ঈদের দিন তমলুকে মিথ্যে অপবাদে হিন্দু ছেলেকে পিটিয়ে মারলো মুসলমান দুষ্কৃতীরা

ঈদের দিনে অর্থাৎ ১৬ই জুন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক থানার লালদিঘি গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় চন্দ্র মুসলিম অধ্যুষিত মথুরি গ্রামে একজনের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু ওই এলাকায় সঞ্জয়বাবুকে দেখে তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মুসলিমরা ঘিরে ধরে প্রচণ্ড মারতে থাকে। তারপর মুসলিম দুষ্কৃতীরা তাকে স্থানীয় ক্লাবে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নগ্ন করে মারধর করা হয়। তিনি বারবার অনুরোধ করেন যে তিনি পাশের লালদিঘি গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু উন্মত্ত জিহাদি মানসিকতার মুসলিমরা তার কোনো কথাই কানে তোলেনি। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, মুসলিমরা তার যৌনাঙ্গ পরীক্ষা করে হিন্দু বুঝতে পারার পরই নৃশংসতা বেড়ে যায়। তার গলায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাস্তায় ফেলে প্রচুর মারধর করে মুসলিমরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তমলুক থানার পুলিস। পুলিস সঞ্জয় চন্দ্রকে অর্ধমৃত অবস্থায়  উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর গত ২২শে জুন, শুক্রবার সঞ্জয় চন্দ্র মারা যায়। এই ঘটনায় তমলুক শহরের বাসিন্দারা দোষীদের  তমলুক শহরে বিক্ষোভ। দেখায় শেষমেশ চাপে পরে পুলিস ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
Advertisements

হলদিয়ার ভবানীপুরের গৌরাঙ্গ ধাম মন্দিরের পর এবার গঙ্গেশ্বর শিব মন্দিরে চুরি

হলদিয়ায় একের পর এক হিন্দু মন্দিরে চুরি হয়ে চলেছে। গত ২১ জুন, বৃহস্পতিবার রাতে হলদিয়ার ভবানীপুর থানার অন্তর্গত  দেভোগ অঞ্চলের বড়বাড়ি গ্রামের শতাব্দী প্রাচীন গঙ্গেশ্বর মন্দিরে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরের দিন ২২শে জুন, শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাইতরা প্রথম চুরির ঘটনা জানতে পারেন। তাঁরা এসে দেখেন মন্দিরের দরজা খোলা রয়েছে এবং প্রণামী বাক্স মাঠে পড়ে রয়েছে। মন্দির কমিটির সম্পাদক ও সদ্য জয়ী স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সত্যেন তুঙ্গ বলেন, শিবের মাথার রূপোর মুকুট ছাড়াও ভক্তদের দান করা রূপোর তৈরি ৩০টি ত্রিশূল, ৩০টি বেলপাতাসহ প্রায় এক লক্ষ টাকার সামগ্রী চুরি গিয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগেই এক কিলোমিটার দূরে এলাকার গৌরাঙ্গ ধাম মন্দির চুরি হয়েছিল। পরপর হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির চুরির ঘটনায় স্থানীয় মানুষজন উদ্বিগ্ন।  ক্ষুব্ধ স্থানীয় হিন্দুরা জানিয়েছেন যে পরিকল্পিতভাবেই একের পর হিন্দু মন্দিরে চুরি করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। এক্ষেত্রে প্রশাসন যেন দুষ্কৃতীদের যারা ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেবার উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজ করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেয়, সেই দাবি জানান।

