বড়বাজার কুমারসভা পুস্তকালয়ের শতবর্ষে ডঃ হেডগেওয়ার প্রজ্ঞা সম্মানে ভূষিত হলেন শ্রী হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিত

আজ কলকাতার কলামন্দির প্রেক্ষাগৃহে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডঃ হেডগেওয়ার প্রজ্ঞা সম্মান তুলে দেওয়া হল হিন্দি ভাষার জাতীয়তাবাদী সাহিত্যিক শ্রী হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিতের হাতে। শ্রী হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিত জাতীয়তাবাদী হিন্দি সাহিত্যের অগ্রগণ্য লেখক এবং বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার অধ্যক্ষও। তিনি হিন্দি ভাষায় প্রায় ২৫ টিরও বেশি গ্রন্থের রচয়িতা। আজ এই পুরস্কার দেওয়া হল কলকাতার শতবর্ষ প্রাচীন বড়বাজার কুমারসভা পুস্তকালয়ের পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী কেশরী নাথ ত্রিপাঠি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল শ্রী  রাম নাইক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী লক্ষী নারায়ণ ভালা। সাহিত্যিক হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিতের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শ্রী রাম নাইক মহাশয়।  পুরস্কার নিয়ে শ্রী হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিত তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, ”আমি এই সম্মান পেয়ে গর্বিত। আমি যখন দেশের সেবা কাজে আত্মনিয়োগ করি, সেই কাজে সামান্য সহযোগ হলো আমার এই সাহিত্য রচনা। আর সেই রচনা আজ আমাকে পুরস্কার এনে দেওয়ায় আমি সত্যিই অভিভূত।” উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল শ্রী রাম নাইক তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় সংস্কৃতির অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরে বলেন যে, ভারতের গৌরবময় ইতিহাসের পুনর্জাগরণে বাঙালি সাহিত্যিক বঙ্কিম চন্দ্রের বন্দেমাতরম ধ্বনির অবদান অনস্বীকার্য। আর আজ ভারত যখন ধীরে ধীরে তাঁর হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে, তখন কিছু মানুষ যারা বন্দে মাতরম বলতে অস্বীকার করে, যা সত্যি বেদনাদায়ক।”  রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠি তাঁর বক্তব্যে বার বার ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নাম নেন। তিনি বলেন যে, ভারতের একতায় ও রক্ষায় তাঁর অবদান কখনোই ভোলার নয়। সেই প্রসঙ্গে এক অতীত ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, একবার সংসদে নেহেরু শ্যামাপ্রসাদকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন যে ” I will crush this mentality .” তার উত্তরে শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন, ” I will crush this crushing mentality of yours .” সেইসঙ্গে ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থানে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবদানের কথা মনে করিয়ে দেন।  প্রসঙ্গত এর পূর্বে ডঃ হেডগেওয়ার প্রজ্ঞা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন এম ভি কামাথ, মোরেপন্ত পিঙ্লে, দীনানাথ বাত্রা, শ্রী অশোক সিঙ্ঘল, ডঃ মুরলি মনোহর যোশী -এর মতো উজ্জ্বল ব্যাক্তিত্ব।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মিছিলে জনজোয়ার, হাজার হাজার যুবকের সিংহ গর্জনে কাঁপলো কলকাতা

 

