মুসলিম প্রেমিকের হুমকিতে বিয়ের রাতেই আত্মঘাতী হলেন ডায়মন্ড হারবারের হিন্দু তরুণী

priyanka pramanikসবেমাত্র সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন নবদম্পতি। হঠাৎ বিয়ের মণ্ডপে হাজির তরুণী পাত্রীর পুরনো প্রেমিক। পাত্রের কপালে রিভলভার ঠেসে ধরে সে হুমকি দিয়ে যায়, ‘‘সকাল ৭টার মধ্যে আমার প্রিয়াকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিবি। না হলে সব ক’টাকে খুন করে ফেলব!’’ সেটা যে স্রেফ ফাঁকা হুমকি ছিল না, তা টের পেয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। রাতভর মোটর বাইক নিয়ে এলাকায় চক্কর কাটে প্রেমিক।
পিছনের দরজা দিয়ে মঙ্গলবার রাতেই এলাকা ছাড়েন সদ্য বিবাহিত দম্পতি প্রিয়াঙ্কা (১৮) এবং সোমনাথ প্রামাণিক। আশ্রয় নেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। শনিবার সকালে সেখানেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় প্রিয়াঙ্কার।
পরিবারের দাবি, রাতে টেলিফোনে বিষয়টি বার বার জানানো হয়েছিল পুলিশকে। কিন্তু তারা গুরুত্ব দেয়নি। অভিযোগ মানছে না পুলিশ। তাদের কাছে কোনও খবর ছিল না বলেই দাবি পুলিশ কর্তাদের। লিখিত অভিযোগ এলে তদন্ত করে দেখার আশ্বাস মিলেছে। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার বাড়ি কুলতলির পশ্চিম ছাটুইপাড়ায়। এ বছরই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন তরুণী। তাঁর পরিবার সূত্রের খবর, বছর দু’য়েক আগে রায়দিঘিতে বেড়াতে গিয়ে তাঁর আলাপ হয়েছিল ফইজ্জুল মোল্লা নামে এক যুবকের সঙ্গে। ফইজ্জুল অবশ্য নিজের নাম বলেছিল রাজু দাস। দু’জনের মেলামেশা শুরু হয়।
কিছু দিন পরে প্রিয়াঙ্কা জানতে পারেন, মিথ্যা পরিচয় দিয়েছিল রাজু। যোগাযোগ কমিয়ে আনেন তরুণী। বাড়িতেও বিষয়টি জানাজানি হয়। বিয়ের ঠিক হয় তাঁর। পাত্র, জয়নগরের দক্ষিণ বারাসতের রামচন্দ্রপুর গ্রামের যুবক সোমনাথ। বুধবার রাতে মেয়েকে রামচন্দ্রপুর গ্রামে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেন প্রিয়াঙ্কার পরিজনেরা। পুলিশকে তাঁরা জানিয়েছেন, বিয়ের অনুষ্ঠান সবে মিটেছে, অতিথি অভ্যাগতেরা তখনও অনেকেই হাজির। ফইজ্জুল্লা তার বন্ধু পলাশকে নিয়ে হাজির হয়। বাইক থেকে নেমে দু’জনে ঢুকে পড়ে বিয়ে আসরে। সেখানেই ফইজ্জুল্লা সোমনাথের কপালে রিভলভার ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। বলে, প্রেমিকাকে সকাল ৭টার মধ্যে যেন তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। না হলে সকলকে খুন করবে সে। মোবাইলে তোলা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও দেখায় সে সোমনাথকে।
পেশায় সেনাকর্মী সোমনাথ এই পরিস্থিতিতে কিছুটা ঘাবড়েই যান। তবে স্ত্রীর সম্মানের কথা ভেবে ঘটনাটা পাঁচকান করেননি। সোমনাথ জানান, বাইক নিয়ে দু’টি ছেলে বাড়ির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। এই পরিস্থিতিতে বাড়ি ছাড়ার কথা ভাবেন নবদম্পতি। বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে পাঁচিল টপকে দু’জনে বেরিয়ে পড়েন। ডায়মন্ড হারবারের কালীনগরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন। সোমনাথের কথায়, ‘‘গোটা বিষয়টা ফোনে পরিবারের লোকজনকে জানাই। প্রিয়াঙ্কার বাড়ির লোককেও বলি। স্ত্রীকে বলে আসি, পুরনো ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেল। আমি খুব তাড়াতাড়ি এসে তোমাকে নিয়ে যাব।’’ প্রিয়াঙ্কার দাদা শুভজিৎ ছাটুই জানান, বুধবার ভোরে শ্বশুরবাড়ি থেকে আসার পরে মনমরা হয়েছিল বোন। দুর্ঘটনা ঘটার ভয়ে সকলে নজরেও রেখেছিলেন। কিন্তু শনিবার শেষরক্ষা হল না। হঠাৎ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন প্রিয়াঙ্কা। বাড়ির লোক বাইরে থেকে চিৎকার করলেও দরজা খোলেননি তরুণী। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সকলে দেখেন, ততক্ষণে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েছেন তিনি।
Advertisements

