অনুশীলন সমিতি- বাঙালি হিন্দুর বিপ্লবের আঁতুরঘর

FB_IMG_1553401781312কলকাতার অনুশীলন সমিতির স্থাপন হয় ২৪ মার্চ, ১৯০২। এর  উদ্দেশ্য ছিল অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা অর্জন।
অনুশীলন সমিতি বিশ শতকের প্রথমভাগে বাংলায় গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম। এ সমিতি ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল। বিশ শতকের প্রথম দশকে বাংলার যুবকদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক উন্নয়ন- এ তিন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিবেদিত ক্ষুদ্র যুবসংগঠনগুলির মধ্য থেকে বিপ্লবী দলগুলির জন্ম হয়েছে বলে ধরা যায়।  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,  স্বামী বিবেকানন্দ ও অরবিন্দ ঘোষ কর্তৃক বিকশিত মতবাদের দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাঁরা বাঙ্গালীদের আত্মিক, শারীরিক ও বুদ্ধিতে বলিষ্ঠ হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁদের চিন্তা-চেতনাকে কার্যকর করার জন্য প্রকৃত বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদ শুরু হওয়ার বহুপূর্ব হতেই মানসিক যোগাভ্যাস ও শারীরিক ব্যায়ামের জন্য গ্রাম ও শহর এলাকায় অনুশীলন সমিতি নামে অসংখ্য যুব সংগঠন গঠিত হয়।
বিপ্লবী আন্দোলনের প্রস্তুতির অঙ্গ হিসাবে অতীস চন্দ্র বসুর উদ্যোগে এবং ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্রের সভাপতিত্বে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে ২৪শে মার্চ কলকাতার ১২ নং মদন মিত্র লেনে অনুশীলন সমিতি স্থাপিত হয় । এই সমিতির আর একজন প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সতীশচন্দ্র বসু । এই সময় সহসভাপতি হন চিত্তরঞ্জন দাস এবং অরবিন্দ ঘোষ এবং অনুশীলন সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
যে সব আশু ঘটনাবলির কারণে বিপ্লববাদ হঠাৎ করে শুরু হয়েছিল সেগুলি হলো লর্ড কার্জনের অপ্রিয় শিক্ষা সংস্কার ও বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)। ১৯০৬ সালের মার্চ মাসে সমিতির সদস্যবৃন্দ যুগান্তর নামে একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা প্রকাশনার কাজ শুরু করে। এতে বিদ্রোহের কথা খোলাখুলিভাবে প্রচার করা হয়। সারা বাংলায় সমিতির শাখা স্থাপিত হয়।
১৯০৫ সালে ঢাকায় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে বিপিনচন্দ্র পালের জ্বালাময়ী বক্তব্য  শ্রোতাদেরকে ভীষণভাবে আলোড়িত করে এবং এতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিপিনচন্দ্র পালের বক্তব্যের  পর ঢাকা সরকারি কলেজের এককালের শিক্ষক ও পরবর্তী সময়ে ঢাকায় ‘ন্যাশনাল স্কুলে’র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক পুলিনবিহারী দাসের নেতৃত্বে ৮০ জন যুবক ১৯০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায়  ঢাকা অনুশীলন সমিতি গঠন করে। এর প্রধান কার্যালয় ছিল ঢাকাতে। পুলিনবিহারী দাস কর্তৃক ঢাকা অনুশীলন সমিতি পরিচালিত হয়।
সমিতি ও স্বদেশী আন্দোলনের লক্ষ ও কার্যপদ্ধতি প্রায় একই রকম ছিল। কলকাতা অনুশীলন সমিতি ও ঢাকা অনুশীলন সমিতি অনেকটা রাশিয়া ও ইতালির গুপ্ত সংগঠন গুলির আদলেই গড়ে উঠেছিল। উনিশ শতকে শেষে ও বিশ শতকে প্রথমদিকে বিপ্লবী আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্র ১৯০২ সালে কলকাতা অনুশীলন সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। বরোদার মহারাজার আর্মি বাহিনী থেকে সামরিক ট্রেনিং প্রাপ্ত তরুণ বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ ব্যানার্জী ও অরবিন্দ ঘোষের ছোট ভাই বারীন্দ্রকুমার ঘোষ তাঁকে এটি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতা অনুশীলন সমিতি সদ্যসদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করার মাধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল এবং ১৯০৭ বা ১৯০৮ সাল পর্যন্ত এ সমিতি তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ রূপ পরিগ্রহ করে নি।
১৯০৭ সাল হতে অনুশীলন সমিতির সদস্যগণ বিপ্লবী কর্মকান্ডে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নব প্রতিষ্ঠিত পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের লেফটেন্যান্ট গভর্নর যে ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন সেটি বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর অল্প কয়েকদিন পর ২৩ ডিসেম্বর তারা ঢাকার প্রাক্তন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. অ্যালেনকে হত্যা করার চেষ্টা করে। ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল তারা ভুলবশত দুজন নিরপরাধী মহিলা মিসেস ও মিস কেনেডিকে হত্যা করে। অথচ তাদের টার্গেট ছিল কলকাতার ম্যাজিস্ট্রেট ও পরবর্তীকালে বিহারের মুজাফ্ফরপুরের জেলা জজ ডগলাস কিংসফোর্ড। মুজাফ্ফরপুরের ঘটনার সাথে জড়িত প্রফুল্ল চাকি পরবর্তীসময়ে ধরা না দিয়ে আত্মহত্যা করেন এবং তাঁর সহযোগী ক্ষুদিরাম বসু ধরা পড়েন ও বিচারে তাঁর ফাঁসি হয়। বাংলার বিপ্লবের ইতিহাসে মুজাফ্ফরপুরের হত্যাকান্ড একটি বিখ্যাত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। এ ঘটনার পর থেকে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী বাংলার জনগণের নায়কে পরিণত হন। পরবর্তী সময়ে কলকাতার মানিকতলার বাগানে একটি বোমা তৈরীর কারখানা আবিষ্কার হয়। অনুশীলন সমিতির জনৈক নেতা বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে তথাকথিত আলীপুর ষড়যন্ত্র মামলার আওতায় বিচারাধীনে আনা হয়।
আলীপুর মামলার কারণে ধরপাকড় ও পুলিশি হানা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। ফলে অনুশীলন সমিতিতে বিভাজন দেখা দেয়। যদিও সমিতিগুলি একটির থেকে অন্যটি স্বাধীন ছিল, তবুও প্রমথনাথ মিত্র, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং পুলিনবিহারী দাসের যৌথ পরিচালনায় সেখানে কেন্দ্রীয় অ্যাকশন কমিটির মতো একটি কমিটি ছিল। সরকার সমিতিগুলিকে দুটি প্রধান দলে চিহ্নিত করে- যুগান্তর দল ও ঢাকা অনুশীলন দল। মোটামুটিভাবে পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের বিপ্লবীদেরকে যুগান্তরের নামানুসারে যুগান্তর দল এবং পূর্ববঙ্গের বিপ্লবীদেরকে ঢাকা অনুশীলন সমিতি বলে চিহ্নিত করে। পশ্চিমবঙ্গের বৈপ্লবিক কর্মকান্ড ১৯১০ সালের পর হতে কিছু কালের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন থেকে বৈপ্লবিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র পূর্ববঙ্গে স্থানান্তরিত করা হয়।
সাংগঠনিকভাবে ঢাকা অনুশীলন সমিতি পুলিনবিহারী দাসের পরিচালনাধীনে একটি স্বাধীন সংগঠন ছিল। কিন্তু প্রমথনাথ মিত্রের কলকাতা অনুশীলন সমিতির সঙ্গে এর সংযোগ ছিল এবং পুলিনবিহারী দাস কলকাতা গেলে সেখানেই অবস্থান করতেন।
সদস্যদের অধ্যয়ন তালিকায় প্রধানত পৌরাণিক কাহিনীভিত্তিক রচনাই বেশি ছিল। তাদের জন্য সুপারিশকৃত বইগুলির মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের গ্রন্থসমূহকে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে। অনুশীলন সমিতিতে কেউ যখন ভর্তি হতো, তখন শপথ নিতে হতো।
ঢাকা অনুশীলন সমিতি শীঘ্রই এর কলকাতার মূল সংগঠনকে গুরুত্বহীন করে দেয়। পূর্ববঙ্গের অন্যান্য জেলাসমূহে এটি বিস্তার লাভ করে এবং ১৯৩২ সালের মধ্যে এর শাখার সংখ্যা হয় ৫০০। পুলিনবিহারী দাসের সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য ঢাকা অনুশীলন সমিতি দ্রুত প্রসার লাভ করেছিল এবং প্রধান অবস্থানে ছিল। বরোদির (ঢাকা জেলা) ভূপেশচন্দ্র নাগ পুলিনবিহারী দাসের যোগ্যতম সহকর্মী ছিলেন এবং পুলিনবিহারী দাস গ্রেপ্তার হলে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। যশোরের শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু ছিলেন একজন বিপ্লবী এবং শুরু থেকেই ঢাকা অনুশীলন সমিতির ‘শাখাসমূহের পরিদর্শক’ ছিলেন। এসব সমিতির সদস্যবৃন্দ অধিকাংশই ছিল ভদ্র পরিবার হতে আগত স্কুল ও কলেজের ছাত্র। ভর্তিকৃত সদস্যদের দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়, যথা: সন্ন্যাসী ও গৃহী (পরিবারের লোক)।
পুলিন দাস ঢাকায় ন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় মনে করেছিলেন যে, এটি হবে বৈপ্লবিক শক্তি গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পুলিনবিহারীর বৈপ্লবিক তৎপরতার সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের অনুশীন পদ্ধতি। তাঁর ছাত্ররা প্রথমে লাঠি ও কাঠের তরবারি দিয়ে অনুশীলন করত। পরে তারা অনুশীলন করত ছোরা ও পিস্তল দিয়ে।
পুলিনবিহারী দাস যখন গ্রেফতার হন এবং ডাকাতির দায়ে অভিযুক্ত করে তাঁকে যখন যাবজ্জীবন নির্বাসন দেওয়া হয়, বাহ্যত তখন থেকেই ঢাকা অনুশীলন সমিতি ভেঙ্গে যায়। এর পর সমিতি সম্পূর্ণরূপে গা ঢাকা দেয় এবং মফস্বলের সমিতির সদস্যদের সঙ্গে সাময়িককালের জন্য সমস্ত যোগাযোগ স্থগিত করে দেয়। কিন্তু ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী ও প্রতুলচন্দ্র গাঙ্গুলির নতুন নেতৃত্বে সমিতি শীঘ্রই তার কর্মকান্ড পুনরায় শুরু করে। ১৯১৩ সালের বিখ্যাত বরিশাল ষড়যন্ত্র মামলা প্রমাণ করে যে, শুধু বরিশাল জেলাতেই সমিতির শত শত বিপ্লবী অনুসারী ছিল।
প্রথম মহাযুদ্ধ পর্যন্ত যুগান্তর দলের সঙ্গে ঢাকা অনুশীলন সমিতির সম্পর্ক ছিল দুর্বল। মহাযুদ্ধের পরিস্থিতি বাংলারবিপ্লবীদেরকে  ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার সুযোগ করে দেয়। যুগান্তর বৈপ্লবিক কেন্দ্রসমূহের জোট (ফেডারেশন) হিসেবে সারাদেশে আবার আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু সরকার সন্দেহভাজনদের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখত। নিরাপত্তা গোয়েন্দাদেরকে সহজেই স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োজিত করা যেত বলে তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে সন্দেহভাজন লোকজন কদাচিৎই চলাফেরা করতে পারত। অসহযোগ আন্দোলনের সময় যুগান্তর দল গান্ধীর সাথে সহযোগিতা করে, কিন্তু ঢাকা অনুশীলনদল তাদের বৈপ্লবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। ১৯২৪ সালে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় জেলখানায় উভয় দলের বিপ্লবীদের  মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু নেতাদের একটানা বন্দিত্বের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে এ ঐক্য কার্যকর করা যায় নি।
মাস্টারদা সূর্যসেন পূর্ববঙ্গে শেষ বৈপ্লবিক কর্মকান্ড চালান। ঢাকা অনুশীলন সমিতি এবং যুগান্তর উভয় দলের সদস্য সূর্যসেন ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন-এর কাজ পরিচালনা করেন। এ ঘটনা সাংগঠনিক দিক ও শৌর্য-বীর্যে বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে অতুলনীয় ছিল। সূর্যসেনের বিচার হয় এবং ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি তারিখে তাঁকে ফাঁসিতে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। কিন্তু সূর্যসেনের যশ এবং সফলতা এমন এক সময়ে আসে যখন বিপ্লবী আন্দোলন তাঁর আদর্শ পরিবর্তন করে ফেলে এবং তা আংশিকভাবে কংগ্রেসের সাথে ও আংশিকভাবে সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। সূর্যসেনের ওই ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপের পর আর কোনো উল্লেখযোগ্য বিপ্লবী কর্মকান্ডের কথা শোনা যায় নি।
লেখা – প্রতাপ সাহা।
Advertisements