গতকাল ২০শে জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে হিন্দু সংহতি  আয়োজিত মিছিলে হাজার হাজার যুবক পা মেলালেন। বাঙালি হিন্দুর শেষ আশ্রয়স্থল পশ্চিমবঙ্গ রক্ষায় মিছিল থেকে ওঠা স্লোগানে কেঁপে উঠলো কলকাতার রাজপথ। মিছিলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যুবক-যুবতী অংশ নেয়। হাজার হাজার  মানুষের মিছিল আমহার্স্ট স্ট্রিটের শ্রদ্ধানন্দ পার্কের সামনে থেকে শুরু হয়ে এমজি রোড, বিধান সরণি হয়ে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে শেষ হয়। প্রায় ৪ কিলোমিটার লম্বা মিছিল থেকে যুবকেরা পশ্চিমবঙ্গ রক্ষায় স্লোগান তোলেন-”পশ্চিমবঙ্গ আমার মা, জিহাদিস্থান হবে না”, ”পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ হতে দিচ্ছি না, দেব না। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, পূজ্যপাদ স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ, স্বামী আগমানন্দজী মহারাজ, হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে, সহ সভাপতি শ্রী শান্তনু সিংহ ও সমীর গুহরায় ও দেব চট্টোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায় , সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, রাজ্য কমিটির সদস্য শ্রী রজত রায় ও দীনবন্ধু ঘরামী,  সহ সম্পাদক  শ্রী সুজিত মাইতি, কোষাধক্ষ্য শ্রী সাগর হালদার ।  শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত বক্তারা। প্রথমে আশীর্বানী দেন পূজ্যপাদ স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ।  তিনি তার বক্তব্যে যুবকদেরকে বাঙালি হিন্দুর  শেষ আশ্রয়স্থল পশ্চিমবঙ্গ বনাচানোর লড়াইয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন হিন্দু থাকলে রাজ্যের সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষতা , রাজীনীতি থাকবে।  এরপর বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রী রন্তিদেব সেনগুপ্ত। তিনি তাঁর বক্তব্যে, বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড হিসেবে পাকিস্তানের বুক চিরে এই পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও এই রাজ্যের বিভিন্নপ্রান্তে হিন্দুরা জিহাদি আক্রমণের শিকার হয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে ধুলাগড়, নলিয়াখালী, বসিরহাট-বাদুড়িয়া, বগাখালীর কথা তুলে ধরেন। এরপর বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাঙালি হিন্দুর স্বার্থে হিন্দু সংহতির দীর্ঘ আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন এবং সেইসঙ্গে কয়েকটি দাবির কথা জানান। বাংলাদেশ থেকে আগত সমস্ত হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবার দাবি, সকলের জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ করার বাধ্যতামূলক করার দাবি, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ভারত থেকে চিহ্নিত করে তাদের বিতরণ করার দাবি এবং শিয়ালদহ স্টেশনের নাম ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি টার্মিনাস করার দাবি জানান। এরপর তিনি উপস্থিত জনতার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন -আপনারা এই দাবি সমর্থন করেন কিনা। উপস্থিত হাজার হাজার মানুষজন হাত তুলে সমস্বরে এই দাবিগুলিকে সমর্থন জানান। এরপর তিনি হিন্দু যুবকদেরকে বাংলার গ্রামে গ্রামে জিহাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অভেদ্য দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ দিবসের এই মিছিলে কলকাতার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বিশিষ্ট মনুষরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন শ্রী সঞ্জয় সোম,সাহিত্যিক মোহিত রায়,  রাজবংশী কল্যাণ সমিতির প্রমুখ রাজেশ মন্ডল, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রবীণ প্রচারক কেশব রাও দীক্ষিত এবং গজানন বাপট, কলকাতার সালাসার ভক্তবৃন্দ-এর সভাপতি শ্রী বীরেন্দ্র মোদী প্রমুখ।

রাজ্যে জিহাদি শক্তির আক্রমণের প্রতিবাদ মিছিলেহাঁটলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি

mouno micchilসাম্প্রতিককালে উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালি, ন্যাজাট অঞ্চলে মুসলিম জিহাদি  কর্তৃক ঘটে যাওয়া হিন্দু গণহত্যা ও বিতাড়ন তথা NRS-সহ পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে ডাক্তারদের উপর বিজাতীয় জিহাদী অত্যাচার ও তার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রশাসনিক নির্বিকারত্বের প্রতিবাদে একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন “নাগরিক সমাজ”-এর উদ্যোগে গতকাল উত্তর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো এক বিশাল “মৌন মিছিল”-এর। গত ১৫ই জুন, সিমলা স্ট্রীটস্থিত স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি থেকে ঠিক সন্ধ্যে ছ’টায় প্রায় ২৫০-৩০০ সচেতন জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিবর্গ পরিবৃত্ত হয়ে উক্ত মিছিলটির পথচলা শুরু হয় এবং প্রায় সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় শেষ হয় শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে।

