কাছাড়ের বন্যাদূর্গত হিন্দুদের ত্রাণ বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

গত ১৬ই জুন, শনিবার আসামের কাছাড় জেলার রংপুরের বন্যাদুর্গত হিন্দুদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো হিন্দু সংহতির আসাম শাখার সদস্যরা।উল্লেখ্য  গত কয়েকদিন ধরেই কাছাড় জেলার বিভিন্ন অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাতেই অনেক হিন্দু এলাকা বিশেষ করে রংপুরের শিমুলতলা ও আশেপাশের এলাকাগুলি জলে প্লাবিত হয়ে যায়। আর সেই সমস্ত মানুষগুলিকে খিচুড়ি বিতরণ করা হয় হিন্দু সংহতির তরফ থেকে। এই কাজে হিন্দু সংহতির তরুণ কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ট্রেন বিতরণের সময় কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বরাক উপত্যকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রী পান্তু চন্দ মহাশয়।

Advertisements

পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘাটালের রামজীবনপুরে হিন্দুরা জিহাদি আক্রমণের শিকার

medinipur2গত ১৪ই মে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত ঘাটাল মহকুমার চন্দ্রকোনা টাউন থানার কাঁটাগোলা গ্রামের হিন্দু জিহাদি আক্রমণের শিকার হলো। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের একজন মুসলমান নামাজ পড়তে যাবার পথে হিন্দু কিশোরী বিপাশা মন্ডলের (নাম পরিবর্তিত) শ্লীলতাহানি করে। নিজেকে বাঁচাতে হিন্দু কিশোরী এই মুসলিম ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয়। তাতে ওই মুসলিম ব্যক্তি পড়ে যায় এবং তার মাথায় চোট লাগে এবং একটু রক্ত বেরিয়ে যায়। তারপর কিছু মুসলমান জড়ো হয়ে তাকে নিয়ে চলে যায়। কিন্তু কিছুক্ষন পর পাশের হুগলি জেলার গোঘাট থানার বাবুরামপুর, সুন্দরপুর এবং রামানন্দপুর থেকে medinipurকয়েকশো মুসলমান এসে কাঁটাগোলা গ্রাম আক্রমণ করে। মুসলমানরা একের পর এক হিন্দু বাড়িতে ভাঙচুর চালাতে থাকে। বাড়ির মহিলারা ঘরে লুকিয়ে যায়। মুসলমানের আক্রমণে অনেক হিন্দু বাড়ির আসবেস্ট-এর চাল ভেঙে যায়। এই আক্রমণে দিলীপ চৌধুরী, সমর মালিক, শ্রীকান্ত পাল,তপন পাল,শম্ভুনাথ দলুই,বংশী মালিক ও আরতি মালিকসহ মোট ৩৫ টি হিন্দু বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর মধ্যে বংশী মালিকের হাত ভেঙে গিয়েছে। বাদল দোলুইয়ের পিঠে রডের আঘাতে কেটে গিয়েছে। বর্তমানে এলাকার হিন্দুরা ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গতকাল ১৭ই মে, বৃহস্পতিবার হিন্দু সংহতির একটি প্রতিনিধিদল এলাকা পরিদর্শনে যায়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে স্থানীয় হিন্দুদের সমস্তরকমের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

মালদার ইংলিশবাজারে হিন্দু ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের চেষ্টা মুসলিমদের, প্রতিরোধ হিন্দুদের