নিখোঁজ বীরভূমের নাবালিকা সাথী ঘোষ, আশঙ্কা লাভ জেহাদ

ঘটনাটি ঘটে বীরভূমের সিউড়ি থানার অন্তর্গত সিউড়ি শহরের ১৪ নং ওয়ার্ড দত্তপুকুর পাড়ায়।
মেয়েটির নাম সাথী ঘোষ(নাম পরিবর্তিত)। বয়স ১৪ বৎসর। লোকের বাড়িতে কাজ করে, মা যমুনা ঘোষ(নাম পরিবর্তিত)। প্রায় ২ বছর আগে সিউড়ি পুরসভায় ১৪নং ওয়ার্ডে জলট্যাঙ্কের কাজে কয়েকজন বাইরের শ্রমিক কাজ করতে এসেছিলো। তাদেরই একজন হিজেকে হিন্দু নাম-পরিচয় দিয়ে সাথীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ৩০শে মে সাথী বাড়ি থেকে কাজ করতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। তার ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগও করেত পারেনি বাড়ির লোক। প্রায় ২ দিন পর সাথী তার কাকাকে ফোন করে জানায় যে সে একটি ছেলের সঙ্গে পালিয়ে এসেছে। তার নাম বলে সুমন। পরেরদিন ফোন করে বলে যে ছেলেটি নাম ইমন। তারা কোন জায়গায় তাও জানায়নি সাথী। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে যারা পুরসভার কাজে এসেছিলো তারা সকলেই মুসলমান ছিল। তাই আশঙ্কিত সাথির পরিবারের লোকেরা  সিউড়ি থানায় মেয়েকে ফিরে পাবার আবেদন জানায়। এমতবস্থায় পরিবারের লোকের আশঙ্কা হয়তো সাথী কোনো পাচারকারীর খপ্পরে পড়তে পারে।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিষ্ণু মন্দিরে আগুন দিলো দুষ্কৃতীরা

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় রাতের আঁধারে পেট্রোল দিয়ে বিষ্ণু মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা । এতে মন্দিরে স্থাপিত কষ্টি পাথরের বিষ্ণু দেবের বিগ্রহ অক্ষত থাকলেও মন্দিরের পূজার সামগ্রীসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলার ১নং রাজিহার ইউনিয়নের পশ্চিম গোয়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শ্রী শ্রী বিষ্ণু মন্দিরে গত ৬ই জুন, বুধবার গভীর রাতে দুর্বিত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ৭ই জুন, বৃহস্পতিবার সকালে এসআই দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  পুলিশের উপস্থিতিতে মন্দিরের পাশের বাড়ির প্রত্যক্ষদর্শী সনাতন মোড়লের ছেলে কৃষ্ণ কান্ত মোড়ল জানান, রাত দুইটার দিকে প্রকৃতির ডাকে সে ঘরের বাইরে এলে মন্দিরে আগুন জ্বলতে দেখে তিনি দৌড়ে মন্দিরে উপস্থিত হয়ে ডাক চিৎকার দিয়ে আগুন নেভাতে শুরু করেন। এসময় তার ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজনও ছুটে এসে আগুন নেভায়। আগুনে মন্দিরের ব্যবহৃত জিসিনপত্র পুড়ে গেলেও মন্দিরে স্থাপিত কষ্টি পাথরের বিষ্ণু দেবের বিগ্রহ অক্ষত রয়েছে। এসআই দেলোয়ার জানান, ওই মন্দিরের একটি কক্ষে কষ্টি পাথরের বিষ্ণু দেব, একটিতে কালী প্রতিমা ও অন্যটিতে শীতলা দেবীর পূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। মন্দিরের দেব দেবীর প্রতিমা তালাবদ্ধ অবস্থায় সুরক্ষিত থাকলেও দুর্বৃত্তরা মন্দিরের বারান্দায় রাখা খর কুটো গ্রীলের ফাঁকা দিয়ে বিষ্ণু দেবের কক্ষে ঢুকিয়ে তাতে পেট্রোল দিয়ে অগ্নি সংযোগ করেছে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পেট্রোলের পত্যিাক্ত বোতল উদ্ধার করেছে। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, এঘটনায় মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

 

নিউ টাউনে নাবালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার মহম্মদ আসলাম

নিউ টাউনে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করার দায়ে  এক যুবককে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। গত ১৮ই জুন, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নিউ টাউনের হাতিয়াড়ায়। ধৃতের নাম মহম্মদ আসলাম। পরেরদিন মঙ্গলবার রাতে আসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে নিজের বাড়ি থেকে দিদির বাড়িতে যাচ্ছিল মেয়েটি। রাস্তায় আচমকাই তাকে মুখ চেপে একটি অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যায় কয়েকজন ছেলে। সেখানেই তার উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছে, কোনও মতে সে নিজেকে ওই যুবকদের হাত থেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে আসে। সোজা বাড়িতে এসে অভিভাবকদের ঘটনার কথা জানায় মেয়েটি। এর পরই পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। রাতেই নিউ টাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পকসো আইন, অপহরণ, গণধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। নাবালিকার মেডিক্যাল টেস্ট করানো হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে নিউ টাউন থানার পুলিশ। গতকাল ২০শে জুন, বুধবার মূল অভিযুক্ত মহম্মদ আসলামকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