সমাজের সর্বস্তরের-সর্বপেশার মানুষ উক্ত মিছিলটির শোভাবর্ধন করেছিলেন। মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রী রন্তিদেব সেনগুপ্ত  মহাশয়, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM), কলকাতার প্রাক্তন অধ্যাপক শ্রী অম্বুজ মোহান্তি মহাশয়, হিন্দু সংহতির বর্তমান সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় ও সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়, “হিন্দু চোর” খ্যাত নাট্যকার শ্রী প্রবীর মন্ডল মহাশয়, ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা শ্রী সুমন ব্যানার্জী মহাশয়, “ছোট বউ” ও অন্যান্য চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী শ্রীযুক্তা দেবিকা মুখার্জী মহাশয়া, রাজনীতিবিদ শ্রীযুক্তা বনশ্রী সেনগুপ্ত মহাশয়াদের মতো ব্যক্তিত্বরা। এ ছাড়াও মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন “অমৃতস্য পুত্রা” খ্যাত সুলেখক শ্রী দেবাশীষ লাহা মহাশয়ের মত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরাও। উক্ত মিছিলে সমাজের সাধারণ মানুষদের যোগদান ছিলো চোখে পড়ার মতো।

হিন্দু সংহতির সহায়তায় আসমিরা এখন তিথি

Tithiহিন্দু সংহতির প্রচেষ্টায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কালিকাপুরের আসমিরা পূর্বপুরুষের সনাতন হিন্দু ধর্মে ফিরে এলেন। মুক্তি পেলো নিকাহ হালালা-তিন তালাকের অভিশাপ থেকে। হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করার পর সে আজ তিথি সরদার ।ক্যানিং থানার তালদি অঞ্চলের বউ। গত ১৪ই জুন হিন্দু সংহতির উদ্যোগে তাঁর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরেরদিন অর্থাৎ তাঁর পরিবার এবং স্থানীয় কিছু মুসলিম তিথিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু রুখে দাঁড়ায় হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীরা। বর্তমানে হিন্দু সংহতি তাদেরকে সবরকম সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবে।

হিন্দুদের নিরাপত্তার দাবিতে রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দিলো হিন্দু সংহতি

রাজ্যে ক্রমবর্ধমান জিহাদি কার্যকলাপের পরিসমাপ্তি, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে হিন্দুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ,সন্দেশখালি হত্যাকান্ডের N I A তদন্ত , রাজ্যের সরকারী হাসপাতালগুলির নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে দেওয়া , রোহিঙ্গা মুসলিমদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে বেআইনি আর্থিক লেনদেন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, এই বিষয়গুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবী করে গতকাল ১৪ই জুন, শুক্রবার হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাননীয় দেবতনু ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে মাননীয় রাজ্যপালের কাছে আমাদের হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান এবং তারপর রাজভবনের গেটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন যে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি কলকাতার হাসপাতালের চিকিৎসকরাও সুরক্ষিত নয়। তিনি দাবি করেন যে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এছাড়ও এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায় ও শ্রী শান্তনু সিংহ, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি এবং রাজ্য কমিটির সদস্য শ্রী রজত রায়।

হেনস্তার শিকার হওয়া আসামের বাঙালি হিন্দুদের পাশে হিন্দু সংহতি

Asamনাগরিকত্ব ইস্যুতে বাঙালি হিন্দুদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো, তাদের হেনস্তার প্রতিবাদে আসামের বাঙালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকায় লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে হিন্দু সংহতির আসাম শাখা। একের পর এক প্রতিবাদ মিছিল, বিক্ষোভ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এর আগে বিদেশি ঘোষিত কয়েকজন বাঙালি হিন্দুর হয়ে মামলা লড়ছে হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত-এর নেতৃত্বে এই আন্দোলন আগামী দিনেও চলবে।

ছবি- দৈনিক যুগশঙ্খ, আসাম (১৩/০৬/১৯)