মালদা জেলার অন্তর্গত ইংলিশবাজার থানার লক্ষীপুর বাজার। আশেপাশের এলাকা মুসলিম অধ্যুষিত হলেও বাজারে হিন্দু ব্যবসায়ীদের আধিক্য ছিল। কিন্তু   গত ১৭ই মে, বৃহস্পতিবার আশেপাশের এলাকার মুসলমানরা লাঠি,রড ইত্যাদি নিয়ে লক্ষ্মীপুর বাজারে হিন্দু ব্যবসায়ীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের দোকান থেকে বের করে যথেচ্ছ মারধর করে মুসলিমরা। মুসলিমদের মারে অনেক হিন্দু ব্যাবসায়ী আহত হন। এতে বাজারে থাকা ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। কিন্তু কিছু সময় পর হিন্দু ব্যবসায়ীরা ও আশেপাশের হিন্দু মানুষজন এই জিহাদি আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা জিহাদি আক্রমণকারীদেরকে মারধর করেন। তাদের মারে মুসলমানরা বাজার ছেড়ে পালিয়ে যায়। তখন আহত হিন্দু ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করে মালদা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মুসলিমদের মারে মোট ৯জন হিন্দু ব্যবসায়ী আহত হন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও আহত ব্যবসায়ী সঞ্জীব মন্ডলের মাথায় চোট থাকায় তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। লক্ষীপুরের হিন্দু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে, বাজারের হিন্দু ব্যবসায়ীদেরকে উচ্ছেদ করার চক্রান্ত করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে। কোনোরকম অশান্তি এড়াতে বর্তমানে লক্ষীপুর বাজারে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আসামের হাইলাকান্দিতে হিন্দু ছাত্রের খৎনা করলো স্কুলের মুসলিম শিক্ষকরা

khotnaগত ১১ই মে, শনিবার আসামের হাইলাকান্দির এক স্কুলে পাঠরত হিন্দু ছাত্রকে ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী খতনা (লিঙ্গচ্ছেদ) করালো স্কুলেরই মুসলিম শিক্ষক ও ছাত্ররা। এইরকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে হাইলাকান্দির ঘাড়মুরা বিদ্যাপীঠে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রের নাম সমু দাস। এই ব্যাপারে হাইলাকান্দির পুলিশ সুপার মনীশ শর্মা জানিয়েছেন যে শিশুটির বয়স ৬ বছর। তার মা আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। আমরা বিশেষজ্ঞ দিয়ে ঘটনার তদন্ত করছি। তবে এই ঘটনা অসামজুড়ে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এইরকম ইসলামিক বর্বরতা পাকিস্তান বা বাংলাদেশে এর আগে ঘটলেও ভারতে ঘটায় অনেকেই আতংকিত এবং চিন্তিত।

রাতের অন্ধকারে গোপালগঞ্জের শ্মশান কালীমন্দিরে ভাঙচুর চালালো দুষ্কৃতীরা

বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের শ্মশান কালীমন্দিরে হামলা চালিয়ে কালী মূর্তিতে ভাঙচুর চালায় কিছু দুষ্কৃতী। গত ৯ই মে, বুধবার রাত ১১টার দিকে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কাজী লিয়াকত আলী ও পুলিশ কর্মকর্তারা শ্মশান পরিদর্শন করেছেন।গোপালগঞ্জ পৌর মহাশ্মশানের পূজারী চন্ডিদাস বিশ্বাস বলেন, আমি শ্মশান কালী মন্দিরের পিছনে একতলা ভবনে থাকি। রাত ১১টার দিকে মন্দিরে শব্দ শুনতে পাই। শব্দ শুনে মন্দিরে কারা জিজ্ঞাসা করলে তারা আমার ঘরের সামনে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাইরে আসতে বলে এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। সকালে মন্দিরে গিয়ে দেখতে পাই কালী মূর্তির বাম হাতের দুটি আঙ্গুল ও মাথার ডান পাশের কিছু অংশ ভাঙা। মন্দিরের মধ্যে একটা লম্বা বাঁশও দেখতে পাই। মন্দিরের গেটের বাইরে থেকেই তারা লম্বা ওই বাঁশ দিয়ে মূর্তি ভেঙেছে বলে জানান ওই পূজারি। গোপালগঞ্জ পৌর মহাশ্মশানের সভাপতি ভিষ্মদেব মৃধা বলেন, “বুধবার রাতে কে বা করা শ্মশানে কালী মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর করেছে। “সকালে শ্মশানের পূজারি চণ্ডিদাস বিশ্বাসের কাছে খবর পেয়ে শশ্মানে ছুটে যাই এবং বিষয়টি পুলিশকে জানাই। মন্দিরটি পরিদর্শন করে এসে গোপালগঞ্জ সদর সার্কেলের এএসপি মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছেন তারা।ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। পুলিশ দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলেও সন্তুষ্ট হতে পারছেন না স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দুরা। তারা এই ঘটনায় আতঙ্কিত বোধ করছেন।