নাটোরের নলডাঙ্গায় মন্দিরে আগুন এবং প্রতিমা ভাঙচুর করলো দুষ্কৃতীরা

বাংলাদেশের নাটোরের নলডাঙ্গায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে আগুন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমাও ভাঙচুর করেছে দুষ্কৃতীরা। গত ১৮ই জুন, সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার মোমিনপুর ঘোষপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি অজিত কুমার ঘোষ নলডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, উপজেলার মোমিনপুর ঘোষপাড়ায় ঘোষ সম্প্রদায়ের ৮-১০টি পরিবারের একটি পারিবারিক মন্দির অবস্থিত। মন্দিরের ভিতরে রক্ষিত বাঁশ ও পাটশলায় আগুন দিয়ে এবং একটি সরস্বতী প্রতিমা ভাঙচুর করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা । স্থানীয়রা জল দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে ১৯ই জুন, মঙ্গলবার সকালে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ওসি নুর হোসেন খন্দকার জানান, তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ইউএনও রেজা হাসান জানান, ঘটনাটি দেখে মনে হয়েছে ঘোষ সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি তৈরি করার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে একই এলাকায় আদিবাসি সম্প্রদায়ের একটি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছিল।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে গ্রেপ্তার নারী পাচারচক্রের মাথা তসলিমা

একসময় নিজেই পাচার হয়ে গিয়েছিল। পরে সেই হয়ে যায় মুম্বইয়ে নারী পাচার চক্রের অন্যতম মাথা। মুম্বইয়ের নারী পাচারচক্রের এহেন বড় চাঁই তসলিমাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুর থানার পুলিস গত ১৬ই জুন, শনিবার রাতে ঘোড়াদলের বৈদ্যপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তসলিমার সঙ্গে দশ বছরের এক নাবালককে পাওয়া গিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মথুরাপুরের বাসিন্দা তসলিমা চার বছর বয়সে বেপাত্তা হয়ে যায়। পরে জানা যায়, তাকে মুম্বইতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। অনেক পরে তসলিমা নিজেই নারী পাচারের এক বড় পাণ্ডা বনে যায়। মথুরাপুর ছাড়াও ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ মহকুমার নানা এলাকা  থেকে নানা টোপ দিয়ে একাধিক কিশোরীকে মুম্বই নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। পুলিস অনেকদিন ধরেই তাকে খুঁজছিল। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছিল না। তিন মাস আগে কাকদ্বীপ মহকুমার হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার এক নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার স্বামীর  মাধ্যমে মুম্বইতে বিক্রি করে দেয়। দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পর মুম্বইয়ের একটি বার থেকে সেই নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গফুরকেও। শনিবার হারউড কোস্টাল থানার পুলিস খবর পায়, তসলিমা মথুরাপুরে ঘাঁটি গেড়েছে। বিষয়টি মথুরাপুর থানাকে অবগত করা হয়। এরপর তার ছবি দেওয়া হয়। সেই সূত্র ধরে মথুরাপুর থানার ওসি শিবেন্দু ঘোষ বিশাল পুলিস বাহিনী নিয়ে ঘোড়াদলের বৈদ্যপাড়া থেকে তসলিমাকে ধরে।