লাভ জিহাদ নিয়ে হিন্দুদের ভণ্ডামি

Love-Jihad (1)লাভ জিহাদ” নিয়ে চটকদার প্রচারে হিন্দুরা যতটা উৎসাহী, ততটা এর প্রতিকারে আগ্রহী নয়। হিন্দুরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করে, এসবের প্রতিকার সম্ভবপর নয়। অন্ততঃ হিন্দুর দ্বারা এর সমাধান যে অসম্ভব, সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে, হিন্দুরা অবিশ্বাস্য সব তত্ত্ব খাড়া করেন। কেউ বলেন- “আরে, ওদের তো এসব কাজের জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়।” কেউ আবার মনে করেন-“এগুলোর জন্য তো ওরা মাসে মাসে টাকা পায়।” আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়ে কেউ কেউ বলেন- “ওরা তো পীরের কাছে নিয়ে গিয়ে জলপড়া খাইয়ে দেয়। অমনি হিন্দুরা ওদের প্রেমের বশ হয়ে যায়।” সম্প্রসারণটা যে সুস্থ স্বাভাবিক কোন জাতির সম্পূর্ন প্রাকৃতিক চিন্তা হতে পারে, এই ভাবনাটাই হিন্দুদের মাথা থেকে পুরোপুরি লোপ পেয়েছে। প্রকৃতি পূজা করতে করতে যে কেউ এতদূর অপ্রাকৃতিক হয়ে উঠতে পারে, সেটা হিন্দুদের দেখলে বোঝা যায়।

হিন্দুরা মনে করে, তারা নিজের ধর্মকে নিজের কোলে গুটলি পাকিয়ে লুকিয়ে রাখে বলে, সবাইকেই তাই করতে হবে। হিন্দু আর মুসলমানে বিয়ে হলে হিন্দু পুরুষ যথেষ্ট উদারতা দেখিয়ে বলে- “আমি হিন্দু, বউ মুসলমান, তাই আমাদের সন্তান হিদুলমান”! এতে কাগজে কাগজে হাততালি, টিভিতে রেডিওয় পিঠ চাপরানি অনেক কিছুই জোটে। সেজন্য হিন্দুরা আশা করে এর প্রতিদানে আমির খানও নিজের হিন্দু স্ত্রীর সন্তানদের হিঁদুলমান কিংবা মুন্দু বানিয়ে বড় করবেন। কিন্তু মুশকিল হল হিন্দুর কল্পিত পাপবোধ কিংবা পিঠ চাপরানির লোভ ওনাদের মধ্যে একেবারেই নেই। তাই এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আমির খান যখন গর্বভরে ঘোষণা করেন, মায়ের ধর্ম যাই হোক, পিতার ধর্মই সন্তানের ধর্ম হবে- অবাক বিস্ময়ে হিন্দুদের মুখের ভিতর এত বড় বড় হাঁ হয়ে যায়। সন্তানের পরিচয়ের উপর পিতার যে একটা স্বাভাবিক অধিকার বোধ থাকে, এটা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মেরুদন্ড বিকিয়ে দেওয়া হিন্দুদের মনে থাকার কথা নয়। তাই এসব ঘটনা দেখে শুনে, এগুলোকে “লাভ জেহাদ” নাম দিয়ে, হায় হায় করে বেড়ানো ছাড়া হিন্দুদের আর কিছুই করণীয় নেই।

হিন্দুরা সবেতেই গভীর চক্রান্ত খুঁজে পায় এবং সমাধানের বদলে সমস্যা গুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে আরো বড় করে দেখিয়ে আনন্দ পায়। কারণ সমস্যা যত বড় হবে, তার সমাধান তত বেশি করে হিন্দুর হাতের বাইরে হবে। সমাধান হিন্দুর হাতের যত বেশি বাইরে থাকবে, ততই হিন্দুর পক্ষে অকর্মা হয়ে বসে অদৃষ্ট ভরসায় থাকা সহজ হবে। যার সমাধান হিন্দুর হাতে নেই, তার জন্য ঈশ্বরের উপর ভরসা করা ছাড়া তো আর কোন উপায় নেই। হিন্দুও ঠিক ঐটাই চায়। এইসব বিষয়ে বাঙালি হিন্দু বা অবাঙালি হিন্দুর মধ্যে তিলমাত্র ফারাক নেই। তাই নিজের সমস্যা নিজে সমাধানের বদলে হিন্দুরা একেকটি করে অবতার পাকড়ায়। কখনো সেই অবতারের নাম মোদি, কখনো যোগী আদিত্যনাথ, কখনো আবার বিজেপি। অবতার আসে, অবতার যায়; হিন্দুর অবস্থা পাল্টায় না। এক অবতারের পতন হলে হিন্দু নতুন অবতার খুঁজে নেয়। মনে স্থির বিশ্বাস, আগের অবতার না পারলেও, নতুন অবতার এলেই সব দুঃখ ধুয়ে মুছে যাবে। অবশ্য বিশ্বাস না রেখে উপায় আছে? শক্তিহীন, দুর্বল, অকর্মাকে তো অবতারের ভরসাতেই পথ চলতে হবে।