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মা-মেয়ের ওপর অ্যাসিড ছুঁড়লো সুকুর আলি

ফের অ্যাসিড হামলা৷ এবার উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অন্তর্গত গোপালনগর থানার ভাণ্ডারখোলায়৷ কুপ্রস্তাবে রাজি না -হওয়ার এক মহিলাকে অ্যাসিড ছোড়ে এলাকারই এক যুবক৷ অ্যাসিড হানায় আক্রান্ত হন ওই মহিলা ও তাঁর মেয়ে৷ অভিযুক্ত পলাতক৷ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, গত ৯ই মে, বুধবার গভীর রাতে সুকুর আলি জানালা দিয়ে ওই মহিলাকে লক্ষ করে অ্যাসিড ছোড়ে বলে অভিযোগ৷ তখন মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন ওই গৃহবধূ।  স্বামী বাথরুমে গিয়েছিলেন৷ অ্যাসিড পড়তেই যন্ত্রণায় চিৎকার  করে ওঠেন মা ও মেয়ে৷ দ্রুত ঘরে ঢুকে স্বামী দেখেন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে স্ত্রী ও মেয়ে৷ গৃহবধূর স্বামীর অভিযোগ , জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে তিনি তখন সুকুর আলিকে পালাতে দেখেন৷ তখন অবশ্য সুকুরকে নিয়ে ভাবার সময় ছিল না৷ দ্রুত স্ত্রী -মেয়েকে নিয়ে বনগাঁ হাসাতালে ছোটেন তিনি৷ সঙ্গে যান পড়শিরাও৷ পরে গোপালনগর থানায় সুকুর আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে৷ পুলিশ অভিযুক্ত সুকুর আলির খোঁজ শুরু করেছে৷ ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া অভিযুক্ত সুকুর আলি৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , বেশ কিছুদিন ধরেই ওই গৃহবধূর পিছু নিয়েছিল সুকুর৷ রাস্তাঘাটে দেখা হলেই নানা কুপ্রস্তাব দিত সে৷ সুকুর এলাকায় অটো চালায়৷ সেই সুকুরের ভয়ে রাস্তায় বেরোতেই ভয় পেতেন ওই গৃহবধু৷ হাসপাতালে বেডে শুয়ে আক্রান্ত মহিলা বলেন , ‘রাত তখন বারোটা হবে৷ আমি মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম৷ আচমকাই মুখে ,হাতে , গলায় জ্বালা শুরু হল৷ যন্ত্রণায় আমরা দু’জনেই চিৎকার  শুরু করি৷ ’ বুধবার রাতেই অ্যাসিডে দগ্ধ মা -মেয়ের চিকিৎসা  শুরু হয় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে , প্রাথমিক চিকিৎসার  পর দু’জনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার সকালেই সুকুর আলির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়৷ আক্রান্ত মহিলার পরিবারের অভিযোগ , দিনে দিনে সুকুর আলির কুপ্রস্তাব বেড়েই চলছিল৷ এলাকার লোকজনের দাবি , সুকুরকে গ্রেপ্তার  করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে৷ সুকুরের খোঁজ জোর তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