উলুবেড়িয়াতে ঈদের রাত্রে হিন্দু মন্দিরে মদের বোতল ও ইট ছুড়লো দুষ্কৃতীরা

হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া শহরের কালীবাড়ির  জেটিঘাট এলাকা। ওই রোডের পাশে একটি কালী মন্দির রয়েছে। আর মন্দিরের আশেপাশেই রয়েছে বেশকিছু হিন্দু মালিকানাধীন দোকানঘর। গত ১৭ই জুন, রবিবার রাতে ওই মন্দিরে দুষ্কৃতীরা কালীপ্রতিমা ভাঙচুর করার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে মদের বোতল, ইঁট-পাথর ছোড়ে। ইটের আঘাতে মন্দিরের পুজোর থালা,পুজোর প্রদীপ ও অন্যান্য বাসনপত্র এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। তারপর পাশের কয়েকটি হিন্দু দোকানের টালির চাল ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীরা। তবে মন্দিরের বাইরে লোহার শক্ত দরজা থাকায় মন্দিরের বড়োসড়ো কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। তা নাহলে দুষ্কৃতীরা প্রতিমা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারতো বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, তাদের সন্দেহ মুসলিম দুষ্কৃতীদের দিকেই। কারণ ঈদের কয়েকদিন  আগেই মুসলিমরা জোর করে মন্দিরের কাছেই ঈদের গেট তৈরি করে, যদিও মুসলিম পাড়া অনেক দূরে অবস্থিত । আর সেই ঈদের গেট তৈরি  করা নিয়ে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে মন কষাকষি ছিল। তাছাড়া মন্দিরের থেকে দুমিনিটের হাঁটাপথেই উলুবেড়িয়া থানা, উলুবেড়িয়া মহকুমা শাসকের অফিস থাকা সত্বেও কিভাবে মন্দিরে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে হামলা চালাতে পারলো,তা নিয়ে স্থানীয় হিন্দুরা ক্ষুব্ধ। ঘটনায় পুলিস এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মন্দিরের সামনে বর্তমানে পুলিস মোতায়েন রয়েছে।

প্রেমপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হিন্দু নাবালিকাকে কেমিক্যাল ইনজেকশন দিলো মুসলিম ছাত্র

প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলের মধ্যেই এক নাবালিকা ছাত্রীকে কেমিক্যাল ইনজেকশন দিলো স্কুলেরই মুসলিম ছাত্র। এই চাঞ্চল্যকর এবং অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে আসামের শিলচরের ঘুঙঘুর থানা এলাকার ললিত জৈন মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। স্কুলেরই মুসলিম ছাত্র মহম্মদ রবিউল করিম মজুমদার স্কুলে যাওয়া আসার পথে সবসময় উত্যক্ত করতো হিন্দু নাবালিকা রমা দাস (নাম পরিবর্তিত, বয়স ১৪ বছর) কে। একাধিকবার প্রেম প্রস্তাবও দেয় রবিউল। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে রমা। কিন্তু তার ফলে যে এতবড়ো মূল্য দিতে হবে তা রমা নিজেও কল্পনা করতে পারেনি। গত ৭ই জুন, বৃহস্পতিবার স্কুলের ল্যাবরেটরিতে ক্লাস চলাকালীন রবিউল  পিছন থেকে রমার হাতে একটি সিরিঞ্জ ফুটিয়ে দেয়।  তারপর মেয়েটি বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু বিকেলে রমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায়  তাকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানায় যে রমার শরীরে কেমিক্যাল ইনজেকশন করা হয়েছে। এই ঘটনায় দোষী রবিউল মজুমদারের গ্রেপ্তার ও শাস্তি চেয়ে ঘুঙঘুর থানায় রমার মা অভিযোগ দায়ের করেছেন। উনি স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মীদের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু দোষী রবিউলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। পুলিশ জানিয়েছে সে ও তার পরিবার পলাতক। রবিউলের গ্রেপ্তার চেয়ে গত ১১ই জুন, সোমবার হিন্দু সংহতির কর্মীরা ঘুঙঘুর থানায় ডেপুটেশন দেন।

বালিয়াবাসন্তি-তে পরম্পরাগত কালী মাতার আরাধনায় আমন্ত্রিত সংহতি সভাপতি

furfura(baliya-basonti)গত ১২ই জুন, হুগলী জেলার অন্তর্গত বালিয়াবাসন্তি(বর্তমানে ফুরফুরা শরীফ) এলাকার পরম্পরাগত রক্ষাকালী মায়ের আরাধনার প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়। এই কালীমাতা এলাকার হিন্দুদের কাছে  ধাড়া মায়ের পুজো নাম পরিচিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় এই বালিয়াবাসন্তি একসময় হিন্দু বাগদি রাজাদের রাজত্ব ছিল। কিন্তু মুসলিম আক্রমণকারীরা তা দখল করে নেয় এবং বাগদি রাজাদের রাজধানী ফুরফুরা শরীফে পরিণত হয়। এই ধাড়া কালিমায়ের পুজোর সঙ্গে স্থানীয় হিন্দুদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এই পুজোতে আশেপাশের এলাকাগুলি থেকে বিশাল সংখ্যক হিন্দু উপস্থিত ছিল। এই অনুষ্ঠানে দেবতনু ভট্টাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির অন্যতম উপদেষ্টা শ্রী শান্তনু সিংহ মহাশয় এবং সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়।