শুধু লাভ জেহাদ বলে নয়, সংখ্যা যুদ্ধের কোন অংশেই হিন্দুর অবতার নির্ভরশীলতা কমে না। সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্রেও হিন্দুরা এক ডজন গোলে পিছিয়ে। সমতা ফেরাতে হিন্দুদের ভরসা নিজের জৈবিক ক্ষমতায় নয়; বরং “জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিধি” নামের একটি কাল্পনিক আইনে। অবতার এখানে আইন রূপে আবির্ভুতা। এই আইন বলে দুটির বেশি সন্তান নেওয়া নিষিদ্ধ হলেই, হাসতে হাসতে হিন্দু বজায় রাখতে পারবে নিজের সংখ্যাগুরুর খেতাব। আইন দিয়ে অন্যদের জনবৃদ্ধিতে লাগাম টানার চিন্তায় হিন্দুরা এতই মশগুল, যে ভেবেও দেখে না যে ভারতের সমস্ত আইনের মত এই আইনেও জব্দ হবে হিন্দু নিজেই। অন্যদের জনবৃদ্ধি বন্ধ হবার প্রশ্নই নেই, উল্টে শাস্তির ভয়ে যে গুটিকয় হিন্দু দুটির বেশি সন্তান নিচ্ছিলেন, তারাও ক্ষান্ত দেবেন। এই আইন নিজের পায়ে কুড়াল মারার অব্যর্থ অস্ত্র। আসলে নিজে ভাল খেলে জেতায় হিন্দুদের আস্থা নেই। হিন্দুরা চায় অন্যেরা খারাপ খেলে হারুক। এখন হিন্দুকে জেতানোর দায় যেহেতু অহিন্দুদের নেই, তাই হিন্দুদেরও আর অন্যকে হারানো হয়ে ওঠে না। হিন্দু যতবার নিজের শক্তির উপর ভরসা না করে চতুর্দিকে অবতার খুঁজে বেড়াবে, ততবার এই অন্ধ বিশ্বাস হিন্দুকেই রক্তাক্ত করবে।

হিন্দুদের মুশকিল হল, তারা যেটাকে মুসলমানের দোষ বলে মনে করে, সেটা মোটেই দোষ নয়, গুন। আর হিন্দুরা যেটাকে নিজেদের গুন বলে মনে করে নিজেরাই নিজেদের পিঠ চাপড়ে বেড়ায়, সেটা কোন গুন নয়, মারাত্মক দোষ। আপনি সম্প্রসারণে অনিচ্ছুক হলে, তার দায় মুসলমানের? বিধর্মী বিয়ে করে সন্তানকে উভধর্মী নামক হাঁসজারু বানিয়ে হিন্দুসংখ্যা কমাব আমরা, আর দোষ হবে মুসলমানের? স্বধর্মের প্রচার ও প্রসারে আপনার অনীহা থাকলে, তার দোষ মুসলমানের? নিজের দোষ না দেখে সর্বত্র অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো চূড়ান্ত অক্ষমের লক্ষ্মণ। কারণ দোষটা নিজের হলে আপনি সেটা শুধরে নিতে পারেন। দোষটা যদি অন্যের হয়, তবে সেটা শুধরে দেওয়া আপনার কর্ম নয়। নিজেদের সমস্যা সমাধানের উপায় নিজেদেরই খুঁজতে হবে। কোন অবতার এসে আকাশবাণী ছড়িয়ে হিন্দুকে বাঁচিয়ে দিয়ে যাবে না। বাঁচতে হলে, রাজত্ব করতে হলে, তার জন্য হাসিমুখে অনেক ত্যাগ স্বীকারও করতে হবে। নয়তো একদিন ভারতের শেষ হিন্দু অঞ্চলের শেষতম হিন্দুটির গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে, গলা নামিয়ে চুপিসারে বলতে হবে- “দেখেছেন, দেশটাকে কিরকম মিনি পাকিস্তান বানিয়ে ফেলেছে”?