কলকাতায় পালিত হলো প্রতাপাদিত্য উৎসব

গতকাল  বঙ্গের বীরযোদ্ধা মহারাজা প্রতাপাদিত্যের স্মরণে কলকাতায় পালিত হলো ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’। এই উৎসবের আয়োজক ছিল ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ নামক একটি সংগঠন। এই অনুষ্ঠানে সহযোগী ছিল #হিন্দু_সংহতি। কলকাতার থিওসোফিক্যাল সোসাইটি হলে এই অনুষ্ঠানে কলকাতার বহু জ্ঞানী-গুণী ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে সবাই মহারাজা প্রতাপাদিত্যের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রতাপাদিত্য স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শ্রী

 বিমল নন্দী, শ্রী সব্যসাচী বাগচী এবং সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাঙালির গর্বের ইতিহাস প্রতাপাদিত্যের সাশনকালের বিভিন্ন দিক, মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং বাঙালি হিন্দুর হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে কিভাবে তাঁর থেকে প্রেরণা পেতে পারে, তা তুলে ধরেন। সব্যসাচী বাগচী তার বক্তব্যে বলেন যে, প্রতাপাদিত্য মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলে বাংলায় হিন্দু শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই গৌরবের দিনগুলিকে বাঙালির ভুলে গেলে চলবে না।বরং তা থেকে প্রেরণা নিয়ে বাঙালি হিন্দুকে জিহাদি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে হবে এবং যদি প্রয়োজন হয়, তবে প্রতিশোধের রাস্তায় হাঁটতে হবে । সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বাঙালি হিন্দুর মধ্য থেকে হারিয়ে যাওয়া লড়াইয়ের ধারাটি তুলে ধরেন।তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাঙালি হিন্দু লড়তে জানে না, এ এক মিথ্যে প্রচার। বাঙালি হিন্দু লড়তে জানে ।তবু বারবার বাঙালি হিন্দুকে হারতে হয়।তার কারণ বাঙালির মধ্যে বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার অভাব। তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ সবাইকে বাঙালি হিন্দুর গৌরব ফেরানোর লড়াইয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই বাঙালি তাঁর হৃৎগৌরব ফিরে পাবে। এছাড়াও, এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে মহারাজা প্রতাপাদিত্য স্মরণে একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। সেটি প্রকাশ করেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য। এছাড়াও আয়োজকদের তরফে কল্যাণ সরকার, ধ্রুব মহাজন, প্রবীর ভট্টাচার্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও অনুষ্ঠানের আয়োজকরা লাভ জিহাদ ও নারী পাচার প্রতিরোধ করার কাজে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য হাওড়া জেলার শ্রী লাল্টু শী এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার শ্রী দীনবন্ধু ঘরামীর বিশেষ সম্মান প্রতাপাদিত্য পদক তুলে দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চলনা করেন শ্রী অনিমিত্র চক্রবর্তী।