এখনই বা কখনোই নয় – ইতিহাসের ক্রান্তিকালে ভারতবর্ষ

কদাচিৎ এক রাষ্ট্রের জীবনে একটি মুহূর্ত আবির্ভূত হয় যখন তার স্থায়িত্ব/ভবিষ্যৎ নির্ভর করে একটি সুতোর ওপরে। নিঃসন্দেহে, দ্বিতীয় সহস্রাব্দের ঊষালগ্ন থেকে ভারতবর্ষের মানব ও প্রাকৃতিক সম্পদের লুন্ঠনের কোন ইতি এখনো পর্যন্ত টানা যায় নি।  প্রত্যেকটি নব ঘটনা প্রমাণ করে তা এখনো এক অতি রূঢ় বাস্তব। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল এক ভয়ঙ্করতম অত্যাচার, শিল্পকলার ধ্বংসসাধন ও সম্পদের লুন্ঠনের স্রোত একবিংশ শতাব্দীর ভারতীয়দের কেবল আত্মিকভাবে দরিদ্রই করেনি বরঞ্চ তাঁদের নিজস্ব অসামান্য অতীত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতেও শিক্ষা প্রদান করেছে। এবং এর মধ্যে সবচেয়ে দুঃসহ কালের প্রারম্ভ হয়েছে ১৯৪৭ সাল থেকে। কিভাবে ব্যক্ত করা যায় একে? এক অতীব লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যের উপাখ্যান রূপে যার কোন তুলনা সমকালীন বিশ্ব ইতিহাসে মেলে না। এবং তা হয়েছে দেশের অশিক্ষিত, আত্মসম্মানহীন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি – প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীদের মাধ্যমে।  যদি অখণ্ড মনোযোগ সহকারে পেশাদারী রাজনীতিবিদদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিচার করা যায় তাহলে দেখা যাবে তাঁদের অধিকাংশই ১০ম শ্রেণীর আশেপাশে ঘোরাফেরা করছেন। এহেন বিধায়ক ও সাংসদদের ব্যবহার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের চেয়েও নিম্নতর। এরূপ অবস্থায় যদি অভিযোগ পত্র ধার্য করা যায় সরকারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাহলে প্রমাণিত হয় যে কি প্রকারে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ণ হয়েছিল হিন্দু-শিখ জাতিদ্বয়ের প্রতি। যদিও স্বাধীনতাপ্রাপ্তির মাধুর্য ও আপন ঐতিহ্যের স্মৃতিবিলোপের জন্য প্রথম ১০ বছরে নেহেরুর কুকীর্তি বোধগম্য হয়নি। পরবর্তীকালে, এই শোষণের যাঁতাকলে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

তাহলে নতুন কি? নতুন কি কিছু আছে? অবশ্যই আছে এবং সেটি হল যা আগে একটি অকথিত তবুও প্রকাশ্য তথ্য ছিল বিভিন্ন স্তরে বিশিষ্ট লোকেদের মধ্যে, শুধুমাত্র শীর্ষতম রাজনৈতিক নেতৃত্বের তত্বাবধানে রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে তা আজ সর্বসমক্ষে উদ্ভাসিত ও প্রতি সময়ে তা প্রশ্নের সম্মুখীন। এবং এমন এক ক্ষণে যখন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হলেন শ্রী নরেন্দ্র মোদী।  বর্তমানে, প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবীদের দেখা যায় বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে আলোচনা করতে এবং কোন প্রত্যাঘাতের সম্মুখীন হওয়ার কোন ভয় ব্যতিরেকে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদিও সমালোচনার সম্মুখীন হন, বিগত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভাগুলির ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের এক পর্যায় রূপে। তাহলে – নতুন কি?

পাঞ্জাবী ভাষায় একটি প্রবাদ রয়েছে :-

পাঞ্জাবী – ইস হামাম উইচ তান সব নঙ্গে হুন

হিন্দি – ইস হামাম মে সব নঙ্গে হ্যা।

ইংরেজি – In this bathtub, everyone is naked

এবার আমি এটি লিখি – হুন যে হামাম সরহক দে চোরায়ে তে হে

হিন্দি – অব ইয়ে হামাম চোরাহে পর হ্যা।

ইংরেজি – Now the bathtub is in the public square.

পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রসঙ্গে চিন্তাভাবনা ব্যক্ত করা হয়েছে যার সাথে আপন কর্মে সদা ব্যস্ত জনগণ – প্রশাসনিক অত্যাচার, দৈনিক গয়ংগচ্ছতা ও সামান্য কিছু প্রাপ্তির আশায় নতজানু হয়ে থাকা। বস্তুত, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধ্বংস প্রারম্ভ হয় ১৯৪৭ সালে – তার প্রথম অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে। এবং তার বংশধরেরা সমগ্র দেশটিকে পৈতৃক সম্পত্তি সাব্যস্ত করে তার ধবংসসাধনে (ইচ্ছামতো) সদা ব্যস্ত থেকেছেন।  অতএব, অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দ্বারা শাসিত হাওয়া ভারতবর্ষের বিধি হয়ে দাঁড়ালো এবং এ ক্ষেত্রে প্রশ্নের সামান্যতম প্রচেষ্টাও এক নৈতিক অন্যায়তে রূপান্তরিত হল।

ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই ক্ষমতা-ক্ষুধার্ত রাজনীতিবিদরা পরিকল্পনা করেন দেশকে বিভিন্ন সত্তায় বেঁধে রাখতে, পরস্পরবিরোধী ঘৃণা, মিথ্যা প্ররোচনা দেওয়া ও তীব্র মিথ্যাচার সৃষ্টি করা সমাজের অভ্যন্তরে। প্রাদেশিক পরিচিতি, সামাজিক নিম্নবর্গীয় পরিচিতি, ধর্ম ও ভাষা-বিষয়ক পরিচিতি। এইরূপ সৃষ্টির মাধ্যমে এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির উৎপন্ন হয়েছে যা যেকোন মুহূর্তে এক বিধ্বংসী গাথা সৃষ্টি করতে পারে। নিঃসন্দেহে, ছোটোখাটো দাঙ্গা ও বৃহৎ আকারের জঙ্গী আক্রমণ ভাৰতবর্ষে এক দৈনন্দিন বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ফলতঃ, সমাজ এক বিষময় বাষ্পে পরিপূর্ণ। এই বিষের সংজ্ঞা কি? বৈশিষ্ট্যই বা কি? যা  একজন সভ্য মানুষকে নিয়ন্ত্রণহীন অসভ্য পরিণত করে। এবং এটি হয় রাজনৈতিক নেতা-রুপী অসভ্যদের তত্বাবধানে।  প্রতিপদে আইনকে অমান্য করা হয়েছিল এবং সংবিধান এক তামাশায় পরিণত হল। এই ক্ষুদ্র সময়েই, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব থেকে অর্থের লুঠ সম্পূর্ণ ব্রিটিশ রাজকেও ছাড়িয়ে গেল। দারিদ্যের ভিত্তিকে সম্বলিত করে যে স্বাধীন ভারতের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সাল থেকে তা কিছু ক্ষেত্রে একই থাকলেও, অন্য ক্ষেত্রগুলিতে তার অবস্থা অধিকতর খারাপ হল। ক্ষমতায় আসীন লুঠেরারা মাফিয়া গোষ্ঠীর সমর্থনে প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রয় ও জাতীয় সুরক্ষার ধ্বংসসাধনে আত্মনিয়োগ করল। ব্যর্থ দৌত্য ও পঞ্চশীলের ছটায় রচিত বিদেশনীতি প্রকাশিত হল চীনের আকস্মিক আক্রমণের ঘনঘটায়। ভারত একবারও আক্রমণাত্মক হয়নি; হয়তো মহান রাষ্ট্রনেতাদের কল্যাণে তার যৌক্তিকতা অনুধাবনের প্রয়োজনও বোধ করেনি। পাকিস্তানের সাথে প্রত্যেকটি যুদ্ধ রক্ষণাত্মক অবস্থানেই করা হয়েছে।  আমাদের জওয়ানদের অসামান্য বীরত্বই এক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। শত্রূর সাথে ভয়ঙ্কর যুদ্ধের শেষে তাদের আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওদিকে ঠেলে দেওয়া হয়। কিন্তু তথাকথিত গুণবান রাষ্ট্রনেতাদের অসামান্য কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফলেই, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত জয় কোনসময়েই দেশের উপকারে লাগেনি।

