এনআরসি-তে বিদেশী ঘোষণা, অবসাদে আত্মহত্যা করলেন আসামের দলগাওঁয়ের শিক্ষক নীরোদবরণ দাস

dorongপ্রকৃত ভারতীয় হয়েও নাম নেই নাগরিকপঞ্জীর খসড়া তালিকাতে। আর তার ফলেই দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন আসামের দরং জেলার দলগাওঁয়ের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নীরোদবরণ দাস। তার ওপর এনআরসি সেবাকেন্দ্রে গেলে তাকে জানানো হয় যে তিনি বিদেশী। আর সেই মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা করলেন তিনি। গতকাল ২১শে অক্টোবর, রবিবার নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এনআরসি কতৃপক্ষের ভুলে আর একজন হিন্দু বাঙালিকে মরতে হলো বলে তার পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন। তবে  এই ঘটনা আসামের বাঙালি হিন্দুদের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরলো বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ সম্পূর্ণ খসড়া প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ লক্ষ হিন্দু বাঙালি দেশের নাগরিক হওয়া সত্বেও আতঙ্কে রয়েছেন। এই আতঙ্ক মোটেই অমূলক নয়। নাগরিকপঞ্জির খসড়া প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বহু জেলার বিশেষ করে নিম্ন আসামের জেলাগুলির হিন্দু বাঙলিরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন নীরোদবরণ দাস। তবে কোনোরকম মামলা ছাড়াই কিভাবে তাকে বিদেশী ঘোষণা করলেন এনআরসি কতৃপক্ষ,তা নিয়ে পরিবারের লোকেরা প্রশ্ন তুলেছেন ইতিমধ্যেই। তবে এই ঘটনা নিয়ে আসামের হিন্দু বাঙালিদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কিভাবে কোনো মামলা ছাড়াই বিদেশী ঘোষণা করা হলো নীরোদবরণ দাসকে, তা খতিয়ে দেখতে  দরং জেলার এসপি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

Advertisements

হাওড়ার উদয়নারায়নপুরের রামপুরের কুমারী পুজোর শোভাযাত্রায় বাধা মুসলিমদের

গত ১৮ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার মহানবমীর দিন, হাওড়া জেলার উদয়নারায়নপুর থানার অন্তর্গত রামপুর গ্রামে কুমারীপূজা উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা গ্রামের পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন স্থানীয় মুসলিম যুবক অশ্লীল মন্তব্য করে এবং মতিয়ার রহমান বলে পাশের গ্রাম আকুন্দার এক যুবক কুমারী -এর ওপর জল কুলকুচি করে ফেলে দেয় এবং কুমারীপূজার আয়োজনকে অপবিত্র করে।এই ঘটনায় শোভাযাত্রায় থাকা কয়েকজন হিন্দু ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে ।তখন ওখানে থাকা কয়েকজন মান্যগণ্য বয়স্ক ব্যাক্তি মতিয়ারকে ছেড়ে দেন এবং উদয়নারায়নপুর থানায় ফোন করেন।কিন্তু বেলা ১১টায় ঘটনা ঘটলেও পুলিশ আসতে আসতে ৩টা বেজে যায়।পুলিস এসে দোষীকে গ্রেপ্তার না করে স্থানীয় হিন্দুদের কাছে ঘটনার খবর নিয়ে চলে যায়।পুলিস জানায় যে মতিয়ার পলাতক ।এতে স্থানীয় হিন্দুরা ক্ষুব্ধ হয়।এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