একাত্তরের গণহত্যার অভিযুক্ত আল-বদর কমান্ডার রিয়াজউদ্দিন ফকিরের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাদেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী মদতপুষ্ট ঘাতক বাহিনী আল-বদর সারা বাংলাদেশ জুড়ে হিন্দু গণহত্যা,লুঠপাঠ ও ধর্ষণ চালিয়েছিল। সেইসঙ্গে মুক্তিকামী মুসলিম জনগণের ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আল-বদর বাহিনী।  সেই আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার রিয়াজউদ্দিন ফকিরকে গতকাল ১০ই মে, বৃহস্পতিবার মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। তার বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়াতে গণহত্যা, খুন, ধর্ষণ-এর মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল। সেইসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইবুনালের বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে থাকা তিন বিচারপতির বেঞ্চ আল-বদর কমান্ডার রিয়াজউদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। ময়মনসিংহ জেলায় গণহত্যার মামলায় ৫৯ বছর বয়সী রিয়াজুদ্দিন ছাড়াও আর এক অপরাধী আমজাদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু বিচার চলাকালীন গতবছর আমজাদ আলী অসুস্থ হয়ে মারা যান। বাংলদেশের সংবাদপত্রে  প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজউদ্দিন প্রথমে জামাত-ই -ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামিক ছাত্র সংঘের নেতা ছিলেন। পরে মুক্তি যুদ্ধের সময় গঠিত আল-বদর বাহিনীতে যোগ দেন এবং ময়মনসিংহ জেলার কমান্ডার দায়িত্ব পান। তার নেতৃত্বে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের  ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন অংশে গণহত্যা ও ধর্ষণ-এর মতো মানবতাবিরোধী কাজ করেছিলেন। রিয়াজুডিয়ানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে খুশি বাংলদেশের সাধারণ মানুষজন।

হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেবার বিরোধিতা করছে আসামের মুসলিম সংগঠনগুলি

গুয়াহাটির খানপাড়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাফ কলেজ। ভিতরে চলছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী সংশোধনের কাজ,ঠিক সেই সময় বাইরে তুমুল বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা শ্লোগান দিচ্ছে ঘনঘন। সবার একটি দাবি-”বাংলাদেশী হিন্দুদের নাগরিকত্ব মানছি না। গত ৬ই মে, এইরকম ঘটনার স্বাক্ষী থাকলো গুয়াহাটি। হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেবার বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখালো সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন, সারা অসম মাদ্রাসা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এবং মুসলিম ছাত্র সংস্থা। তারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন ‘নাগরিকত্ব আইন সংশোধন মানব না’, ‘হিন্দু বাংলাদেশী হুঁশিয়ার’। একইসঙ্গে বিক্ষোভ দেখায় সারা অসম বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি। আর এই বিক্ষোভের সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আসামের বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

দার্জিলিং-এ পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বস্তি গড়ে উঠছে,অভিযোগ আলুওয়ালিয়ার

পরিকল্পিতভাবে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে এসে দার্জিলিং-এ থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল সাংবাদিকদের সামনে এমন মন্তব্য করেন শিলিগুড়ির এম পি সুরেন্দ্র সিং আলুওয়ালিয়া। তিনি আরো  বলেন যে পাহাড় ও তার আশেপাশের চিকেন নেক অঞ্চল ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গা মুসলিমদের এনে বসলে তা যেমন ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক তেমনি পাহাড়ের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও বিপদের কারণ হতে পারে। তিনি এই সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন যে দার্জিলিং-এর ডেলোতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের এনে বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখানে প্রায় ৫০টি রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবার এসে বাড়ি করে ফেলেছে। তিনি অভিযোগ  জানান যে, রোহিঙ্গাদেরকে এখানে আনার পিছনে GTA প্রধান বিনয় তামাঙ্গ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হাত রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে সব জেনেও চুপ করে আছেন বিনয় তামাঙ্গ। উল্টে রোহিঙ্গাদের নানরকমভাবে সাহায্য করা হচ্ছে।  আলুওয়ালিয়ার এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কলকাতায় ট্যাক্সি থেকে মহিলাদের ওপর অ্যাসিড হামলা,অভিযুক্ত শেখ নূর মমতাজকে খুঁজছে পুলিশ