পাকিস্তানের সাথে প্রত্যেকটি যুদ্ধ এই রক্ষণাত্মক ভঙ্গীতেই লড়েছে ভারত। সমগ্র পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোন দৃষ্টান্ত নেই যেখানে এক ভয়াবহ, রক্তাক্ত যুদ্ধের পরে জয়ী পক্ষ বিজিতের অঞ্চলে প্রবেশ বা সেটিকে করায়ত্ত করেনা। এই মহান অথচ হাস্যকর্ ও অবান্তর বিদেশনীতির জন্যই হিমালয় ভূখণ্ডের হাজার হাজার মাইল ভূমি, আকসাই চীন ও কাশ্মীরের অর্ধেক হাতছাড়া হয়েছে ভারতের।

গত ৭ দশকে ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হল যে রাষ্ট্রজীবনে শ্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী (এক অতি স্বল্প সময়ের জন্য) ব্যতিরেখে দ্বিতীয় কোন রাষ্ট্রপ্রধান আবির্ভূত হন নি। নিঃসন্দেহে, শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী স্বপ্নদর্শী, প্রাজ্ঞ ছিলেন ও দেশকে ক্রমশ ধ্বস্ত হতে থাকা সমাজ ব্যবস্থা ও দুর্নীতির জাঁতাকল থেকে উদ্ধার করতে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর অধীনে ভারতের অর্থনীতি ও সুরক্ষা – দু ক্ষেত্রেই উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছিল। কিন্তু তাঁর সময় ছিল স্বল্প ও তাঁর নিজস্ব কর্মীবাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত  স্বজনপোষণ বাজপেয়ীকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিহত করেছিল। বাজপেয়ী কালের অবসান, বিজেপির সরকারের পতনের পরে অর্থাৎ ২০০৪-২০১৪ র দশকে ভারতবর্ষের এক অত্যন্ত দ্রুত এবং সর্বাঙ্গীন ক্ষয়ের বিশ্লেষণ করতে গেলে একটি পৃথক গ্রন্থের প্রয়োজন। অতি সংক্ষেপে, উত্তরোত্তর কেলেঙ্কারী দ্বারা ভূষিত হয়েছিল এই দশক।

২০১৪ সালের মধ্যে সার্বিক অবস্থা এত সঙ্গীন হয়েছিল যে একজন আর্দালি পর্যন্ত প্রকাশ্যে সরকারী অফিসে কর্মরত অফিসারের সাথে দেখা করতে ইচ্ছুক সাধারণ ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ চাইতো। রাষ্ট্রজীবনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের উশৃঙ্খলতা, নৈতিকক অধঃপতনই যে তাকে এই সাহস দিয়েছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। দেশাত্মবোধ পর্যবসিত হয়েছিল হাস্যকৌতুক ও জীবনের প্রত্যেক স্তরেই নৈতিকতার সূক্ষ বোধ অন্তর্হিত হয়েছিল এক প্রকার। ভ্যাটিক্যান, বিদেশী গোয়েন্দা ও গুপ্তচর সংস্থা এবং আইএসআইর মদতপ্রাপ্ত হাজারে, হাজারে এনজিও ভারতবর্ষকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করার কার্যে রত ছিল প্রবলভাবে। হিন্দু-বিরোধীদের দ্বারা হিন্দু জাতির অপমান, লাঞ্ছনা এবং আঘাতপ্রাপ্তির কোন পরিসীমাই ছিলোনা। বস্তুতপক্ষে, হিন্দু শব্দটিই একটি তাচ্ছিল্যে পরিণত হয়েছিল হিন্দু-বৈরী তৎকালীন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির তত্বাবধানে এবং এই ধারাটি নিশ্চিন্তে ও সশব্দে প্রবাহিত হয়েছিল সমাজের নিম্নতম স্তর পর্যন্ত। ৬০ বছরের অধিক সময় ধরে ভারতবর্ষ এক অনুন্নত, তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। জানুয়ারী, ২০১৪ সালে এক পাঞ্জাবী ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এর প্রতিকার কি। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন নেই; ৬০ বছর পূর্বে খড়ের গাদায় হারিয়ে যাওয়া সূঁচ খুঁজে পাওয়ার কোন পথ নেই।

 গত ৬ দশকে, বিশ্ব মানচিত্রে দুর্নীতির নিরিখে ভারত তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল; প্ৰাকৃতিক মানচিত্রে তা একটি উপদ্বীপ হিসেবে পরিগণিত হতো;  উন্নতির নিরিখে তা একটি তৃতীয় বিশ্বের বানানা রিপাবলিকে পরিণত হয়েছিল। একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ, অন্যদিকে উৎকোচের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তির কাছে দেশীয় চিন্তাভাবনা পৌঁছে দেওয়া এক অত্যাবশ্যক কর্মে পরিণত হয়েছিল। কংগ্রেস পার্টি এবং তার সহযোগী দলসমূহের মধ্যে বাস্তবিকই এক লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছিল – ভারতকে কে কতটা পিছিয়ে রাখতে পারে। দেশীয় রাজ্যের, ক্ষমতাসীন রাজপুত্র ও ভূতপূর্ব-রাজাদের ব্যাক্তিগত সম্পত্তি ক্রমশ বিলীন হতে লাগলো এবিং অচিরেই তা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিলাম কেন্দ্রগুলিতে দেখা যেতে লাগলো। জনগণকে বলা হল গৃহের পরিবর্তে এই অসামান্য শিল্পের স্থান একমাত্র জাদুঘর ও সংরক্ষণাগারে। ভারতের শিল্পের উন্নতি, তার অতীত গরিমার পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

কংগ্রেসের অপকর্মের ওপরে তৈরী এই তালিকাটি নেওয়া হয়েছে মেজর জেনারেল কার্নিকের লেখা একটি সাম্প্রতিক প্রবন্ধ ‘Why Oppose Mr. Modi?’ থেকে।

মেজর জেনারেল ২০টিপ্রশ্নের একটি তালিকা প্রস্তুত করে ভারতবর্ষের বিগত কেন্দ্রীয় সরকাগুলিকে একটি দ্বন্দে আহ্বান করেছেন।

  • দেশভাগের দায় কার?

  • ১৯৪৭ সালের কাশ্মীরে জয়ের পূর্বমুহূর্তে আকস্মিক cease-fire কে ঘোষণা করল যার ফলে ২/৩ অংশ পাকিস্তানের গর্ভে চলে গেল? এই মূঢ় সিদ্ধান্তটি কি ভারতের পরবর্তী প্রজন্মগুলির ক্ষতিসাধন করেনি যথেষ্ট প্রকারে?

  • ক্ষমতায় কারা ছিলেন যখন চীন ভারতকে আক্রমণ ও পর্যদুস্ত করে?

  • কারা ক্ষমতায় ছিলেন মুম্বাইয়ে বিস্ফোরণের সময়ে?

  • কারা দাঙ্গায় ৪, ০০০ শিখের প্রাণহানির জন্য দায়ী?

  • কারা অনুপ্রাণিত ও সমর্থন করলেন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে বসবাসের জন্য?

  • কার নেতৃত্বে ভারতে সর্বাধিক দুর্নীতি হয়েছে?

  • কে ১৯৬৫ সালে রক্তের মাধ্যমে করায়ত্ত করা হাজিপির পাস্ এবং ১৯৭১ সালে এক লক্ষ পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দী ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানকে এবং কোন লাভ ছাড়াই?

  • কারা সরকারে ছিলেন যখন কাশ্মীর থেকে হিন্দু পণ্ডিতদের গণহত্যার মাধ্যমে তাড়িয়ে দেওয়া হয়?

  • কারা দূরদর্শনের “সত্যম শিবম সুন্দরম” প্রতীকটি সরিয়ে দেন?

  • কারা ভারতের মুদ্রা থেকে “সত্যমেব জয়তে” মুছে দেন?

  • কারা হিন্দুদের দ্বিতীয়-শ্রেণীর নাগরিক আখ্যা দিয়েছিলেন?

  • কাদের তত্বাবধানে, আর্টিকেল ৩০ (এ) অনুযায়ী, গীতা ও রামায়ণ স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি কিন্তু কোরান এবং বাইবেলকে করা হয়েছে?

  • কারা ৭০% হিন্দু মন্দিরের আয় মসজিদে ও বাইবেলে দান করেছেন?

  • কারা হজের জন্য ভর্তুকি কায়েম রেখেছেন অথচ অমরনাথ যাত্রাকে করের আওতায় রেখেছেন?

  • কারা গত ৬০ বছর ধরে ৮০% ভারতীয়কে দরিদ্র শ্রেণীতে থাকতে বাধ্য করেছেন?

  • কারা মাত্রাতিরিক্তভাবে সংখ্যালঘু তোষণ করেছেন?