আসামের বরপেটায় দূর্গা প্রতিমা ভাঙচুর, উত্তেজনা এলাকায়,সিআরপিএফ মোতায়েন

Barpetaগত ১৮ই অক্টোবর মহা নবমীর দিন আসামের বরপেটা জেলার হাউলির আনন্দবাজার এলাকার দুর্গা প্রতিমায় ভাঙচুর চালানো হলো। ঐদিন ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটে যখন মণ্ডপে কেউ ছিল না। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা দুর্গা প্রতিমার মাথা ভেঙে দেয়। সকালে স্থানীয় বাঙালি হিন্দু বাসিন্দারা এটি দেখার পর রাস্তায় নেমে আসেন এবং বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আশেপাশের অঞ্চলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ বাঙালি হিন্দুরা দোষীদের গ্রেপ্তার করার দাবিতে  বরপেটা-হাউলি সড়ক অবরোধ করে। এই ঘটনায় আসামের সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের মিডিয়া উপদেষ্টা হৃষিকেশ গোস্বামী। তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং বিক্ষুব্ধ হিন্দুদের সঙ্গে কথা বলেন। ছুটে আসেন বরপেটার পুলিস সুপার ভায়োলেট বড়ুয়া। তিনি দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন হিন্দুরা। উত্তেজনা থাকায় বিশাল সংখক সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে এবং ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে হাউলি এলাকায়।

গাজীপুরে হিন্দু কিশোরীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ, ধর্মান্তকরণ, পুলিশের চেষ্টায় উদ্ধার

বাংলাদেশের গাজীপুর থেকে এক হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করলো মুসলিম দুষ্কৃতীরা। গত ১২ই অক্টোবর, শুক্রবার মেয়েটিকে অপহরণ করা হয়। এমনকি অপহরণের পর দুষ্কৃতীরা তাকে বগুড়াতে নিয়ে যায় এবং তাকে গণধর্ষণ করা হয় এবং পরে তাকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হয়। পরে পুলিসের চেষ্টায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মেয়েটির নাম সোনালী রানী দাস। তার বাড়ি সিলেট জেলার হবিগঞ্জ উপজেলার মাখালকান্দি গ্রামে। সে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতো। সেখান থেকেই তাকেই অপহরণ করে কয়েকজন মুসলিম যুবক। মেয়ের অপহরণের খবর পাওয়ার পর মেয়েটির পিতা গৌরাঙ্গ দাস বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের সাহায্যে সোনাতলি থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিস তদন্তে নেমে মেয়েটিকে বগুড়ার একটি গ্রাম বয়ড়া থেকে উদ্ধার করে। তবে পুলিস কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি এখনো পর্যন্ত।

বাগনানে দুঃস্থ মহিলাদের শাল ও বস্ত্র বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি কর্মীরা

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দুস্থ মানুষদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে হাওড়া জেলার বাগনানের হাটুড়িয়া মাতৃভূমি সেবাশ্রম ক্লাবে বস্ত্র বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি। এই অনুষ্ঠানটি গত মহাসপ্তমীর দিন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির বাগনান শাখার কর্মীরা  শিশুদের নতুন জামা, বয়স্কদের হাতে নতুন শাল তুলে দেন।হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ জনের বেশি মানুষকে নতুন বস্ত্র ও শাল দেওয়া হয়। স্থানীয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা হিন্দু সংহতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পিরোজপুরের কালীমন্দিরে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ২ মুসলিম দুষ্কৃতী

বাংলাদেশের পিরোজপুরের সদর উপজেলার পাঁচপাড়া সর্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়ে প্রতিমাটিকে পাশের পুকুরে ফেলে দিলো একদল মুসলিম দুষ্কৃতী। গত ১২ই অক্টোবর,শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। পরেরদিন সকালে স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা ভাঙা মন্দির দেখতে পেয়ে ঢাকা-পিরোজপুর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয় হিন্দু জনতা। পরে ঐদিন পুলিস ওহেদ হাওলাদার(৪৫) এবং মফিদুল ইসলাম(৫০)-কে গ্রেপ্তার করে।  স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যে ধৃতরা সকলেই আওয়ামী লীগের সদস্য এবং এই মন্দির ভাঙার পিছনে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের হাত রয়েছে। কারণ এর আগে মন্দিরের জমি নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন শহিদুল ইসলাম। তাই স্থানীয় হিন্দুরা শহিদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

নদীয়ার পলাশীপাড়ায় বস্ত্র বিতরণ হিন্দু সংহতির

বাঙালি হিন্দুর আনন্দের দুর্গাপূজায় যে সমস্ত হিন্দু বাসিন্দাদের নতুন বস্ত্র কেনার অক্ষমতা রয়েছে, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে নদীয়া জেলার পলাশীপাড়া থানার অন্তর্গত বানিয়া কলোনি পাড়া গ্রামের মহিলাদের এবং শিশুদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিলো হিন্দু সংহতি। আজ মহা সপ্তমীর দিনে এই অনুষ্ঠানে শতাধিক মহিলা এবং শিশুদের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রীমতি রাখি সরকারসহ স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মীরা।