দক্ষিণ কলকাতার পণ্ডিতিয়া রোডে গত৬ই মে, রবিবার রাতে ঘটে গেছে আঁতকে ওঠার মতো ঘটনা। চলন্ত ট্যাক্সি থেকে অ্যাসিড ছুঁড়ে পথচারী মহিলাদের  জখম করে পালিয়েছে এক দল দুষ্কৃতিকারী। স্থানীয়রা ট্যাক্সিটিকে তাড়া করলে চালকসহ সবাই ট্যাক্সি ফেলে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাত ১০টার দিকে পণ্ডিতিয়া রোড দিয়ে যাচ্ছিল ডব্লুবি০৪এফ৭৫৯৩ নম্বরের একটি হলুদ ট্যাক্সি। গাড়িতে ছিল তিন-চারজন যুবক। ডোভার টেরেসের কাছে হঠাৎই ট্যাক্সির জানালা দিয়ে চালক মহিলাদের উপর অ্যাসিড হামলা চালায়। ট্যাক্সিতে চালক ছাড়াও আরও দু’জন ছিল বলে দাবি প্রত্যদর্শীদের। মূলত মহিলাদেরই টার্গেট করা হয়। অ্যাসিড হামলায় ছয় জন জখম হয়েছেন।এদের প্রত্যেকেরই  অ্যাসিড লেগে হাত,মুখের অনেকটা পুড়ে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, ওই তরুণী চালককে রিকি বলে এক স্থানীয় যুবক হিসেবে শনাক্ত করতে পেরেছেন। এক তদন্তকারী অফিসার জানান, রিকি কালীঘাটের নিষিদ্ধ পল্লীতে থাকে। তার ভালো নাম শেখ নূর মুমতাজ। এর আগেও একবার গোলমাল পাকানোর জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল রিকিকে। রিকির খোঁজ করছে পুলিশ। ট্যাক্সিতে আর কারা ছিল? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কি কারণে হামলা? তা নিয়ে ধন্দ্বে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে রিকি পালাতক।

পূর্বস্থলীতে মন্দিরের ষাঁড়কে হত্যা,মামলা দায়ের পুলিশের,অভিযুক্ত ফেরার

দেবতার নামে উৎসর্গ করা ষাঁড়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগে মামলা দায়ের করল পূর্বস্থলী থানার পুলিস। বরিবার বিকেলে পূর্বস্থলীর চণ্ডীপুরে ষাঁড় মারার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত ষাঁড়টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কাছাকাছি পশুদের ময়নাতদন্তের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় থানা চত্বরে পশু চিকিৎসক নিয়ে এসে ষাঁড়টির ময়নাতদন্ত করায় পুলিস।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলীর মেড়তলা পঞ্চায়েতের চণ্ডীপুর এলাকার শিবমন্দিরে ভক্তরা মানত পূরণের উদ্দেশ্যে একটি ষাঁড় ছেড়ে দিয়ে যান। দেবতার নামে উৎসর্গ ষাঁড়টি বেশ কিছুদিন ধরেই গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ষাঁড়টি গ্রামের মধ্যে কখনও গৃহস্থের গাছপালা ও চাষের জমিতে নেমে ফসলের ক্ষতি করছিল। রবিবার বিকেলে ষাঁড়টি স্থানীয় বাসিন্দা শুকচাঁদ ঘোষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। সেই সময় সে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ষাঁড়টিকে আঘাত করে। কিছুক্ষণ পরই ষাঁড়টি মারা যায়। পশুটিকে এভাবে মেরে ফেলার ঘটনাটি এলাকার অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এই ঘটনার পরই এলাকার বাসিন্দারা পুলিসে খবর দেন। পুলিস মৃত ষাঁড়টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। এরপরই অভিযুক্ত শুকচাঁদ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
কালনার এসডিপিও শান্তনু চৌধুরী বলেন, চণ্ডীপুরে একটি ষাঁড়কে মেরে ফেলার ঘটনায় কেস রুজু হয়েছে। পশু চিকিৎসককে ডেকে মৃত ষাঁড়টির পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তর খোঁজ চলছে।