উত্তর দিনাজপুরে হিন্দু বাসিন্দাদের ভোট দিতে দিলেন না গ্রামের মুসলিমরা

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মুকুটে নতুন পালক যোগ হলো ২০১৯শের লোকসভা ভোটে। গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা ভোট দিতে দিলেন না গ্রামের হিন্দুদের যারা সংখ্যালঘু। ঘটনাটি ঘটেছে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চোপড়া এলাকার একটি গ্রামে। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। গ্রামে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ওই গ্রামে মাত্র ৬০০ জন হিন্দু ভোটার। অভিযোগ, গতকাল যখন গ্রামের কয়েকজন হিন্দু বাসিন্দা ভোট দিতে বুথে যান, তখন বুথের বাইরে থাকা কয়েকজন মুসলিম ব্যক্তি তাদেরকে বলে যে তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গিয়েছে। প্রতিবাদ করলে মারধর করে ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজন বাসিন্দা সাইকেলে করে ভোট দিতে আসছিলেন, তাদেরকে রাস্তায় আটকে মারধর করা হয়, সাইকেল ভেঙে দেওয়া হয়। তাদেরকে বলা হয় যে তারা নাকি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক, তাই তাদেরকে বুথে যেতে দেওয়া হবে না।পুলিসকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ফলে লোকসভা নির্বাচনে গ্রামের একজনও হিন্দু বাসিন্দা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। পরে তারা দলবদ্ধভাবে বিক্ষোভ দেখান। তখন বিষয়টি কয়েকটি জাতীয় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নজরে আসে। তাদের প্রচার ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশের শুভবিদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মনে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তারা মনে করছেন যে এই ঘটনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রের বেহাল অবস্থার ছবি প্রকাশ পেয়েছে ।

শিয়ালদহ স্টেশনে গ্রেপ্তার মালদহের জালনোট পাচারকারী সাহাবুল শেখ

কলকাতা শহর থেকে ফের উদ্ধার হলো জালনোট। এবার শহরের ব্যস্ততম শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাহাবুল শেখ নামে মালদহের এক জালনোটের পাচারকারীকে। গত ১৮ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাতে তাকে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এসটিএফ সূত্রের খবর, মালদহ থেকে জাল নোট নিয়ে এসে কলকাতায় এক এজেন্টের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল সাহাবুলের। সে কোন ট্রেনে করে শিয়ালদহে আসছে, সেই তথ্য গোপন সূত্রে জানতে পারে এসটিএফ। তারপরেই নজরদারি বাড়ায় এসটিএফ। রাতেই ট্রেন থেকে নামতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে আড়াই লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করে এসটিএফ-এর অফিসাররা। উদ্ধার হওয়া টাকার সবটাই দু’হাজার টাকার নোটের। ধৃতকে প্রাথমিক জেরায় জানা গিয়েছে, বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে কলকাতায় জালনোট ছড়ানো হতো। এর আগেও সাহাবুল কলকাতায় এসে জালনোট দিয়ে গিয়েছে। আরও তথ্য জানার জন্যে তাকে জেরা করছেন এসটিএফ-এর অফিসাররা।

নিউ টাউনে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী

কলকাতার নিউ টাউন থানার পুলিস এক বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর নাম জাকির হোসেন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায়। জানা গিয়েছে,  সে দীর্ঘদিন কলকাতায় এসে গৌরাঙ্গনগরে ভাড়া থাকছিলো। গত ১৭ই এপ্রিল গৌরাঙ্গনগর এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মন্ডল থানায় অভিযোগ জানান যে  স্থানীয় মুসলিম যুবক জাকির তাঁর মেয়েকে হুমকি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক করতে বাধ্য করছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে নিউ টাউন থানার পুলিস। কিন্তু থানায় এসে জাকির আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড জমা দেয় ।কিন্তু পুলিস তদন্তে জানতে পারে এ সব জাল। তারপরেই তাকে বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং হুমকিসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিউ টাউন থানার পুলিস।