বর্ধমানে আদিবাসী শিশুদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিলো হিন্দু সংহতি

হিন্দু সংহতি বর্ধমান সদর শাখার উদ্যোগে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে গত ১৪ই অক্টোবর, রবিবার  শহরের একটি অঞ্চলের আদিবাসী শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হলো। এই অনুষ্ঠানে ১০০ জন আদিবাসী শিশুর হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানটি শহরের নব বিধান সংঘ ক্লাব প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্যা স্নেহা নস্কর, জেলা সংযোজক শ্রী সঞ্জয় সূত্রধর এবং বর্ধমান সদর শাখার অন্যান্য কর্মকর্তারা।

লস্কর জঙ্গি নইম-এর বিচার শুরু হলো বনগাঁ আদালতে

উদ্দেশ্য ছিল জম্মু-কাশ্মীরের সেনা ছাউনির উপর হামলা এবং ভারতে জঙ্গিঘাঁটি তৈরি করা। এই গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েও লস্কর-ই-তোইবার জঙ্গি নেতা শেখ আবদুল নইম ওরফে সমীর ফিল্মি কায়দায় ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে, ওই মামলায় ইতিমধ্যেই তার সহযোগীদের তথা দুই পাকিস্তানি সহ তিন লস্কর জঙ্গির ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে বনগাঁ মহকুমা আদালত। এনআইএ’র হাতে ফের ধরা পড়ার পর অবশেষে গতকাল ১০ই অক্টোবর, বুধবার ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত জঙ্গি নেতা নইমের শুনানি শুরু হল এই বনগাঁ মহকুমা আদালতে।
পুলিস ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল শেখ আবদুল নইম ওরফে সমীর, মহম্মদ ইউনুস, আবদুল্লা এবং মুজাফ্ফর আহমেদ রাঠের নামে চারজন লস্কর জঙ্গিকে পেট্রাপোল সীমান্তে আটক করে বিএসএফ। বনগাঁ থানার পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তভার নেয় সিআইডি। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন, ভারতে হামলার জন্য এই চারজনই পাকিস্তানে লস্কর শীর্ষনেতাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে। একে-৪৭ চালানো, গ্রেনেড ছোঁড়া এবং বোমা তৈরির প্রশিক্ষণও নিয়েছিল। চারজনের মধ্যে নইমই ছিল প্রধান জঙ্গিনেতা। তার বাড়ি মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে। সে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিল। ইংরাজিতে দক্ষ। ভারতীয় আইন সম্পর্কেও তার জ্ঞান রয়েছে।  গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে মুম্বইয়ে বোমা বিস্ফোরণেও যুক্ত ছিল নইম। তাই বনগাঁ আদালতে মামলা চলাকালীন ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে এ রাজ্য থেকে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু, ছত্তিশগড় এলাকা থেকে সে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। তারপর কোনও খোঁজ ছিল না। এদিকে, মামলা চলতে থাকে বনগাঁ আদালতে। সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ১২১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি বনগাঁ মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক-১ কোর্টের বিচারক বিনয়কুমার পাঠক তিন জঙ্গি সদস্য আবদুল্লা, ইউনুস ও মুজাফ্ফরের ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেন। সাজা ঘোষণার ১১ মাস পর ওই বছরের ২৮ নভেম্বর লখনউ থেকে নইমকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ।
বনগাঁ মহকুমা আদালতে এই মামলার সরকারি পক্ষের আইনজীবী সমীর দাস বলেন, নইম প্রধান অভিযুক্ত। সিআইডি তাকে তিহার জেল থেকে গত ৭ তারিখ দমদম সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে আসে। ওই মামলায় এদিন নইমকে বনগাঁ মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক-১ কোর্টের হাজির করানো হয়েছিল। এদিন থেকে শুনানি শুরু হল। নইমের কোনও আইনজীবী ছিলেন না। সে নিজেই নিজের শুনানিতে অংশ নিয়েছিল। সে বিচারককে জানিয়েছে, সে যাতে বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, তার জন্য তাকে ফোন করার সুযোগ দেওয়া হোক। দিল্লিতে তার পরিবারের সদস্যরা আছে। আগামী, শুক্রবার ফের হাজিরা রয়েছে। তাই তার জন্য লিগ্যল এইড থেকে একজন আইনজীবী দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