লেখা- স্মৃতিলেখা চক্রবর্তী

সন্দেশখালীতে হিন্দু গণহত্যায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে ক্যানিং-এ প্রতিবাদ মিছিল হিন্দু সংহতির

আজ বিকেলে সন্দেশখালীতে হিন্দু গনহত্যার প্রতিবাদে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করলো হিন্দু সংহতির নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও মিছিল থেকে গণহত্যার প্রধান অভিযুক্ত শাজাহান শেখের ফাঁসির দাবি তোলা হয়। এই প্রতিবাদ মিছিল পুরো ক্যানিং বাজার পরিক্রমা করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন হিন্দু সংহতির রাজ্য কমিটির সদস্য শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী, কোষধক্ষ্য শ্রী সাগর হালদার, অনিল মন্ডল, ভাস্কর সর্দার , স্বপন মন্ডল এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শীতলকুচিতে বিজেপি -তৃণমূলের সংঘর্ষের আড়ালে আক্রান্ত হিন্দু; বাড়ি-ঘর, দোকান ও মন্দির ভাঙচুর; চললো গুলি

বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলের সংঘর্ষ সাম্প্রদায়িক রূপ নিলো। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার  জেলার শীতলকুচি ব্লকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ই জুন, শনিবার শীতলকুচিতে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি বিজেপি মিছিল বের করা হয় শীতলকুচি বাজারের পাশেই রথের ডাঙ্গাতে। যখন মিছিল একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, সেইসময় মিছিলের কয়েকজনের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে করেকজন বিজেপি সমর্থক। সেই থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। তারপরেই কিছুক্ষনের মধ্যেই বিশাল সংখক মুসলমান টিএমসির ঝান্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। একের পর এক হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। রথের ডাঙায় হিন্দুদের দোকানপাট ভাঙচুর করে মুসলমানেরা পুলিসের সামনেই। RAF শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। উন্মত্ত মুসলিম জনতাকে আটকানোর চেষ্টা করেনি। ফক্করের হাটের বেছে হিন্দুদের দোকানগুলিতে ভাঙচুর চালায় মুসলিমরা। ধীরে ধীরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পাগলাপীর, পঞ্চারহাট এলাকায়। হিন্দুদের লক্ষ করে গুলিও চালায় মুসলিমরা। এছাড়াও, এটা যে শুধু রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছিল না, তাঁর প্রমান মেলে অচিরেই। টিএমসির ঝান্ডাধারী উন্মত্ত মুসলমান জনতা ভাঙচুর করে পাগলাপীর এলাকার হরিমন্দির, ফক্করের হাটের হরিমন্দির এবং পঞ্চারহাটের হরিমন্দির। গুলিতে আহত হয় দুইজন হিন্দু যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে বিজেপি তকমা দিয়ে এই আক্রমণের আসল লক্ষ্য ছিল হিন্দুরা। ঘটনা পর্যালোচনা করে সেই ইঙ্গিতও মিলছে।

হিন্দু সংহতির কর্মী প্রদীপ মন্ডল খুনের প্রতিবাদে তালদিতে রেল অবরোধ হিন্দু সংহতির

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালীর ভাঙ্গিপাড়া গ্রামের নিহত হিন্দু সংহতির কর্মী এলাকার হিন্দু নেতা প্রদীপ মন্ডলকে খুন করার প্রতিবাদে আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কানিংয়ের তালদি স্টেশনে পথ অবরোধ করলো হিন্দু সংহতি। প্রদীপের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল । সে ছিল বিজেপি কর্মীও। আজ কয়েকশ হিন্দু সংহতি কর্মী, সমর্থক স্বপন মন্ডল, সাগর হালদার এবং রাজ্য কমিটির সদস্য দীনবন্ধু ঘরামীর নেতৃত্বে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার তালদি স্টেশনে রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। এই বিক্ষোভ, অবরোধে বক্তব্য রাখেন শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এই অবরোধ চলে। শেষে সাধারণ মানুষদের অসুবিধার কথা ভেবে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক সংঘর্ষ রূপ নিলো হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষের, হিন্দু সংহতির কর্মী প্রদীপ মন্ডলসহ মৃত্যু ৪ হিন্দুর, আশঙ্কাজনক ১