এর উত্তর একটিই – কংগ্রেস পার্টি, নেহেরু ও গান্ধী পরিবারের তত্বাবধানে লালিত ও পালিত একটি দেশদ্রোহী সংগঠন।

বিগত ৬০ বছর ব্যাপী কিছু হত্যার সংক্ষিপ্ত কাহিনী –

Ø  লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে হত্যা করার দায় কার যখন তিনি ইন্দিরা গান্ধীর সম্মুখে একটি বিপদ হিসেবে ক্রমশ প্রতিপন্ন হচ্ছিলেন?

Ø  ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্রী দীনদয়াল উপাধ্যায়, কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এদের  হত্যার জন্য দায়ী কে?

Ø  বীর বাহাদুর সিংহ, রাজেশ পাইলট, শ্রী সিন্ধিয়া ও অন্যান্য ব্যক্তিরা, যাঁরা গান্ধী পরিবারের সম্মুখে ক্রমশ বিপদ হিসেবে প্রতিপন্ন হচ্ছিলেন, হত্যার দায় কার?

উত্তর একটিই – কংগ্রেস সরকার, নেহেরু এবং গান্ধী পরিবার।

যখন জনসাধারণ সম্পূর্ণ আশাহত হয়ে এক নির্জীব, জরাগ্রস্ত অবস্থায় অবস্থান করছিল – তখনই – ২০১৪ সালে আবির্ভূত হলেন এক ব্যক্তি – শ্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। এবং উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি প্রাপ্ত হলেন এক অতীব জঘন্য, দুর্নীতিপরায়ণ, অপরাধমূলক এবং জীর্ণ ব্যবস্থার। অভিজ্ঞতা অনুসারে, পুরানো বিকৃত কাঠামোর নিরাময়ের পরিবর্তে নতুন অবয়ব গঠনই শ্রেষ্ঠ পন্থা। বিগত দশকগুলির মধ্য দিয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যে ক্ষতিসাধন হয়েছে তাতে কাঠামোটি সম্পূর্ণ জরাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনসাধারণের এক বৃহৎ অংশের মতে, সজীবতার আর কোন সম্ভাবনাই ছিলোনা আর ভারতও কোনদিন শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারতোনা। কিন্তু সকল দুরাশাকে হেলায় সরিয়ে ভারত পুনরায় প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠল। নব্য সরকার অতি দুর্মূল্য সময়ের কিয়দাংশও নষ্ট করল না, সূঁচ হারানোর দুঃখে বা তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় বা তার বিলাপে। যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যাশা হল আকাশচুম্বী – তাঁরা রাতারাতি কোন অলৌকিক পরিবর্তনের আশায় বুঁদ ছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন নব্য প্রধানমন্ত্রী হিন্দুদের বিরুদ্ধে দশকের পর দশক ধরে প্রবাহিত বৈষম্য, দুর্নীতির নাশ করুন ও অর্থনৈতিক উন্নতির এক নতুন দিশা প্রণয়ন করুন।

গত চার বছর মোদী সরকারের কার্যপ্রবাহ ও তার বিশ্লেষণই হল এই প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য। নিঃসন্দেহে, এক নিরাশাবাদীর কাছে জলের পাত্র সবসময়েই অর্ধেক অপূর্ণ থাকে; আশাবাদী সেটিকে অর্ধেক পূর্ণ দেখেন এবং একজন জ্ঞানীর মতে জলপাত্রটি অর্ধেক পূর্ণ ও অপূর্ণ। হিন্দুরা চতুর্থ গোষ্ঠীতে বিরাজ করছেন; তাঁদের পাত্র সম্পূর্ণভাবেই অপূর্ণ কারণ মোদী তাঁদের জন্য কিছুই করেননি। সর্বশেষ অংশটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের এবং এই সরকারের প্রথম দুবছরের কার্যকালের পরে, তাঁদের মতে কোন কাজই হয়নি।

 এই প্রসঙ্গে গত ৪ বছরে ভারতের ঈর্ষণীয় সাফল্যটি উপস্থাপিত করা প্রয়োজন বিশেষ করে তাদের কাছে যাঁরা মনে করেন ভারতে সার্বিক সাফল্য এখনো অধরা রয়ে গেছে:

আধার নাম্বারের লিঙ্ক (বেস লিঙ্ক) স্থাপনের মাধ্যমে মহারাষ্ট্র থেকে ১০ লক্ষ দরিদ্র মানুষ অন্তর্হিত হয়েছেন।

৩ কোটির চেয়েও বেশী নকল এলপিজি কানেকশন বন্ধ করা হয়েছে।

মাদ্রাসা থেকে স্কলারশিপ লিস্টে ১ লক্ষ, ৯৫, ০০০ জাল বিদ্যার্থীর নাম অদৃশ্য হয়েছে।

১৫ লক্ষ জাল রেশন কার্ড অদৃশ্য হয়েছে।

প্রশ্ন – কি কারণে এসব অদৃশ্য হচ্ছে।

চোরেদের কালোবাজার আজ সর্বসম্মুখে। এবং সেই জন্য আজ চোরের একত্র হয়ে মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের সামনে একটি পিটিশন দাখিল করেছে যে এই বেস লিঙ্ক হল আদতে মৌলিক অধিকারের সমতুল্য। এবং এই গ্রূপে  কিছু প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। চোরেদের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার অর্থ কি? যেহেতু তাঁদের কোন আইনী আশ্রয় নেই, সেই জন্য তাঁরা গৃহযুদ্ধ আর রক্তপাতের মতো মারাত্মক হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

অসামাজিক ক্ষেত্র, তৎসহ গুন্ডা এবং রাজনৈতিক সমর্থনপুষ্ট মাফিয়া গোষ্ঠীগুলি আজ সর্বসমক্ষে উন্মোচিত এবং তাঁদের লুটতরাজের শিল্পে আজ কালো ছায়া।

স্বভাবতই, এই মানুষগুলি আজ আহত ও রাগে কাঁপছে।

  • মোদী ৩ লক্ষেরও বেশী জাল কোম্পানী বন্ধ করেছেন।

  • রেশন ডিলাররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

  • প্রপার্টি ডিলাররা আজ তুমুল্ভাবে বিরক্ত।

  • অনলাইন সিস্টেমের দরুন ব্রোকাররা আজ প্রচন্ড অসন্তুষ্ট।

  • ৪০, ০০০ এ চেয়ে বেশী এনজিও বন্ধ করা হয়েছে। তার জন্য এনজিও ব্যবসার নেতৃস্থানীয়র ভাঁড়ারে টান পড়েছে।

  • যে সব ব্যক্তি কালো টাকার মাধ্যমে সম্পত্তি কেনা-বেচা করেছেন আজ ভয়ানক ক্ষুব্ধ।

  • ই-টেন্ডারিং পদ্ধতি চালু করার মাধ্যমে সন্দেহজনক নৈতিকতাধারী সরকারী শত্রূরা দ্রুত উৎপাটিত  হয়েছে।

  • গ্যাস কোম্পানীর কর্মচারীরা তাঁদের টেবিলের নীচের উপরি অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

  • এখনো পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ, যাঁরা এতদিন সরকারী কোষাগারকে ফাঁকি দিয়ে কালো টাকা উপার্জন করতেন, ইনকাম ট্যাক্স স্ক্যানের জন্য আজ রাগে অগ্নিশর্মা।

  • GST র সূচনা ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

  • দু নম্বরি কাজকর্ম সামগ্রিকভাবে বন্ধ হওয়ার মুখে।

  • কালো টাকাকে সাদা করার প্রক্রিয়ায় আজ আর কাজ হচ্ছেনা।

  • অলস সরকারী বাবুরা আজ ভয়ানক ক্ষুব্ধ, ঠিক সময়ে হাজিরা ও কঠোর পরিশ্রম করার জন্যে।

  • যাঁরা দেরীতে আসতেন কর্মক্ষেত্রে বা আসতেন না, তাঁরা আজ ভয়ানক সমস্যায় পড়েছেন। জনসেবা নিমিত্ত সরকারী চাকুরে হয়েও তাঁরা মালিকের মতো ব্যবহার করেছেন। এটি সর্বজনবিদিত ছিল যে তাঁরা উৎকোচ গ্রহণের পরেই কাজ করবেন। পরিস্থিতি এই ছিল যে ফাইল খোলার আগে একজন করণিকও একই ব্যবহার করতেন। উৎকোচ বা ঘুষ এক স্বাভাবিক, আবশ্যিক ব্যাপার হিসেবে বিবেচিত হতো। স্বাস্থ্যব্যবস্থার কর্মচারীরাও ময়লা পরিস্কারের আগে অর্থ সংগ্রহের জন্য দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াত। এটিকেই হাফতা বলা হতো।

পরিবর্তনের মুক্ত হাওয়া অনুভব করছেন অসংখ্য মানুষ যদিও দুর্নীতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের মাধ্যমে, জোচর আর চোরেরা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টায় রত যে গত ৪ বছরে বিশেষ কোন উন্নতি ঘটেনি।

বর্তমানে, ভারতীয় অর্থনীতি গতিশীল ও ক্রমশ উন্নতির পথে। তার প্রাণোচ্ছলতা, প্রবল আত্মবিশ্বাস ও উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী নূতন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করছে।  ভূ-রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে, কেন্দ্রীয় সরকার সক্ষম হয়েছে পাকিস্তানের কাছ থেকে অন্যান্য ইসলামিক দেশগুলিকে দূর করতে এবং তাদের মধ্যে এক বড় অংশকে ভারতের মিত্রে রূপান্তরিত করতে। এমনকি, প্যালেস্তাইনও অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের ওপর বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে!  এই প্রথম ভারত ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিলো এবং তার মাধ্যমে  সত্যিই এক অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মিত্র খুঁজে পেলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদী দ্বারা সৃষ্ট দেশের এই গরিমাকে ভারতীয়দের অবশ্যই সাধুবাদ দেওয়া উচিত। যে কোন দেশের পক্ষে এই সম্মান এক অত্যন্ত শক্তিশালী সম্পদ এবং এক্ষেত্রে ভারত কোনমতেই ব্যতিক্রম নয়। যদি এই পরিবর্তনগুলি অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়, তাহলে দেশবিরোধী শক্তিগুলি কেন এতো প্রবলভাবে মোদীকে পরাজিত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে?