দুর্গাপূজার অনুদান দেবার বিরুদ্ধে হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে

দুর্গাপূজায় অনুদান দেবার বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল একটি পক্ষ থেকে। তাদের হয়ে মামলা লড়ছিলেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। হাইকোর্ট প্রথমে এর ওপর স্থগিতাদেশ দিলেও গতকাল ১০ই অক্টোবর, বুধবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশীষ করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানালো, এই বিতর্কে আদালত হস্তক্ষেপ করতে নারাজ। তবে পরবর্তীতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আদালত সরকারের খরচ সম্পর্কিত কোনো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সেইসঙ্গে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাটিও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এছাড়া, অনুদানের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশটিও প্রত্যাহার করে নিয়েছে আদালত। এর ফলে অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইলো না। কিন্তু এই রায়ে অনুদানের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা মোটেই খুশি নয়। মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কোনো সরকার একটি পয়সা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার কাঠামোকে ধ্বংস করার কাজে খরচ করতে পারে না। পুজোর পরেই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর কথাও  জানিয়েছেন মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য।

বড় দেরি করে ফেলছি আমরা।

                                                                      -শ্রী রজত রায়।
      দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ তখন সমাপ্তির পথে। রাশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান আর পরিবেশ এবং সেইসঙ্গে  লাল ফৌজের দ্বারা  মার্শাল স্ট‍্যালিনের পোড়ামাটির নীতির সফল প্রয়োগ হিটলালের বিখ্যাত Sixth Army-এর  ধ্বংস  নিশ্চিত করল। পাল্টা আক্রমনে লাল ফৌজ জার্মানির একের পর এক ভূখন্ড দখল করে রাজধানীর দিকে আগুয়ান। জাপানের প্রতিরোধ নিঃশেষিত। কিন্তু যে মারনাস্ত্র আমেরিকা তৈরী করেছে তার প্রয়োগ না ক‍রলে  তো মারনক্ষমতা বোঝা যাবে না। ১৯৪৫ এর ৬ আগস্ট আর ৯ আগস্ট  হিরোসিমা আর নাগাসাকিতে ফেলা হল ‘The Little Boy’ আর ‘The Fat Man’ পরমানু বোমা। ধ্বংসস্তুপের শহর হিরোসিমাতে এক আমেরিকান সেনা অফিসার কথা বলছিলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। সব প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিচ্ছিলেন। জেনারেল ম্যাকআর্থার‌। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রবাহিনীর জয়ের প্রধান স্থপতি। যুদ্ধে পরাজয়ের কারন উল্লেখ করার সময় ঐ জেনারেল সবসময় বলতেন, আমি দুটো মাত্র শব্দে যুদ্ধে পরাজয়ের কারনকে ব্যাখ্যা করতে পারি-  ”I can explain the cause of defeat only in two wards, ” too late” অর্থাৎ  বড় দেরী। বন্ধু বা শত্রূ  চিনতে দেরী, সিদ্ধান্ত নিতে দেরী, বিপদসংকেত অনুধাবন করতে দেরী। যদি বাংলার হিন্দুসমাজ বিপদের অশনি সংকেত বুঝতে দেরী করে তবে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে পরাজয় অবশ্যম্ভাবি।তার থেকেও বড় কথা, বাঙ্গালী হিন্দু বিপদটা কি সেটা বুঝেও না বোঝার ভান করে এড়িয়ে যায় অথবা বিজ্ঞতার মুখোশের আড়ালে নিজের অজ্ঞতাকে লুকিয়ে রাখে অথবা উটপাখির মত বালিতে মুখ গুজে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে‌।