 

এলাকায় বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে ছিল গ্রামের বিজেপি সমর্থকরা। সেই পতাকা টিএমসি আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীরা খুলতে গেলে বাধা দেয় বিজেপি সমর্থকরা। তারপরেই দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। কিন্তু আশ্চর্জনকভাবে সেই সংঘর্ষ রূপ নিলো হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষের। একতরফা ভাবে হিন্দুদের গ্রাম আক্রমণ করে বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। মুসলিম দুষ্কৃতীদের বেপরোয়া গুলি চালনায় ৩ জন হিন্দুর মৃত্যু হলো।  ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত সন্দেশখালির হাটগাছিতে। স্থানীয় হিন্দুরা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আজ বিকেলে ৪টা নাগাদ সন্দেশখালির মুসলিম দুষ্কৃতী শাজাহান শেখের নেতৃত্বে ও মদতে প্রায় ১৫০০-এর বেশি টিএমসি মুসলিম দুষ্কৃতী হাটগাছি এলাকার ননকোড়া ভাঙ্গিপাড়া গ্রাম আক্রমণ করে। ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা হিন্দু সংহতির কর্মী এবং এলাকার দাপুটে হিন্দু নেতা প্রদীপ মন্ডলের বাড়ি ঘিরে গুলি চালাতে থাকে। এছাড়াও আশেপাশের হিন্দুদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা।  সেই গুলিতে আরও ২ জন হিন্দুর মৃত্যু হয়। তাঁরা হলো- প্রদীপ মন্ডল(৪০), সুকান্ত মন্ডল(২৫), শংকর মন্ডল(৩২),  ও তপন মন্ডল। আরও ১ জন গুলিবিদ্ধ। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এলাকার স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন যে বিকেল থেকে এলাকায় মুসলিম দুষ্কৃতীরা বোমা-গুলি নিয়ে আক্রমণ করলেও পুলিসের দেখা মেলেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ যে শাজাহান শেখের নির্দেশে পুলিস  নিষ্ক্রিয় ছিল এবং এলাকায় পৌঁছাতে দেরি করে। হিন্দু সংহতির কর্মীদের মৃত্যুতে হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য শোকাহত। তিনি বলেন, ”দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেশখালি এলাকায় সাজাহান সেখের দৌরাত্ম্য চলছে। এই সাজাহান শেখ আদ্যোপান্ত জেহাদী এবং ক্রিমিনাল। একসময় সরবেরিয়া-আগারাটি অঞ্চলের সিপিএমের পঞ্চায়েত প্রধান মোসলেম শেখের পোষা গুন্ডা হিসেবে লাল ঝান্ডা নিয়ে এলাকায় হিন্দুদের উপরে সন্ত্রাস চালাতো এই সাজাহান শেখ। বর্তমানে সে তৃণমূলের নেতা এবং এই তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে সে এলাকার হিন্দুদের উপরে আগের মতোই অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। সাজাহান সেখের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত প্রদীপ মন্ডল হিন্দু সংহতির একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। এক বছর আগে তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতে শুরু করেন। রাজনৈতিক সংঘর্ষের অজুহাতে ওই এলাকার হিন্দুদের অন্যতম লড়াকু নেতা প্রদীপ মন্ডলকে খুন করা হল। আমরা অবিলম্বে সাজাহান সেখের গ্রেফতার দাবী করছি। রাজনৈতিক রঙ্ দিয়ে হিন্দু অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যা করার পরিণাম ভয়ঙ্কর হবে। যারা এই সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে, জনগণ তাদের‌ও হিসাব বুঝে নেবে।”

ঈদের দিন হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ আসানসোলের দিলদারনগরে