এই পরিপ্রেক্ষিতেই দ্বিতীয় প্রশ্নটি আসে।

কেন এই – এখনই বা কখনোই নয় – প্রসঙ্গ উঠছে বারংবার?

যতই আমরা ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, মোদিকে অপসারণের দাবী ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।  মনে হয়, আগামীদিনে এটি কোন এক ভয়ানক প্রতিক্রিয়াবাদী সংগ্রামের দ্যোতক হয়ে উঠবে। যদি কোন agenda/নির্দিষ্ট বিষয়ই না থাকে, তাহলে পূর্ববর্তী সরকার বা শক্তিসমূহের্ কারণ কি?

শ্রী নরেন্দ্র মোদী কি বিদেশী? তাঁর রাজনৈতিক জীবন এবং নৈতিক চরিত্র কি সন্দেহজনক? তিনি কি দুর্নীতিগ্রস্ত? তিনি কি তাঁর আত্মীয়স্বজনদের বিশেষ কোন সুবিধা প্রদান করেছেন তাঁর নিজ উচ্চ সাংবিধানিক ক্ষমতার মাধ্যমে? তিনি কি দেশবিরোধী? তিনি কি পরিশ্রম বিমুখ? তিনি কি দায়িত্বজ্ঞানহীন? তিনি কি অপ্রকৃতিস্থ?

যদি এই প্রশ্নগুলির উত্তর এক বৃহৎ শূন্য না হয়, তাহলে তাঁর প্রতি কিছু লোকের মধ্যে অসূয়া কেন? দেশবিরোধী শক্তিগুলি আর তাদের আদর্শহীন আঞ্চলিক দলগুলি ক্রমশ একজোট হচ্ছে। তাঁদের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি যে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তাঁরা যেকোন পন্থা নেবে প্রমাণ করে যে লাভ, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বর প্রতি আদিম লালসা ব্যতিরেকে তাঁদের মধ্যে আর মিল নেই।

চীন ও পাকিস্তানের মতো অকৃত্রিম ভারত-বিরোধী দেশের থেকে সাহায্যের প্রত্যাশা করা হচ্ছে নির্লজ্জভাবে। এই মহাজোটবন্ধন যদি ক্ষমতায় আসীন হয় শেষ পর্যন্ত , তাহলে ইউপিএ আমলের কালান্তক ১০ বছরও এক স্বপ্ন রূপে প্রতিভাত হবে। সম্প্রতি একটি সমাবেশে, অংশগ্রহণকারীরা ফটো তোলার জন্য এক একত্রিত হলেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাইটে যে ফটোটি শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হল – ২১ জন ব্যক্তি সম্বলিত ছবি; যার মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে বাইরে আছেন।কয়েকজন বিষন্ন ব্যক্তি আবার ভোটে কখনো লড়েননি। এই গোষ্ঠীর নেতা কে? উত্তর – শ্রী রাহুল গান্ধী। তাঁর যোগ্যতা কি? নেহেরুর দৌহিত্রের পুত্র। যখন ভাঁড়েরা দেশশাসন করেন, সমগ্র দেশ এক কৌতুকে পরিণত হয়। স্যার উইনস্টন চার্চিলের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী – স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরে, ভারত শাসিত হবে প্রতারক, লুঠেরা ও গুন্ডাদের দ্বারা। অবশ্যই তিনি নির্ভুল ছিলেন। এক্ষেত্রে আমরা আরো দুটি যোগ করতে পারি – অশিক্ষিত ও নির্বোধ ভাঁড়।

এই অনাবাসী ভারতীয়রা ক্ষমতায় নেই কিন্তু যদি একবার ক্ষমতালাভ করতে পারে এঁড়ে সেই সব কাজগুলিই হবে যা গত ৬ দশকেও করে উঠতে পারা যায়নি। তাঁরা আর কোন মুহৃর্তের জন্য অপেক্ষা করবেন না। রাহুল গান্ধী পরিণত হয়েছেন এবং ক্ষমতালাভের জন্য নেহেরু-গান্ধীর উত্তরসূরীরা ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে উঠছেন। এই দৃঢ়ক্তির মাধ্যমেই সহজে স্পষ্ট হয় যে তাঁদের রাষ্ট্রের উন্নতির কোন প্রয়োজন নেই। এখন সময় আগের চেয়েও ভয়াবহ, অতএব অধিকতরভাবে সঙ্কটজনক। মূল কারণ – আমরা শত্রূর সাথে সম্যক পরিচিত নই। আমরা কি জানতাম গান্ধী আমাদের কত বড় শত্রূ  ছিলেন? নিজ স্বার্থের জন্য নেহেরু দেশকে বিক্রী করতেও প্রস্তুত ছিলেন। এটাও কি জানা ছিল – নেহেরু কতবড় অপদার্থ, হিন্দু-বিদ্বেষী ছিলেন? এইবার ক্ষমতায় আরোহন করলে সমগ্র কংগ্রেস পার্টি হিন্দু-বিরোধী কর্মকান্ডের এক সদর ঘাঁটিতে পরিণত হবে এবং তা হেতু স্বার্থপরতা, দুর্নীতি আর বিশ্বাসঘাতকতার বান ডাকবে জনগণের মধ্যে। যদি ভারত বর্জ্য বঙ্গ এবং অন্ধ্র প্রদেশ, কেরালা এবং তামিলনাড়ুর কিছু দুষ্ট রাজনীতিবিদকে সামলাতে না পারে, মহাঠগবন্ধনের মধ্য দিয়ে সক্রিয় বিভিন্ন মাফিয়া গ্রূপকে সামলাবে কি করে?

বহু লোক মোদিকে দোষ দেন রাম মন্দির তৈরী না হওয়ার জন্য বা জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম হওয়ার জন্য বা শেষ পর্যন্ত আচ্ছে দিন (ভালো সময়) আনতে না পারার জন্য। এঁদের প্রশ্ন করা যাক – সম্প্রতি নির্মিত মহাজোটবন্ধন কি তার বিষয়সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

v  রাম মন্দির নির্মাণ;

v  আর্থিক দুর্নীতি মুক্ত, সবল সরকার;

v  ধারা ৩৭০র অপসারণ;

v  দারিদ্র্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের (উচ্চ জাতির তকমা দেওয়া) প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করা;

v  সন্ত্রাসবাদের ছোবল থেকে মুক্তি এবং বৈদেশিক ষড়যন্ত্রের সমস্ত উদ্যোগ ব্যর্থ করা।

অতএব, এখনই বা কখনোই নয় নামক শুভ মুহূর্তটি এখন আগত।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগেই – যখন প্রতি মূহুর্তে রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘর্ষের আশঙ্কায় প্রহর গোনা হয়, বিদেশী সমর্থনপ্রাপ্ত ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কখন হাঙ্গামা শুরু করে এই ভয়ে থাকতে হয় – জনগণ এই প্রশ্নগুলির উত্তর দাবী করুন মহাঠগবন্ধনের কাছ থেকে –

তাঁরা জনগণের উন্নতির জন্য আর কি করবে?

তাঁদের আদর্শগত ভিত্তি কি?

তাঁদের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি কি?

দেশের ক্রমশ উন্নতিসাধনের জন্য তাঁদের অর্থনৈতিক নীতি ও পথ কি? এটি অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন ১৯৯৯-২০০৪ র সময়ে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার ব্যর্থতার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও জাতীয় সুরক্ষার চূড়ান্ত ব্যর্থতা রূপ পেয়েছে।

তাঁদের নিজেদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কিছু নেতা গৃহযুদ্ধের কথা বলছেন; অন্যরা ভাড়া করা সৈনিকদের সাহায্যে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ধর্মঘট, সম্পত্তি ধ্বংস ও কোটি কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি লুঠের কথা বলছেন। দাঙ্গা, হাঙ্গামা বাঁধানোর সমস্ত প্রকারের অপকৌশল ব্যবহৃত হচ্ছে, মানুষকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে যাতে সরকারকে দোষ দেওয়া যেতে পারে ক্রমাগত।২০১৪ সাল থেকে সংসদ ভবনে এমন কোন দিন যায়নি যেদিন হৈ হট্টগোলের মাধ্যমে দিনটিকে পণ্ড করার চেষ্টা হয়নি। নিঃসন্দেহে, এরকম কোন অসভ্যতা যদি কোন ক্লাসরুমে চলতো তাহলে পুরো ক্লাসের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতো। কিন্তু এই নির্লজ্জ্ব ব্যক্তিরা গণমাধ্যমের সাহায্য প্রাপ্ত যারা এই সমস্যাকে একটি নতুন সংজ্ঞা প্রদানে সদা ব্যস্ত। যেকোন অতি সাধারণ ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত করা ও তার মাধ্যমে জনজীবনকে অস্থির রাখাই এদের মূল লক্ষ্য। অবস্থা এতদূর গেছে যে, এরা দেশপ্রেমিক ইন্ডিয়ান আর্মির দেশ হিতার্থে করা কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবং জওয়ানদের বিরুদ্ধে কেস দায়ের করে জন আদালতে। এটি আশ্চর্য নয় যে দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারপতিরা এদের পক্ষই অবলম্বন করেন। আর্মি জওয়ানের কোন কেস একমাত্র মিলিটারি কোর্টেই করা যেতে পারে কারণ তাঁরা নিজেদের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পালন করছেন মাত্র। কিন্তু – কোনদিনই বা গণমাধ্যম আর দেশবিরোধী শক্তি আইনকে পাত্তা দিয়েছে?