     কয়েকদিন পূর্বে মধ্য কলকাতার রাজপথ কাপিয়ে একটা মিছিল হয়েছে।উদ্যোক্তা All Bengal Minority Youth Federation. ওই সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মহম্মদ কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে টিপু সুলতান মসজিদের সামনে থেকে শুরু হওয়া ঐ মিছিলটা কি এমনি আর পাচটা মিছিলের মতো ছিল? মিছিলটা কি পুলিশের অনুমতি নিয়ে হয়েছিলো? মিছিলের সুর কি তারে বাধা ছিলো? মিছিলের দাবীগুলির মধ্যে কি ভবিষ্যৎ বিপদের ঘন্টাধ্বনির সুস্পস্ট শব্দ শোনা যাচ্ছিলো না?
        দাবী ছিলো ইমাম ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু এইটুকু হলে একটা কথা ছিলো। কিন্তু মিছিলকারীদের বক্তব্য ছিলো, শারদীয়া উৎসব উদযাপনে অনুদান দিলে আমাদের ইমামভাতাও বৃদ্ধি করতে হবে। কি অকল্পনীয় স্পর্ধা। যদি বাংলাদেশে মুসলমানদের অনুষ্ঠানের  জন্য  সরকারী অনুদানের প্রশ্নে হিন্দুরা তাদেরও অনুষ্ঠানে অনুদান বা পুরোহিতদের অনুদানের দাবীতে মিছিল করতো , তাহলে সেই মিছিলকারীরা অক্ষত অবস্থায় বাড়ী ফিরতে পারতো কি? জানি, অনেকে বলবেন ওটা ইশ্লামিক রাষ্ট্র, আর আমাদেরটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু প্রশ্নটা রাষ্ট্রব্যবস্থার চারিত্রিক কাঠামোকে কেন্দ্র করে নয়। দাবীটার মধ্যে সমাজের বৃহত্তর অংশকে চ্যালেঞ্জ জানাবার প্রতিস্পর্ধার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ কি যথেষ্ট উদ্বেগছনক নয়? এরপরের দাবী আরো মারাত্মক। মুসলিম পুলিশ কমিশনার চাই এবং পুলিশে মুসলিম সংখ্যাবৃদ্ধি চাই। এটা আমাদের গনতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা। এই দাবীর পিছনে কারন কি? বর্তমান পুলিশি ব্যবস্থায় কলকাতা মহানগরীতে মুসলিমরা কি অসুরক্ষিত?এমন কোনও ঘটনা কেউ কি শুনেছেন? তাহলে এই দাবী কি উদ্দেশ্যে? অন্য সব দপ্তর বাদ দিয়ে পুলিশ বিভাগ কেন? এটা কি কোন অনেক অনেক বড় পরিকল্পনার অঙ্গ? যদি কলকাতা পুলিশে মুসলমান সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মুসলমান হয় ,তবে কলকাতায় ওরা কোন গোপন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করবে? ১৯৪৬ এর কোলকাতা দাঙ্গার ইতিহাস কি ওরা মনে মনে লালন পালন করে?
         আশ্চর্যজনকভাবে রাজনৈতিক দলগুলি এ বিষয়ে নীরব। মনে হচ্ছে মৌনব্রত পালন করছে। সুবোধ বিকাশরা গলা জড়াজড়ি করে ক্যামেরার সামনে গোরুর মাংস খেতে পারে, অথচ হাত ধরাধরি করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না। এই ঘটনাকে উপেক্ষা করলে ভয়াবহ ভবিষ্যতকে আমন্ত্রন করা হবে।বিনা অনুমতিতে মিছিল এবং সেই মিছিল থেকে চরম সাম্প্রদায়িক দাবী। পুলিশ উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে সঠিক ধারায় মামলা রুজু করেছে কি ? কোন অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছে সে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। মুসলমান সমাজের অগ্ৰগন্য ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্যে ঘোষনা করা দরকার  ঐ বেআইনী , অসাংবিধানিক দাবীগুলির সঙ্গে আমরা সহমত পোষন করি না।ওগুলি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবী। তবে তো সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় দেওয়া হবে। ঐ দাবীগুলির পিছনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির মদত নেই তো?নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলা। নিজেরা হাত গুটিয়ে অপরের ভরসায় থাকলে ভগবানও  রক্ষা করবেন না। ঐ জেনারেল ম্যাকআর্থারের  তত্ত্ব অনুযায়ী বড় দেরী হলে বড় পরাজয়।স্বামীজী বলতেন, আহাম্মকের কথা মানুষ শোনে না , তো ভগবান কি শুনবেন। সেই বিপদ বুঝে উঠতে বড্ড দেরি করে ফেলছি আমরা। আর এইভাবে ভবিষ্যত ভারতের কাছে আমরা নিজেদের যেন আহাম্মক বলে প্রমানিত না করি

