক্ষ শ্রী সাগর হালদার, প্রমুখ কর্মী শ্রী শ্যামল মন্ডল, শ্রী মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল প্রমুখ।

ডুয়ার্সের রায়ডাক চা বাগান এলাকায় হিন্দু সংহতির বস্ত্র বিতরণ

গত ১লা ফেব্রূয়ারি থেকে আলিপুরদুয়ার জেলার অন্তর্গত ডুয়ার্সের রায়ডাক চা বাগানে এক ভাগবত কথা  অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, যার আয়োজকদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু সংহতির কর্মী। সেই অনুষ্ঠান গতকাল ৯ই ফেব্রূয়ারি শেষ হয়। শেষ দিনে ওখানে একটি গণ বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ৫০ জনের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রী বিক্রম ছেত্রী।

হিন্দু সংহতির সহায়তায় হিন্দু ধর্মে ফিরলেন কলকাতার মীর রাজদা

MIR RAJDAহিন্দু সংহতির সহায়তা এবং উদ্যোগে পূর্বপুরুষের সনাতন হিন্দু ধর্মে ফিরলেন কলকাতার একবালপুরের মুসলিম তরুণী মীর রাজদা। তিনি বিয়ে করলেন কলকাতার তালতলা থানা এলাকার হিন্দু যুবক হেমন্তকে। মীর এবং হেমন্তের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মীর হেমন্তকে বিয়ে করতে চাইলে বাধা দেয় মীরের পরিবার। তখন উপায় না দেখে হেমন্ত এবং মীর হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ওই দুজনকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয় এবং দুজনের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। কলকাতায় গত ৮ই ফেব্রূয়ারি হিন্দু সংহতির উদ্যোগে তাদের দুজনের বিবাহ দেওয়া হয়। হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করার পর মীর রাজদা এখন রিয়া। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে দম্পতির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তিনদফা দাবিতে বালুরঘাটে মিছিল হিন্দু সংহতির

দক্ষিণ দিনাজপুরে হিন্দু সংহতির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পুস্তক বিতরণ গত 2রা ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে, তিনদফা দাবিতে বালুরঘাটে এক মিছিল অনুষ্ঠিত হলো দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রমুখ কর্মী শ্রী রজত রায়ের নেতৃত্বে। এই মিছিলে বালুরঘাট, বুনিয়াদপুর এবং আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েকশ হিন্দু সংহতির কয়েকশ কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। মিছিল থেকে বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দু শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেবার দাবিতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন চালুর দাবিতে এবং বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবিতে স্লোগান ওঠে। এই মিছিল থানা মোড় থেকে শুরু হয়ে শহর ঘুরে থানা মোড়ে শেষ হয়।

ডুয়ার্সের ধৌলাঝরা বস্তিতে হিন্দু সংহতির বস্ত্র বিতরণ

গত ৬ই জানুয়ারি, আলিপুরদুয়ার জেলার ডুয়ার্সের ধৌলাঝরা বস্তিতে হিন্দু সংহতির উদ্যোগে এক বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে ধৌলাঝরা বস্তির রাভা, সাঁওতাল, সাদ্রীভাষী জনজাতির বহু মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে শতাধিক মহিলার হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, ডুয়ার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী শ্রী বিক্রম ছেত্রী, প্রমুখ কর্মী শ্রী অমিত মালী এবং ধৈলাঝরা এলাকার কর্মী শ্রীমতি মীনাক্ষী রাভা। এছাড়াও উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়। তিনি তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে আমাদের সকলকে সনাতন ধর্মে থেকে ধর্মকে, নিজের পরিচয়কে আরও বেশি শক্তিশালী করার দরকার।সেইসঙ্গে খ্রিস্টানদের ধর্মান্তকরণ করার চক্রান্তকে ব্যার্থ করার কাজে হিন্দু সংহতির সহযোগী হওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে বলেন।