কোনভাবেই, আর্মির কর্মকান্ড রাজনীতির আলোচ্য বস্তু বা দুষ্ট বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকের চর্চার বিষয় হতে পারেনা। গান্ধী শান্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন মুসলিমদের হাতে অবিভক্ত বঙ্গের এক বিশাল ভূখণ্ড তুলে দেওয়ার পর। সেই পরম আখাঙ্খিত শান্তি কোথায়? বর্তমানের জালি গান্ধীদের মধ্যে তাঁর আত্মা বেঁচে আছে এবং এই জালিয়াতরা কোন পরীক্ষায় পাশ করেনি বা কোন ক্ষেত্রেই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেনি। যদি ভারতীয়রা এই জালিয়াতদের ভোট দেয় তাহলে অচিরেই তা ভারত রাষ্ট্রের প্রতি এক অস্তিত্বজনিত সঙ্কট উৎপন্ন করবে এবং তার প্রথম বলি হবেন হিন্দুরা। ক্রমশ দুর্বল হতে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু – নিজেদের ভূমিতে থেকেও সন্ত্রস্ত হিন্দু শেষ পর্যন্ত অন্তর্হিত হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে।  এবং এই কাজটি করতে যে হিন্দু-বিরোধী রাষ্ট্রশক্তি বেশী সময় নেবে না তা বলাই বাহুল্য।

সদর্থক পরিণাম আশা করে ভারত একই ভুল বারংবার করতে পারেনা। যাঁরা এখনো গুঞ্জন করেন, “দে দি হামে আজাদ বিনা খড়গ বিনা ঢাল” তাঁদের বাস্তবের সাথে পরিচয় করানো অত্যন্ত প্রয়োজন। মানুষ স্বাধীনতা পায়নি, কংগ্রেস পার্টি পেয়েছিল। এবং তাও শস্ত্র ব্যতিরেকে? হিন্দু ও শিখদের ছাগলের মতো হত্যা করা হয়েছিল শত্রূর রক্ততৃষ্ণা মেটানোর জন্য। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁদের বিষয় সম্পত্তি, পূর্বপুরুষের গৃহ ত্যাগ করে প্রাণের দায়ে পালিয়ে গিয়েছিল। গান্ধী সর্বতো প্রচেষ্টা করেছিলেন যাতে হিন্দু এবং শিখেরা পাকিস্তানে থেকে যায় তাঁদের ওপর নারকীয় অত্যাচার অনুভব করার জন্যে। সৌভাগ্যবশতঃ, মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে প্রায়, তাঁরা চেতনা প্রাপ্ত হলেন।  হয় পদব্রজে অথবা অন্য কোন উপায়ে তাঁরা পলায়ন করলেন।

শৈশবে আমি নিজে এই ভয়াবহ গণহত্যার সাক্ষী হয়েছিলাম। শিশুরা পিতা মাতা বঞ্চিত হয়েছে; কোথায় যাবে জানে না, পরিজনেরা হাঁটছেন কপর্দকহীন অবস্থায়। এবং সেই পাঞ্জাবের বিধায়ক, এন এস সিধু পি[পাকিস্তানের প্রতি তাঁর প্রেম নিবেদন করছিলেন সম্প্রতি।

যদি মানুষ তাঁদের নির্লিপ্ততা পরিহার না করে, নিরুদ্যমই থেকে যায়, তাহলে সমগ্র ভারত একটি পশ্চিমবঙ্গে পরিণত হবে যেখানে রক্ত বয় নদীর মতো অথবা কেরালার মতো যেখানে হিন্দু হলেই তোমার সর্বনাশ ঘনিয়ে আসবে। বিকল্পটিও মনে রাখা উচিত এই লগ্নে – প্রধানমন্ত্রী মায়াবতী, প্রধানমন্ত্রী রাহুল গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অথবা প্রধানমন্ত্রী অখিলেশ – যাঁরা সোনিয়া গান্ধী দ্বারা সৃষ্ট নাগপাশের মধ্যেই ছটফট করবে। প্রত্যেক রাজ্যের অধিবাসীদের সুরক্ষার বিষয় ও তাঁদের নিজ সন্তান সন্ততিদের নিয়ে ভাবতে হবে নইলে রাজনীতির পঙ্কিল আবর্ত তাঁদের গ্রাস করবে।

বিপর্যয় ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে ভারতীয়দের ওপরে; শুধুমাত্র সঠিক নির্দেশ এবং সামান্য কনুইয়ের গুঁতো প্রয়োজন গৃহযুদ্ধ আরম্ভ করতে। যাঁরা ধর্ণা ও আমৃত্যু অনশনের পক্ষে আছেন তাঁরা শুধু মিডিয়ার পর্দায় নিজের মুখমণ্ডল দেখতেই ব্যস্ত। যাঁরা খণ্ডিত সমাজ চান তাঁদের শেষ পর্যন্ত কেউই পাত্তা দেয় না। মহাঠগবন্ধন সেটিই করছে এবং এর মাধ্যমে প্রাক-২০১৪ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় যখন সন্ত্রাসই একমাত্র রাজত্ব করতো। এই কি মানুষ তাঁদের ভাগ্য হিসেবে পেতে চান? ভারতীয় ভোটাররা কী চান দেশের এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের পতন হোক এবং আর্থিক দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারী দ্বারা আচ্ছন্ন হোক রাষ্ট্র জীবন। অতএব, এখনই বা কখনোই নয় অবস্থাটি হল ভারতীয় ভোটারের প্রজ্ঞার পরীক্ষা।  পিরিয়ড।

অতএব, সর্বশেষ প্রচেষ্টার সময় উপস্থিত যদি আমরা ভারত রাষ্ট্র ও ধর্মের বিলোপ রক্ষা করতে চাই। এই প্রবন্ধটিকে একটি সাবধান বাণী এবং বিবেকবান মানুষের কাছে একটি আবেদন হিসাবে সাব্যস্ত করা যেতে পারে যাতে তাঁরা সময়ের গুরুত্ব ও সার্বিক অবস্থার সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। শীঘ্র একটি তালিকা প্রস্তুত করুন আবশ্যিক কার্যের ওপরে এবং কিভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীজি এদিকে অগ্রসর হতে পারেন। এটি সর্বদা স্মরণে রাখা উচিত যে রোম শহরটি একদিনেই সৃষ্টি হয়নি কিন্তু অবশেষে তৈরী হয়েছিল। পার্লামেন্টে দুষ্টদের দ্বারা সৃষ্ট প্রতিকূল অবস্থার ক্ষেত্রে মোদীজি সময় নিতে পারেন কিন্তু তিনি তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছোবেনই।

পরিশেষে, ২০১৯ র নির্বাচন আগামী টেস্ট সিরিজের জন্য ক্রিকেট ক্যাপ্টেন নির্বাচিত করার জন্য নয়; যাতে বলা যেতে পারে ওঁদের আর একটু সময় দেওয়া হোক। যদি তাঁরা ব্যর্থ প্রমাণিত হন তখনই বিকল্পের কথা ভাবা যাবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরের জন্য দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে এবং তাতে আমরা অকৃতকার্য হলে আগামী ৫ বছরেই দেশ ভেঙে টুকরো টুকরো হবে ও ধর্ম চিরতরে বিলীন হবে শূন্যে।

এখন মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়।

আমরা কি প্রাক-২০১৪ ছটি দশকের পুনরাবৃত্তি চাই? আমরা কি একদা এক অসামান্য সভ্যতার এবং সংস্কৃতির (যা বাকি পৃথিবী অনুসরণ করে অক্ষরে অক্ষরে) ধ্বংস চাই? দেশবিরোধী শক্তি নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সর্ব প্রচেষ্টায় মগ্ন – এমনকি ভারত-বিরোধী বিদেশী শক্তির সাহায্য নিতেও তারা পিছপা নয় যাতে প্রকৃত রাষ্ট্রবোধ ও আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করা যায় এক নিমেষে। ২০০৯ সালে শ্রী বাজপেয়ীকে সমর্থন করা হয়নি; ফলতঃ, সমগ্র দেশ এক ভয়ঙ্কর আর্থিক-সামাজিক দৈন্য, পরবর্তী ১০ বছর ব্যাপী আর্থিক কেলেঙ্কারী, কুশাসনের শিকার হয়েছিল। এখন যদি শ্রী মোদী প্রত্যাবর্তনে ব্যর্থ হন ভারত আগামী ১০০বছরের জন্য মাৎস্যন্যায়ের কবলে পড়বে, খণ্ডিত হবে এবং পুনরায়, বিশেষত হিন্দুরা (যদি বেঁচে থাকে শেষ পর্যন্ত) দাসে পরিণত হবে। ভারতীয়দের মনে রাখতে হবে নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্য এবং ভারতের অপার ক্ষমতার ওপরে।

‘যুগ যুগ ধরে প্রবাহিত ভারতবর্ষ মৃত নয়; তাঁর নিজ অন্তরের শেষ শব্দটিও তাঁর দ্বারা উচ্চারিত হয়নি; তিনি বেঁচে আছেন এবং এখনো নিজের ও মনুষ্য সমাজের হিতার্থে তাঁর ভূমিকা অমলিন আছে।’ – শ্রী অরবিন্দ।

লেখক: শ্রীমতী কমলেশ কাপুর, ঐতিহাসিক এবং অধ্যাপক, বহু গ্রন্থের প্রণেতা –

ভারতীয় সভ্যতায় লালিত এক গর্বিত পাঞ্জাবী।

আগুনে সর্বস্ব হারানো আদিবাসীদের পাশে হিন্দু সংহতি

এই বছরের ফেব্রূয়ারি  মাসে নদীয়ার পলাশিপাড়া থানার বার্নিয়া আদিবাসীপাড়ায় বিধ্বংসী আগুনে পাঁচটি আদিবাসী পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর আগে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল হিন্দু সংহতি। সেইসময় পরিবারগুলোকে রান্নার প্রয়োজনীয় বাসনপত্র এবং অর্থ সাহায্য করা হয়েছিল হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। গতকাল ১৯ই মার্চ, মঙ্গলবার  ওই পাঁচটি পরিবারের হাতে মহিলাদের জন্য শাড়ি এবং পুরুষদের জন্য শার্ট দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি এবং প্রমুখ কর্মী শ্রী টোটন ওঝা।

এন্টালিতে জালনোটসহ গ্রেপ্তার তাফজুল হক

fake currency newমালদহ থেকে জালনোট এনে কলকাতার এজেন্টের হাতে তুলে দেবার সময় কলকাতা পুলিসের টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হলো মালদহের এক জালনোট কারবারি।  কলকাতা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতের নাম তাফজুল হক। তাঁর বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। তাকে গত ১৮ই মার্চ, সোমবার রাতে এন্টালি থানা এলাকার সিআইটি রোড থেকে ধরা হয়। তাঁর কাছ থেকে দু লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগটাই দু হাজার টাকার নোট। বেশ কিছুদিন ধরেই একটি চক্র মালদহ থেকে জালনোট এনে কলকাতা শহরে এজেন্টের হাতে তুলে দিচ্ছে। পুলিসের হাতে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে এর আগেই।এই নোট আসছে বাংলাদেশ থেকে। গোয়েন্দারা ধৃতকে জেরা করে আরও বিশদে জানতে চাইছেন।