লাভ জিহাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সচেতনতামূলক বই প্রকাশ হিন্দু সংহতির

লাভ জিহাদের ষড়যন্ত্রের জাল আজ সারা বাংলা জুড়ে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে হিন্দু মা-বোনেরা  হিন্দু সমাজ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। হিন্দু সমাজের কাছে সেই ষড়যন্ত্রকে তুলে ধরে সমাজের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ”প্রেম, বিবাহ এবং এক বিশ্বব্যাপী ষড়যন্ত্রের উপাখ্যান” নামক বইটি প্রকাশিত হলো। বইটির প্রকাশক সংহতি ফাউন্ডেশন। একঝাঁক অনামী লেখক-লেখিকাদের বাস্তবধর্মী লেখা নিয়ে বইটি প্রকাশিত। গত ৭ই অক্টোবর, রবিবার কোলকাতার বড়বাজার লাইব্রেরি হল-এ বইটি প্রকাশ করেন সেই সমস্ত মহিলারা যারা ইসলামের অন্ধকার ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজের ইচ্ছায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

নোদাখালীর পোয়ালি হাজরাপাড়ায় বস্ত্র বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

clothes 3

হিন্দু বাঙালির সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজার আনন্দে সামিল হতে যে সমস্ত গরিব হিন্দু পরিবারগুলির নতুন কাপড় কেনার ক্ষমতা নেই, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নোদাখালী থানার অন্তর্গত পোয়ালি হাজরাপাড়ায়  বস্ত্র বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি। গত ৭ই অক্টোবর, রবিবার সকালে পোয়ালি হাজরাপাড়ার যুবশক্তি সংঘের মাঠে এই বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সহযোগী ছিল কলকাতার ”সালাসার ভক্তবৃন্দ”। এই অনুষ্ঠানে ২০০ মহিলাকে নতুন শাড়ি বিতরণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দরগোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি এবং সালসার ভক্তবৃন্দ -এর পক্ষ থেকে সঞ্জয় পোদ্দার। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্থানীয় হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রী জয়দেব সিং এবং অন্যান্যরা।

মহালয়ার পুণ্যলগ্নে আসামের শিলচরে হিন্দু সংহতির বিরাট বাইক মিছিল, হিন্দু বাঙালির নাগরিকত্বের দাবি উঠলো

মা দুর্গার আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে, মহালয়ার পুণ্যলগ্নে এক বিরাট বাইক মিছিল অনুষ্ঠিত হলো আসামের শিলচর শহরে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল হিন্দু সংহতির বরাক শাখা। আজ সকাল ৮ ঘটিকায় উধারবন্দের কাঁচাকান্তি মন্দির প্রাঙ্গন থেকে এই বিরাট মিছিল শুরু হয়। হিন্দু সংহতির যুব কর্মীদের অন্য একটি মিছিল উধারবন্দ থেকে শুরু হয়ে কাঁচাকান্তি মন্দির প্রাঙ্গনে মিলিত হয়। এই মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীদের সিংহভাগই হলো যুবক-যুবতী।  হাজার হাজার যুবক-যুবতী  মাথায় হিন্দু সংহতির নামাঙ্কিত গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে মিছিলে অংশ নেন। মিছিল থেকে হাজার হাজার যুবক হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্বের দাবিতে জোর আওয়াজ উঠলো। মিছিল লাঠির পাড়, বাগানবাড়ি এলাকা ঘুরে কাঁচাকান্তি মন্দিরে শেষ হয়। সেখানে মিছিলে অংশ নেওয়া সবাইকে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌড়ীয় মঠের ভক্তিবেদান্ত স্বামী সিথি মহারাজ। এই অনুষ্ঠানটির নেতৃত্ব দেন বরাক উপত্যকার সভাপতি শ্রী পান্তু চন্দ মহাশয় এবং শিলচরের বিশিষ্ট আইনজীবী সম্রাট দত্ত  মহাশয়।