কেরালা থেকে গ্রেপ্তার জেএমবি জিহাদি বোমা বিশেষজ্ঞ আব্দুল মতিন

abdul motinদক্ষিণ ভারতে বসে পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর ঘটনায় আব্দুল মতিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করল এসটিএফ। কেরলের মাল্লাপুরম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানকার আদালত তার আটদিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তাকে এদিন কলকাতায় এনে ব্যাঙ্কশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণকাণ্ডে আব্দুল মতিনের যোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেইসঙ্গে এরাজ্যে জঙ্গি কার্যকলাপে তার যোগ থাকার তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। তাই আরও তদন্তের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। আদালত আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে এসটিএফের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। সূত্রের খবর, বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের দুই ষড়যন্ত্রী ইউসুফ এবং কওসরের সঙ্গে আব্দুল মতিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। গত দু’বছর ধরে মতিন অনুমোদনহীন মাদ্রাসা থেকে শিক্ষিত ছেলেদের জোগাড় করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়ে আসত বলে জানা গিয়েছে। এমনকী বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজেও তার যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের বরপেটার বাসিন্দা আব্দুল মতিন ২০১০ সাল নাগাদ মালদহের কালিয়াচকের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। সেই সময় সে জেহাদি সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রথমে কালিয়াচকের মাদ্রাসায় জাহিরুল শেখের কাছে জেহাদি কার্যকলাপের শিক্ষা নেয় এবং পরবর্তীকালে বর্ধমানের শিমুলিয়ার মাদ্রাসায় খাগড়াগড়কাণ্ডে জড়িত ইউসুফের কাছে জেহাদি পাঠ সম্পূর্ণ করে।
তদন্তে গোয়েন্দারা জেনেছেন, কালিয়াচকে মতিনের জেহাদি চর্চায় খুশি হয়ে ইউসুফই তাকে শিমুলিয়ায় নিয়ে গিয়েছিল। সেখানকার পাঠ চোকানোর পর মুর্শিদাবাদের লালগোলার মুকিমনগর এলাকার একটি মাদ্রাসায় হাতকাটা নাসিরুল্লার কাছে তার বিস্ফোরক বানানোর তালিম শুরু হয়। আইইডি থেকে টাইম বোমা—সবই বানাতে সে শিখে যায় দ্রুত। এরপরে মুকিমনগরেই সে অন্যদের বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করে।
২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের কিছুদিন আগেই এরাজ্যে জেএমবি মডিউলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কাজ শুরু করে মতিন। সেই থেকেই ইউসুফ শেখ এবং কওসরের সঙ্গে তার পুরোদমে কাজ শুরু। আরও প্রশিক্ষণের জন্য এরপর সে বাংলাদেশে যায়। এমনকী সেখান থেকে বিভিন্ন সময় বিস্ফোরণের সামগ্রীও এরাজ্যে নিয়ে আসে। খাগড়াগড় কাণ্ডের পর সে ইউসুফের সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়েছিল। সেখানে কওসরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। এরপর কওসরের নির্দেশেই সে দক্ষিণ ভারতে ফিরে আসে। ২০১৬ সাল থেকে মতিন ফের জেএমবি’র নতুন মডিউল তৈরির কাজ শুরু করে। মূলত অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী যুবকরা, যারা বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করে, তাদের ‘মস্তিষ্ক প্রক্ষালন’ করে জেহাদি প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করে সে। এরপর কওসরের সঙ্গে ফের তার যোগাযোগ হয়। এমনকী বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণ ঘটানো নিয়ে তাদের যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানেও মতিন হাজির ছিল। বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের পর মতিন ফের মাঝেমধ্যেই এরা঩জ্যে আসা শুরু করে। জেএমবি’র পুরনো লোকজনকে ফের সক্রিয় করে তোলাই তার কাজ ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র শ্রমিক দিয়ে সব কাজ হবে না, তাই অনুমোদনহীন মাদ্রাসার মাধ্যমে সেখানকার শিক্ষিত যুবকের জেহাদি প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করে।
মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসাই এবার মতিনের লক্ষ্য ছিল। পাশাপাশি বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া শুরু করেছিল সে। তদন্তে গোয়েন্দারা জেনেছেন, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং কেরলে বসেই জেএমবি মডিউলগুলি সক্রিয় করা এবং বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল মতিন। সম্প্রতি কওসরকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসটিএফ মতিনের নাম পায়। সেই সূত্রেই তার খোঁজ চলে। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অবিভক্ত বাংলার মুসলমান উদ্বাস্তু হয়নি কেন ?রাজর্ষি বন্দোপাধ্যায়