গো-হত্যা নিয়ে কমিউনিস্টদের ভণ্ডামি

  • দেবাশীষ লাহা 
কম্যুনিস্ট স্বর্গরাজ্য কিউবাতে ১৯৭৯ সাল থেকে গোহত্যা তথা গোমাংস ভক্ষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। Article ২৮২ এবং ২৪১ এই নিষেধ নথিভুক্ত হয়েছে। Decree no ২৫৫ তে গোহত্যাকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেবল মাংস ভক্ষণ নয়,  গরু কেনা বেচা বা লেনদেন পর্যন্ত নিষিদ্ধ। গৃহস্থ কেবল দুধ দোয়াতে পারেন। অন্য কাজে লাগাতে পারেন। আইন ঠিকঠাক মানা হচ্ছে কিনা তা দ্যাখার জন্য নিয়মিত অনুসন্ধান ও গরু গণনা হয়। গোমাংস নিয়ে ধরা পড়লে দশ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এতে কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগছে কিনা জানা নেই। আর লাগলেও কিছু করার নেই। খাদ্যের স্বাধীনতা,  ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়ে কোনো আন্দোলনের কথাও শোনা যায় না। বিফ পার্টিও হয় না। দেশটা যে কিউবা। একটিই দল। কম্যুনিস্ট পার্টি। সে-ই ভাগ্যবিধাতা।  আর কোন রাজনৈতিক দল সেখানে নেই। থাকার প্রশ্নই নেই। কারণ সেটা বেআইনি। আর তাই নির্বাচনের ঝামেলাও নেই। পান থেকে চুন খসলে যে ফেসবুকে জানাবেন, প্রতিবাদ করবেন, তারও উপায় নেই। মাসের মধ্যে একদিন ইন্টারনেট পেলে আপনার সৌভাগ্য। নেতা টেতা হলে অবশ্য ভিন্ন কথা।
যাচ্চলে!  এসব কি বলছি!  এ যে মহাপাপ!  চে গুয়েভরা থুড়ি গুয়েভারা, কাস্ত্রোর দেশ!  অর্থকরী দৃষ্টিভঙ্গিতে গোহত্যা নিষিদ্ধ হতেই পারে, সে মহান ব্যাপার। কিন্তু বৃহৎ ভাবাবেগে আঘাত লাগবে বলে গোহত্যা বন্ধ?  নৈব চ নৈব চ! শুধু কি তাই?  যে কোন সভ্য দেশে প্রাণিহত্যার ক্ষেত্রেও বিবিধ বিধিনিষেধ আছে৷ যেমন stunned করে হত্যা, ধর্মীয় হত্যার আগে অনুমতি নেওয়া,  ভেটেনারি সার্জনের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি ইত্যাদি ইত্যাদি। ও হরি তবে তো আবার হালাল হবেনা! ভাবাবেগে আঘাত লাগবে।   আর তাই দমদম এয়ারপোর্টে একটি বেআইনি মসজিদটি নিছক ভাবাবেগের কারণেই ভাঙা তো দূরের কথা, বাবা বাছা করে অন্যত্র সরানো পর্যন্ত যাচ্ছে না। হাজার হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু নতুন রানওয়ে তথা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজটি আটকে আছে।
কী বললেন?  আপনি আধুনিক ভারত নির্মাণের পক্ষে?  তাই ধর্ম নির্ভর খাদ্যাখাদ্য বিচার, কুসংস্কার ইত্যাদি থেকে বেরিয়ে আসতে চান?  খাদ্য স্বাধীনতার পূজারি?  বাহ বেশ!  তা কমরেড কেবল হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষকেই “সভ্য, আধুনিক” বানানোর টেণ্ডার নিলে যে আপনার জেণ্ডার চেঞ্জ হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে।  নিউজিল্যান্ডের হামলাটি কেন হল বলুন তো?  আধুনিক আইন কানুন সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে মাথায় তুলে রাখলে পালটা প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য। তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম আপনি প্রকৃতই ধর্মনিরপেক্ষ।  আধুনিক জীবন যাপনে বিশ্বাস রাখেন। কথায় কথায় প্রথম বিশ্বের উদাহরণ দেন। কটি ইউরোপীয় রাষ্ট্রে প্রকাশ্যে হিজাব পরা, কোরবানির অনুশীলন নিষিদ্ধ হয়েছে জানেন?  কোন দেশে কটি মসজিদ, কেন, কোন পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খবর রাখেন?  মসজিদ, মাদ্রাসায় যাতে বিদেশী টাকা না ঢুকতে পারে সেই উদ্দেশ্যে কোন কোন দেশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানেন কি?  হা হা হা!  আপনি যদি ধর্মনিরপেক্ষ হন, তবে ছাগলও মঙ্গলগ্রহের জীব।   ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে ভেবে আপনি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির  প্রস্তাবে হেঁচকি তোলেন, রাস্তা আটকে নামাজ পড়লে সম্প্রীতি আওড়ান, “সুশিক্ষিততম” রাজ্যটিতেও বাল বিবাহের অনুশীলনে কাঁড়ি কাঁড়ি ছানা প্রসব হলে মুখে কুলুপ আঁটেন!  কেরালা মুর্শিদাবাদ, কোলন, বার্মিংহামে যে কোনো ফারাক নেই বেমালুম চেপে যান!  আর সেই আপনিই গোরু খাওয়ার স্বাধীনতা আছে বলে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তোলেন!  হে মহান বামাবতার!  কেবল সংখ্যালঘুদিগেরই কি ধর্মীয় অনুভূতি আছে?  সংখ্যাগুরুরা গরু পূজা করিয়া থাকে বলিয়াই কেবল পুচ্ছ নাচাইয়া সম্মতি জ্ঞাপন করিবে?  ভরতের জন্মভূমিটি অদ্যপি কিউবা হইয়া ওঠে নাই, সুদূর ভবিষ্যতেও তাহা সম্ভব হইবে না, ইহা নরওয়ে সুইডেনও নহে।।এদেশের সিংহভাগ মানুষ অদ্যপি হিন্দু। ভাবাবেগ তথা ধর্মীয় অনুভূতি কেবল মুসলমানের সম্পত্তি নহে, হিন্দুদিগেরও তাহাতে সমান অধিকার। কবে কোন দেবতা গরু/ ষণ্ড ভক্ষণ করিয়াছিল তাহার “শাস্ত্র নির্ভর” ব্যাখ্যা প্রদান করিয়া এই হিন্দু ভাবাবেগকে দূরীভূত করা যাইবেনা। যেরূপ, দাড়ি, বোরখা, হিজাব, আকিদা ইত্যাদি লইয়াও ইসলামিক শাস্ত্রে অজস্র পরস্পর বিরোধী ব্যাখ্যা এবং বিশ্বাস বিদ্যমান।  শিয়া সুন্নী আহমেদিয়ার বিভেদ এবং বিভাজন এখন দিবালাকের ন্যায় পরিস্ফুট।  আপনি আমি কতটা মুক্তমনা, গোরু ভক্ষণ করি কি করিনা, তাহা অপেক্ষা অনেক বড় প্রশ্ন এদেশের সিংহভাগ মানুষ কোন ইচ্ছাটি পোষণ করেন। সংখ্যালঘুর ধার্মিক অনুভূতিকে সম্মান জানাইলে সংখ্যাগুরুর আবেগটিকেও শিরোধার্য করিতে হইবে। ইহাই বিজ্ঞান, ইহাই গণতন্ত্র।  খাদ্যনীতি অর্থনীতির দোহাই দিয়া যতই ইহার অন্যথা ঘটিবে গরুটি ততই লেজের ব্যবহার কমাইয়া শিং নির্ভর হইয়া পড়িবে।  তাহারই সূত্রপাত হইয়াছে।  প্রকৃতিদেবী কেন তাহাকে এক জোড়া শিং প্রদান করিয়াছে,নিরীহ চতুষ্পদটি উপলব্ধি করিয়াছে।  অনিবার্য ফলশ্রুতি হিসেবেই এই গোঁতানোর কার্যক্রম।  অতএব হে বামাবতার, পশ্চাৎ দেশটি সামলাইয়া রাখুন।

বীরভূমের সিউড়ির সুরিতে জিহাদি হামলা, হিন্দু বাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন দিলো জিহাদি মুসলিমরা

 

বীরভূমে সিউড়ি শহরে আবার জিহাদি মুসলমান দ্বারা আক্রান্ত সিউড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুরিপুকুর পাড়ার বাসিন্দারা।