Asansolগত ৫ই জুন, বুধবার ঈদের দিন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো আসানসোলের ৪১নং ওয়ার্ডের দিলদারনগর এলাকা। স্থানীয় এক বাসিন্দা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে ঈদ উপলক্ষে মুসলমানেরা ডিজে বাজাচ্ছিল। সন্ধে হতেই ডিজের সাউন্ড বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে মদ্যপ মুসলিম যুবকেরা রাস্তা দিয়ে যাওয়া হিন্দুদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এছাড়াও এলাকার হিন্দু মন্দিরগুলির সামনে মদ্যপ মুসলিম যুবকেরা জটলা পাকাতে থাকে। এলাকার কিছু হিন্দু ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করলে মুসলিম যুবকেরা তাদের আক্রমণ করে। ইটের আঘাতে কয়েকজন আহত হয়। তারপরেই ওই মুসলিম যুবকেরা হিন্দুদের বাড়ি, গাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট ছুড়তে থাকে। এরপর কিছু হিন্দু যুবক প্রতিরোধ শুরু করে। দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইট ছোড়াছুড়ি হয়। মুসলিমরা কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়। এইসবের পরে রাতে এলাকায় বিশাল পুলিসবাহিনী ও RAF এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা বিভিন্ন পাড়ায় টহল দেয়। এসডিপিও সায়ক দাস বলেন, সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ভোট দিতে নিষেধ; না মানায় হিন্দু গ্রামের ওপর নেমে এলো টিএমসি আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীদের অত্যাচার

গ্রামের হিন্দুদের সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিতে নিষেধ করেছিল আশেপাশের গ্রামের টিএমসি আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীরা। কিন্তু নিষেধ না মানায় হিন্দুদের ওপর নেমে এলো অত্যাচার। ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা থানার অন্তর্গত নিত্যানন্দপুর গ্রামের। নিষেধ উপেক্ষা করে গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা ২৩শে মে ভোট দেন। তারপরেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে গত ৩০শে মে নিত্যনন্দপুর গ্রামে জাহাঙ্গীর খানের নেতৃত্বে একদল মুসলিম দুষ্কৃতী আসে। এসে গ্রামের হিন্দুরা বিজেপি সমর্থক এই অভিযোগ তুলে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে। পরে আবার ১লা জুন এসে আবার কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর এবং বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী লুঠ করে নিয়ে যায়। নিত্যনন্দপুর গ্রামের ১৮০ নং বুথের শ্যামল ঘোষ, গোপাল ভুইঁয়া, সঞ্জয় ভুইঁয়া, শৃঙ্খল ভুইঁয়া, মনিতোষ ভুইঁয়া এবং বিক্রম ভূইঁয়ার বাড়িঘর ভাঙচুর করে ও টাকা পয়সা, টিভি ও সাইকেল লুঠ করে নিয়ে যায়। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি গ্রামের মহিলারা। বাধা দিতে গেলে মহিলাদের বেধড়ক মারধর করে ওই দুষ্কৃতীরা। তাদের মারে আহত হয় কয়েকজন। বুথের জলের কলের হাতল ভেঙে দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। এছাড়াও একইভাবে ওই  গ্রামের ১৮১ নং বুথের হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চালায় দুষ্কৃতীরা। ওই বুথের হিন্দুদের মারধর করা হয়। দুষ্কৃতীদের মারে কমবেশি আহত হন মদন ঘোষ, সঞ্জয় ভৌমিক, কাবেরী ভৌমিক, বিক্রম ভৌমিক, বিধান ভৌমিক, শৃঙ্খল ভৌমিক, ইলা ঘোষ এবং গোপাল ভুইঁয়া। এছাড়াও প্রবীর কোটালের পা ভেঙে যায় দুষ্কৃতীদের আক্রমণে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এছাড়াও এই বুথের পানীয় জলের কোলের ভিতর বালি-সিমেন্ট ঢুকিয়ে দিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতীরা। ফলে জলের উৎস বন্ধ হয়ে যায়।  গ্রামের বাসিন্দারা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে, পঞ্চায়েত এবং পুলিস-প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এমতবস্থায় আতঙ্কে ওই বাসিন্দারা অন্য গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।