IMG-20190204-WA0004গোদা বাংলায় কিছু সত্য না লিখলে, বাঙালির পক্ষে তা অনুধাবন করা কষ্টসাধ্য হয়। আদতে, বাঙালি একটি নির্লজ্জ্ব, ইতিহাস বিস্মৃত জাতি, মানতে কষ্ট হলেও এটাই সত্য। তাই বারেবারে ইতিহাস ঘেঁটে, তাদের সামনে তুলে ধরতে হয় এই আশায় যে, কোনোদিন হয়তো বাঙালির সম্বিত ফিরবে, সে প্রকৃত ইতিহাসকে মর্যাদা দিয়ে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেবে।
গান্ধী বলেছিলো :”আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে দেশভাগ হবে”, আর জিন্নাহ বলেছিলো :’আমি পোকায় কাটা পাকিস্তান চাই না।” বস্তুত, অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই দুই কুলাঙ্গারের কোনো অবদানই নেই। একপা এগিয়ে বলতে হয়, অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যে কজন হাতেগোনা মুসলমানের নাম ইতিহাসের পাতায় খুঁজে পাওয়া যায়, তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ভারতে ব্রিটিশ শাসন হঠিয়ে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা।
ইসলামী জীবন বিধানের পূর্ণাঙ্গ কিতাব কোরানে নির্দেশিত দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা জিন্নাহ ও তার অনুসারী মুসলিম লীগের টাউটরা জেলও খাটনি, দ্বীপান্তরেও যায়নি, গুলি-লাঠিও খায়নি ! স্রেফ হিন্দু নিধনের মাধ্যমে আর ‘ মু মে বিড়ি হাত মে পান. লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ করে একটি মোটামুটি বিশাল রাজত্ব পেয়ে গিয়েছিলো ! (এখন সেটিও দ্বিখণ্ডিত-ইতিহাসের প্রতিশোধ !) । বাঙালি হিন্দুর জীবনে এই স্বাধীনতা এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ! ১৯৪৬ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দুই বাংলাতেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববঙ্গে হয়েছিল একতরফা পরিকল্পিত হিন্দু নিধন ও বিতাড়ন । পশ্চিমবাংলার সাম্প্রদায়িক হানাহানি মূলত শুরু হয় বসবাসকারী অবাঙালি মুসলমানদের উস্কানিতে । শুরুটা তারাই করেছিল । পরবর্তীতে, জোরদার প্রতিরোধ ও পাল্টা জিঘাংসায় পশ্চিমবাংলার এই অবাঙালি মুসলমানেরা পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যায় । এদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ২৫-৩০ হাজার । এছাড়াও সাম্প্রদায়িক হানাহানি শুরু হলে পশ্চিমবাংলার সীমান্ত জেলাগুলো থেকেও কিছু সংখ্যক বাঙালি মুসলমান জমি-সম্পত্তি বিনিময়ের মাধ্যমে পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায় । এদের সংখ্যা প্রায় আনুমানিক ৪০ হাজার ছিল । ভারত সরকারের অনুরোধে পরবর্তীতে এদের প্রায় ২০ হাজার ফেরৎ আসে । পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগী মুসলমানের সংখ্যা এত কম হওয়ার পেছনে যে কারণগুলো কাজ করেছে, সেগুলো হলো :
১.ভারত সরকারের সার্বিক ধর্ম নিরপেক্ষ কাঠামো ধরে রাখা ।
২.পশ্চিমবাংলার মুসলমানদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ।
৩. পূর্ব বাংলার সামাজিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমবাংলার মুসলমানদের মানিয়ে নিতে না পারা ।
৪. সেই সময়ে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতির অভাব ।
একতরফা সাম্প্রদায়িক বাঙালি হিন্দু নিধনযজ্ঞে, পূর্ববঙ্গে সংখ্যালঘুর টেঁকা দায় হবে, এটাই স্বাভাবিক ছিল, আর হয়েও ছিল তাই । বাংলা ভাগের সময় পূর্ববঙ্গে ১.২০ কোটি সংখ্যালঘু হিন্দু জিম্মি ছিল । পূর্ববঙ্গের বাঙালি মুসলমান দ্বিজাতিতত্ত্বকে ১০০% আঁকড়ে ধরে এদের যেন তেন প্রকারে নির্মূল করতে, ভূমিহীন করতে, উঠেপড়ে লেগেছিল ! ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববঙ্গ থেকে ৬০-৭০ লক্ষ সংখ্যালঘু হিন্দু বিতাড়িত করা হয়েছে । অগণিত সংখ্যালঘু হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, মাত্রাহীন হিন্দু নারী ধর্ষিতা হয়েছে এবং পরিশেষে অগুনতি জীবন বাঁচাতে ধর্মান্তরিত হয়েছে । ১৯৪৭ থেকে প্রথম ১০ বছরে ৪১.১৭ সংখ্যালঘু হিন্দু নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়। সুপরিকল্পিত উপায়ে সংখ্যালঘু হিন্দুকে নিশ্চিহ্ন করতে যা যা করা দরকার সকল প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের মদতে  হয়েছে যেমন, লুট,ধর্ষণ,ডাকাতি, মিথ্যে মামলা, চাকরি ক্ষেত্রে অযথা হেনস্থা, বঞ্চনা ইত্যাদি । এমনকি ‘৭১ এ স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়ার পরেও আজও পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলেই আসছে ! বাঙালি হিন্দুই তাই বঙ্গভঙ্গের একতরফা উদ্বাস্তু, আর এর প্রধান কারণগুলো হলো :
১.দ্বিজাতিতত্ত্ব নামক ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা ভাগকে পূর্ববঙ্গের মুসলমান ১০০% প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়েছিল।
২.ইসলামী নিয়ম মেনে ভূখণ্ডকে অমুসলিমহীন করা ।
৩.পশ্চিমবাংলার সেকুলাঙ্গারদের না না অছিলায় এই জঘন্য নীতিকে ডিফেন্ড করা ।
৪.পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের বেক্তি স্বার্থের জন্য ঐক্যের অভাব ।
কথাগুলো রূঢ় জানি, আর এও জানি যে, অনেকেই পড়ে মনে মনে গাল দেন। দিন, আপত্তি নেই, তবু যদি আপনা.দের সম্বিৎ ফেরে.