গরু ব্যবসায়ীদের আক্রমণের সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললেন আদিবাসী হিন্দু মহিলারা

গত বুধবার অর্থাৎ 13/06/2018 তারিখ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কোতয়ালী থানার(সদর) 7 নং বনপুরা অঞ্চলের মহাদেব চক গ্রামে আদিবাসীদের উপর ঘটে গেল বিরাট পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলা।পাশের গ্রামের গরু ব্যাপারী মথু – মহাদেব চকের ঠাকুর দাস টুডুর কাছ থেকে গরু কিনবে বলে ঘটনার দুদিন আগে অর্থাৎ 11 তারিখে 30000.00 টাকার গরুকে রাজী না হওয়া সত্ত্বেও জোর করেই 29000 টাকায় কিনবে বলে 100 টাকা দিয়ে চলে যায়। 13/06/2018 তারিখ এসে 29000 টাকা ঠাকুর দাসের পরিবারের সামনে ছুড়ে ফেলে দিয়ে পুরো টাকা না দিয়ে গরু নিয়ে যাওয়ার জন্য বচসা শুরু হয়।  আনুমানিক 30 মিনিট পর বিকেল তখন প্রায় 4.30 হবে পাশের গ্রামের বনপুরা ও অযোধ্যা নগর গ্রাম থেকে সানোয়ার মল্লিক(45) এর নেতৃত্বে 50-60 জনের মতো মুসলমান হাতে বোম পিস্তল (লাঠি, রডতো ছিলই) নিয়ে এসে আদিবাসী গ্রামে হামলা করে। এমনকি এই আক্রমণের সময় মুসলিমরা কয়েকজন আদিবাসী হিন্দু মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে। জিহাদি মুসলমানদের এই আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্যে আদিবাসী মহিলারা তীর ছোঁড়েন জিহাদি মুসলমানদের দিকে লক্ষ্য করে। তাতে বেশ কয়েকজন মুসলমান তীরবিদ্ধ হন। তা দেখে সব মুসলিমরা পালিয়ে যায় এলাকা ছেড়ে। এই হামলায় পোলিও রোগজনিত কারনে অসুস্থ টিংকু সোরেনের(20) মাথায় কোপ মারে। তাতে টিংকু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। টিংকুর চা দোকান সহ আশেপাশের দোকান ও ঘর লুটপাট করতে থাকে। টিংকুর চা দোকানের TV ও DTH সহ প্রায় 20000 টাকার মালপত্র লুটপাট করে পরে দোকান ভাঙচুর করে । পাশের দিলীপ সোরেনের গেরেজ ছিল 7-8 টি সাইকেল ও 2 টি মোটর সাইকেল সহ প্রায় 50000 টাকার দোকানের জিনিসপাতি নিয়ে যাওয়ার সময় দোকান ঘর ভাঙচুর করে। আরো পাশের আরো অনেকের ঘর ভাঙচুর করে।

এই আক্রমনে মহাদেবচকের টিংকু সোরেন (25) কাদু টুডু (24), লক্ষি হেমব্রম (45) গুরুতর জখম অবস্থায় হসপিটালে ভর্তি হয়। আর এমনিতেই সাবিত্রী সোরেন (30), চিতা টুডু (35), অঞ্জলি সোরেন (25), মদন টুডু (37), গুরুদাস মান্ডি (30) আহত হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা হচ্ছে।

বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয় গাঁদা সোরেন (35) , বিরাম সোরেন (32) , চন্দনী সোরেন (মহিলা) (45), তপন মুর্মূ (60), কৃষ্ট মুর্মূ (28), লক্ষণ কিসকু (27), পানি টুডু (45) ইত্যাদি আদিবাসী ভাইবোনেদের। স্থানীয় আদিবাসী ভাই-বোনেরা জানিয়েছেন যে, এই আক্রমণ ছিল পরিকল্পিত। কারণ ঐদিন আদিবাসী গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য ছিল। কারণ আদিবাসীদের দাবিবাওয়া নিয়ে বিডিও অফিস ডেপুটেশন ছিল। তবে পুলিস খুব দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করেছে। মূল অভিযুক্ত গরু ব্যবসায়ী মথু কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এই ঘটনায় আদিবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক, খুন হতে হলো সিঙ্গুরের অঞ্জু মহাপাত্রকে