ঘটনাটির সূত্রপাত হয় শিবরাত্রি দিনে রাত্রি বেলায় সিউড়ি শহরের ৪নম্বর  ওয়ার্ডের কাঁটাবনি এলাকার কিছু মুসলমান সুরিপুকুর পাড়ার রাস্তায় যেতে যেতে রাস্তার কুকুর দের লাথি মারতে মারতে যায়। লাথি মারতে মারতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুরিপুকুর পাড়ার এক ছেলে বিশ্বজিৎ কাহার কে লাথি মারে। বিশ্বজিৎ লাথি মারলে কেন জিজ্ঞাসা করতে ওই মুসলমান ছেলে গুলি বিশ্বজিৎ কে মারধোর করে,পরে পাড়ার ছেলেরা এসে ঝামেলা মিটমাট করে দেয়।
 পরদিন সকালে বিশ্বজিৎ পৌরসভার ঠিকাদারের অধীনে  কাজ করছিল,  তখন ওই মুসলিম ছেলে গুলি বিশ্বজিৎ কাহার কে দেখে আবার মারধোর শুরু করে। পরে ঘটনাটি সুরিপুকুর পাড়ার বাসিন্দারা পৌরসভার কাউন্সিলার কে জানায় এবং কাউন্সিলার পুরো ব্যাপার টি মিটমাট করে দেয়।
গতকাল ১৭ই মার্চ, সন্ধ্যা ছ’টা  সিউড়ি ৪নম্বর  ওয়ার্ডের কাঁটাবনির ওই মুসলিম ছেলে গুলি সুরিপুকুর পাড়ার রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্বজিৎ কে দেখতে পেয়ে আবার মারতে শুরু করে,এলাকার মহিলারা দেখতে পেয়ে ওই মুসলিম ছেলেদের হাত থেকে বিশ্বজিৎ কে ছাড়াই,এবং সুরিপুকুর পাড়ার এলাকাবাসী কাঁটাবনি পাড়ায় ওই মুসলিম ছেলেদের বাড়িতে বলতে গেলে কাঁটাবনি এলাকার মুসলিমরা সুরিপুকুর পাড়ার বাসিন্দাদের পাথর ইট ছুড়তে থাকে মায়েদের মারতে শুরু করে, এবং সুরিপুকুর পাড়ায় এসে সুরিপুকুর পাড়ার বাসিন্দা দের বাড়ি ভাঙচুর চালায়,বাড়ি পুড়িয়ে দেয়,এবং সুরিপুকুর পাড়ার  পল্লী ক্লাব পুড়িয়ে দেয়,সুরিপুকুর পাড়ার হিন্দু মন্দিরে ইট পাথর ছোড়ে। এছাড়া পাড়ায় থাকা বেশ কয়েকটি খড়ের বাড়িতে আগুন দেয়।  মুসলিম জিহাদিরা নির্বিচারে হিন্দুদের বাড়ির জানালা, দরজা ভেঙে দেয়। মুসলিমদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে অনেকের মাথা ফেটে যায়। অনেকে ইটের আঘাতে আহত হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।  পরে ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল RAF ও পুলিসবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিউজল্যান্ডের আল নুরী মসজিদে বন্দুকবাজের হামলা, মৃত ৪০ জন মুসলিম, আহত ২০

new zealandনিউজল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদে বন্দুকবাজের হামলায় নামাজ পড়তে আসা ৪০ জনের মৃত্যু এবং ২০জন আহত হয়েছে। সিএনএন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের আল নুরী মসজিদে বন্দুকবাজ হামলা চালায়। সেই হামলায় অনেকের মৃত্যু হয় এবং অনেকে আহত হয়। অনুমান করা হচ্ছে যে এই ঘটনার পিছনে নিউজল্যান্ডের অভিবাসী বিরোধী, মুসলিম বিরোধী গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে। কারণ বেশ কিছু বছর ধরেই নিউজল্যান্ডের ভূমিপুত্ররা দেশে মুসলিম শরণার্থীদের প্রবেশের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এমনকি নিউজল্যান্ডের মানুষজনকে ক্রমাগত ইসলামে ধর্মান্তরিত করা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। এর ফলেই এই ঘটনা বলেই অনেকে মনে করছেন। এমনকি একজন হামলাকারী ঘটনার লাইভ করেন তার ফেসবুক একাউন্টে। ওই মসজিদে নামাজ পড়তে আসার কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের। তবে কিছুক্ষন আগেই হামলা হওয়ায় তড়িঘড়ি ক্রিকেট টিমের বাস থেকে দৌড়ে হোটেলে পালিয়ে যান। যদিও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বহু মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

প্রিয়া সর্দারের অপহরণকারী মোক্তাউদ্দিন মোল্লা গ্রেপ্তার

গত ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ তে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখা থানার অন্তর্গত গড় আবাদ গ্রামের হিন্দু নাবালিকা প্রিয়া সর্দারকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় মোক্তাউদ্দিন। পরে মেয়েকে ফিরে পাবার আশায় মোক্তাউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে মিনাখা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রিয়ার পিতা মাধাই সর্দার। প্রথমে পুলিস গুরুত্ব না দিলেও পরে হিন্দু সংহতি এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করলে পুলিস সক্রিয় হয়। গত ১২ই মার্চ প্রিয়াকে উদ্ধার করে পুলিস। এবার অপহরনকারী মোক্তাউদ্দিন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। এই গ্রেপ্তারে প্রিয়ার পরিবার স্বভাবতই খুশি। সেইসঙ্গে হিন্দু সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে বসা একটি মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে পেরে হিন্দু সংহতি সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছে। হিন্দু সংহতি প্রথম থেকেই প্রিয়ার দরিদ্র পরিবারের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সেইসঙ্গে মিনাখা থানার পুলিস অফিসেরদেরকে ধন্যবাদ। 

চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিলেন যোগগুরু বাবা রামদেব

ramdevভারতের মানুষকে চীনা পণ্য বয়কট করার আহ্বান জানালেন যোগগুরু বাবা রামদেব। সেই আহ্বানসহ টুইট করেছেন গতকাল। সন্ত্রাস প্রশ্নে পাকিস্তানকে বরাবরই সমর্থন জানিয়ে আসছে চীন। এমনকি চীনের ভেটো দেওয়ার ফলে মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করার চেষ্টা বাধা পাচ্ছে বারবার। তাই এবার চীনা পণ্য বর্জন করার ডাক দিলেন রামদেব।  তিনি তাঁর টুইটে বলেন, ”মাসুদ আজহারের সমর্থক চীন এবং তাদের নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিকভাবে বয়কট করা উচিত আমাদের। চীন শুধু ব্যবসার ভাষা বোঝে। তাই ওদের অর্থনৈতিকভাবে বয়কট করলে, তা ওদের কাছে যুদ্ধের থেকেও ভয়ঙ্কর হবে”।

চট্টেশ্বরী সড়কের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হিন্দুদের

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মা চট্টেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার রাস্তার নাম পরিবর্তন করা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, রাতারাতি রাস্তায় থাকা ছ’টি নামের ফলক সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর জে এই মাদ্রাসা সড়ক নামের ফলক লাগানো হয়। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় এবং পথ অবরোধ, মানববন্ধন করে।  চাপে পড়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে শান্ত করতে  এমপি বিবৃতি দিলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে চট্টেশ্বরী রোডের নাম ফেরালে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

হিন্দু সংহতির প্রচেষ্টায় লাভ জিহাদের শিকার প্রিয়া সর্দার উদ্ধার

IMG-20181228-WA0033গত ২৩শে ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখাঁ থানার অন্তর্গত গড় আবাদ গ্রামের বাসিন্দা মাধাই সর্দারের নাবালিকা কন্যাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় মোক্তাউদ্দিন মোল্লা। সেইসময় প্রিয়ার বয়স মাত্র ১৫ বছর ৮মাস ছিল। প্রিয়ার পিত মাধাই সর্দার  মিনাখাঁ থানায় মেয়েকে ফিরে পাবার জন্যে এবং দোষীর গ্রেপ্তারের জন্যে অভিযোগ দায়ের করেনFIR নং -৩৮৪/১৮ । কিন্তু পুলিসের তৎপরতা না দেখে তিনি হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে প্রিয়াকে উদ্ধার করার জন্যে পুলিসের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, স্টেট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার দপ্তরে এবং প্রধানমন্ত্রীকেও চিঠি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে প্রিয়ার পরিবারের নিরাপত্তার দিকটিও হিন্দু সংহতির কর্মীরা লক্ষ রেখেছিলো। শেষপর্যন্ত গতকাল ১২ই মার্চ রাতে মিনাখাঁ থানার পুলিস প্রিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নাবালিকা প্রিয়া উদ্ধার হওয়ায়  হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মিনাখাঁ থানার পুলিসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

হিন্দু সংহতির উদ্যোগে রক্তদান শিবির বর্ধমান শহরে

গতকাল ১১ই মার্চ, সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্তর্গত বর্ধমান শহরে হিন্দু সংহতির এবং “ভাবনা”
সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। এই রক্তদান শিবির বর্ধমান শহরের শ্রী শ্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সামনে অভিষেক বিয়ে বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০ জন হিন্দু সংহতির কর্মী রক্তদান করে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, প্রমুখ কর্মী টোটন ওঝা এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রমুখ কর্মী শ্রী শিবাংশু ভঞ্জ, প্রশান্ত চক্রবর্তী এবং সঞ্জয় সূত্রধর।

আতঙ্কে ঘর ছাড়া হিন্দু মহিলাকে ঘরে ফেরালো হিন্দু সংহতি কর্মীরা

মুসলিমদের ভয়ে বাড়ি ছাড়া হিন্দু মহিলাকে ঘরে ফেরালো হিন্দু সংহতির কর্মীরা। গত ১০ই মার্চ, রবিবার হিন্দু সংহতির কর্মীরা মহিলাকে।সঙ্গে করে তাঁর বাড়িতে রেখে আসেন। ঘটনাটি হাওড়া জেলার অন্তর্গত বাগনান শহরের ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে আশ্রম মোড়ের বাসিন্দা শুভ্রা মিত্রের একটি পৈতৃক জমি তার ভাই ওনার অজান্তে ইউনুস নামে একজন মুসলমানকে বিক্রি করে দেন। সেইমতো মুসলমানরা ওই জমিতে একটি টিনের বাড়িও তৈরি করেন।সেটা জানার পর শুভ্রা মিত্র কোর্টে মামলা করেন এবং কোর্ট ১৪৪ ধারা জারি করে। ফলে বাড়ি তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় মুসলিমরা। এমতবস্থায় গত ৭ই মার্চ, বৃহষ্পতিবার ইউনুসের পরিবারের মহিলারা এবং তাঁর ছেলেরা শুভ্রা মিত্রের বাড়িতে এসে উনাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। উনাকে মারধর করে এবং কেস তুলে নেবার জন্যে শাসিয়ে যায় । এতে আতঙ্কিত হয়ে উনি ঘর ছাড়েন। এরপর ঘটনার কথা হিন্দু সংহতির কর্মীদের জানান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ওই মহিলাকে ওনার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন।সেই সঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মীরা উনার নিরাপত্তার বিষয়টিও খেয়াল রাখবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে যখন হিন্দু সংহতির কর্মীরা গিয়েছিলেন, সেই সময় ওই মুসলিমদের পরিবারের কেউ ছিল না, বাড়িটা তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। 

ভিডিও লিংক -https://www.facebook.com/hindusamhatibangla/videos/331598884151961/?t=3