উচ্চ শিক্ষিত জঙ্গি মহম্মদ রফি ভাট সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত

vatগত ৬ই মে কাশ্মীরে সেনাবাহিনী বড়ো সাফল্য পেলো। সেনাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় পাঁচজন জিহাদির-যারা সকলেই হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গি। এরমধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী নাম হলো মহম্মদ রফি ভাট। কিন্তু কে এই মহম্মদ রফি ভাট? কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কনট্র্যাকচুয়াল প্রফেসর ছিল মহম্মদ রফি ভাট (৩৩)। সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি ছিল তার। গান্ডেরওয়াল জেলার চুন্দিনার বাসিন্দা সে। কয়েকদিন আগেই জঙ্গি সংগঠনে নাম লিখিয়েছিল ভাট। শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দিনই মাকে শেষবারের মতো ফোন করেছিল সে। বলেছিল, স্বল্প মেয়াদী জীবনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। রবিবার বাবা ফৈয়াজ আহমেদ ভাটকে ফোন করে রফি। তখনই বাবাকে ‘বিদায়’ জানায় সে।
ঠিক কী বলেছিল রফি? পুলিসকে ফৈয়াজ জানিয়েছে, ‘সকালেই ছেলে আমাকে ফোন করে বলে, বাবা আমি যদি তোমাকে কখনও আঘাত দিয়ে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করো। এটাই আমার শেষ ফোন। কারণ আমি আল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছি।’ রিপোর্ট বলছে, জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখালেও ছেলে কখনও অস্ত্র তুলে নেবে না বলে পুলিসকে জানিয়েছিলেন ফৈয়াজ। ১৮ বছর বয়সে একবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল ভাট। তখন পুলিস তাকে পাকড়াও করে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই ছেলের উপর কড়া নজর রাখতেন বাবা ফৈয়াজ।
বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকে যে সমস্ত কাশ্মীরি তরুণ জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই অল্প দিনের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে। সেইমতো গতকাল ৬ই মে, রবিবার পুলিসের জালে পড়ে যায় ভাট। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় তার।

 

মুর্শিদাবাদে মাদক ইনজেকশন কারবারি রেজাউল করিম গ্রেপ্তার

মুর্শিদাবাদ থেকে একগুচ্ছ ইঞ্জেকশন বাজেয়াপ্ত করল নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। এইসব ইঞ্জেকশন বুপ্রোনরফিন গ্রুপের। যা মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে জানা যাচ্ছে। হেরোইনের আকাল পড়ায় এই ইঞ্জেকশনের চাহিদা বেড়েছে। গত ৪ঠা মে, শুক্রবার এই ইঞ্জেকশন কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন এনসিবি’র অফিসাররা। আরও একজন ভুয়ো মেডিক্যাল প্র্যাক্টিশনারের খোঁজ চলছে। লাইসেন্স ছাড়াই ওষুধের দোকান খুলে সে এই কারবার চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। সে কোনও ডিগ্রি ছাড়াই মেডিক্যাল প্র্যাকটিস করে বলে জানা গিয়েছে।
এনসিবি’র কাছে খবর আসে, মুর্শিদাবাদে একটি নির্দিষ্ট ইঞ্জেকশনের চাহিদা ব্যাপকহারে হারে বেড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে তা নিয়ে আসা হচ্ছে। এক-একটি ইঞ্জেকশন বিক্রি করা হচ্ছে একশো টাকায়। অল্পবয়সি যুবকদের মধ্যে এর বিপুল চাহিদা রয়েছে। তারা ওই ইঞ্জেকশন কিনে নিয়ে গিয়ে সিরিঞ্জ দিয়ে নিজেরাই শরীরে পুশ করছে। এরপরই এনসিবি’র একটি টিম মুর্শিদাবাদে হানা দেয়। সেখান থেকে রেজাউল করিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ইঞ্জেকশন। তাকে জেরা করে আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ মেলে। জানা যায়, তার ওষুধের দোকান রয়েছে। কিন্তু লাইসেন্স ছাড়া বেআইনিভাবে ওই দোকান চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সে কোনও ডিগ্রি ছাড়াই মেডিক্যাল প্র্যাকটিস করে। তার কাছে এনসিবি কর্তাদের আসার খবর কোনওভাবে পৌঁছে যাওয়ায় সে পালিয়ে যায়। তার বাড়ি থেকেও উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণ ইঞ্জেকশন। প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই সেইসব ইঞ্জেকশন নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ইঞ্জেকশনের মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করেছে এনসিবি।