গত ১১ই জুন, সোমবার হুগলী জেলার অন্তর্গত সিঙ্গুরের বলরামপুরে ইকো পার্কে গলার নলি কেটে খুন করা অঞ্জু মহাপাত্র নাম হিন্দু মহিলাকে। তার তদন্তে নেমে গত ১৪ই জুন, বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া থানার গড়বাটি থেকে পুলিস পেশায় রংমিস্ত্রি আরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার করলো। পুলিস জানিয়েছে, প্রায় ২২ বছর আগে  অঞ্জু মহাপাত্রের সঙ্গে জয়দেব মহাপাত্রের বিয়ে হয়। তাদের ১৯ বছরের এক মেয়ে এবং ১৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। জয়দেব মহাপাত্রের সঙ্গে রঙের কাজ করতো ধৃত আরশাদ। সেই সূত্রে বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিল আরশাদ আলীর। আর সেই সূত্রে  অঞ্জু এবং আরশাদের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু কয়েকমাস আগেই স্বামীর মৃত্যুর পর এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন  অঞ্জু মহাপাত্র। কিন্তু সেটা মেনে নিতে পারেনি আরশাদ। তাই পরিকল্পনা করে  অঞ্জুকে ডেকে নিয়ে যায় আরশাদ এবং সন্ধ্যার দিকে গলার নলি কেটে খুন করে পার্কে দেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় । পুলিশ ফোনের কললিস্টের সূত্র হরে গ্রেপ্তার করে আরশাদকে। পুলিসের জেরায় আরশাদ খুনের কথা স্বীকার করেছে। গত ১৬ই জুন, শুক্রবার আরশাদকে চন্দননগর আদালতে তোলা বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

জলপাইগুড়িতে হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করলো মালদা থেকে আসা মুসলিম শ্রমিকরা

১২ বছরের এক হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে আটকে রাখলো মালদহ থেকে আসা ৬জন মুসলিম ঠিক শ্রমিক। গত ১১ই জুন সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি শহরের ১৭নং ওয়ার্ডের আনন্দপাড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি পুরসভার পাম্পিং স্টেশনের কাজ চলছে। আর সেই কাজের সূত্রে মালদহের গাজোল থেকে ওই ৬জন মুসলিম ঠিকা  শ্রমিক কাজ করতে জলপাইগুড়ি শহরে এসেছিলো। তারা মেয়েটির পাড়াতেই ভাড়া থাকছিল। ঘটনার দিন অর্থাৎ ১১ই জুন, সোমবার বিকেলে টিউশন পড়তে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি মেয়েটি। বাড়ির লোক অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে শেষে থানার দ্বারস্থ হয়। প্রায় ৭ঘন্টা খোঁজাখুঁজি করার পর ওই নির্মাণকর্মীদের ঘর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ ও স্থানীয়রা । পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে চমকে যান। তারা দেখতে পান, ওই হিন্দু নাবালিকা মেয়েটিকে হাত,পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে ওই শ্রমিকদেরকে বের করে আনে ক্ষিপ্ত স্থানীয়রা এবং প্রচুর মারধর করে।জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার  পুলিশ সরাফ আলী (১৮), আখতার আলী (২৮), ভাদরু শেখ(৩০) এবং গুল মহম্মদ (২২)-সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। নাবালিকা মেয়েটির পরিবার থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছে। এই ঘটনায় জলপাইগুড়ি শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বহিরাগত শ্রমিক দিয়ে এলাকার কাজের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কাছাড়ের বন্যাদূর্গত হিন্দুদের ত্রাণ বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

গত ১৬ই জুন, শনিবার আসামের কাছাড় জেলার রংপুরের বন্যাদুর্গত হিন্দুদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো হিন্দু সংহতির আসাম শাখার সদস্যরা।উল্লেখ্য  গত কয়েকদিন ধরেই কাছাড় জেলার বিভিন্ন অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাতেই অনেক হিন্দু এলাকা বিশেষ করে রংপুরের শিমুলতলা ও আশেপাশের এলাকাগুলি জলে প্লাবিত হয়ে যায়। আর সেই সমস্ত মানুষগুলিকে খিচুড়ি বিতরণ করা হয় হিন্দু সংহতির তরফ থেকে। এই কাজে হিন্দু সংহতির তরুণ কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ট্রেন বিতরণের সময় কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বরাক উপত্যকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রী পান্তু চন্দ মহাশয়।