হাওড়ার বাগনানে হিন্দু সংহতির কর্মীদের নির্মিত শ্রী রাম মন্দিরের শুভ উদ্বোধন ও বস্ত্র বিতরণ

আজ, হাওড়ার বাগনানে হিন্দু সংহতির উদ্যোগে নির্মিত ভগবান শ্রীরামচন্দ্র এবং হনুমানজীর মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন কর্মসূচী এলাকাবাসীর তুমুল উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্ৰহনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন করেন হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস ,সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, সহঃ সভাপতি শ্রী সমীর গুহ রায় এবং বাগনানের বিধায়ক শ্রী অরূনাভ সেন(এলাকায় যিনি রাজা সেন নামেই পরিচিত)। তার ভাষনে বিধায়ক সেন প্রভু শ্রীরাম এবং তার পরম ভক্ত শ্রী বজরঙ্গবলীজীর মন্দির নির্মানে এবং রামনবমীতে শ্রদ্ধা সহকারে প্রভু শ্রীরামের পূজার উদ্যোগ গ্ৰহনের জন্য হিন্দু সংহতির বাগনান শাখার কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।সেইসঙ্গে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে হিন্দু সংহতির এই ধরনের অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই তিনি পুনরায় আসবেন। তার বক্তব্যে হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী রজত রায় মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র এবং তার পরম ভক্ত বজরঙ্গবলীর বীরত্বগাথা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট‍্যের উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মধ্যক্ষা শ্রীমতি অন্তরা সাহা এবং আনটিলা অঞ্চল প্রধান শ্রী সুকুমার মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বিশিষ্ট কার্যকর্তা শ্রী টোটন ওঝা। এদিন ৫০ জন মহিলাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরন করা হয়। সংগঠনের হাওড়া জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্রী মুকুন্দ কোলে এবং বাগনানের প্রমুখ কার্যকর্তা নিমাই,চন্দন, সুমনদের নেতৃত্বে এবং আনটিলা গ্ৰামের রঞ্জিত, গনেশ, বিশ্বনাথদের উদ্যোগে স্থানীয় যুবকরা বিপুল সংখ্যায় উৎসাহের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্ৰহন করেছিলো। মা , বোনদের উপস্থিতিও ছিলো লক্ষ‍্য করার মতো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হিন্দু সংহতির কর্মীরা মন্দির উদ্ঘাটনের জন্য প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে শোভাযাত্রা করে গিয়ে গঙ্গার জল আনে। শোভাযাত্রায় হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব অংশ নেন।

লাভ জিহাদের শিকার পূর্ব মেদিনীপুরের জ্যোতি দাস, হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ পরিবার

লাভ জিহাদের বিষ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মারাত্মক ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এর কবলে পড়ে একের পর এক কন্যাসন্তান হিন্দু সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
এবার লাভ জিহাদের শিকার হলো পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানার অন্তর্গত বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা জ্যোতি দাস(নাম পরিবর্তিত,বয়স ১৫ বছর) ।
Jyoti Dasতাঁর পিতা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে, গত ৫ই মার্চ নাবালিকা জ্যোতি স্কুল গিয়ে আর বাড়ি থেকে ফেরেনি। জ্যোতিকে কে বা কারা অপহরণ করেছে, তা অজানা থাকায়, তাঁর পিতা গত ৮ই মার্চ এগরা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এগরা থানা কেস শুরু করে, যার নম্বর-১৯২/১৯ ।তদন্ত শুরু করে এগরা থানার পুলিস। কিন্তু পরে জ্যোতির পিতা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে গ্রামের রবিউল খান(পিতা-খোদাবক্স), খোদাবক্স খান(পিতা-মোস্তাকিন), ঝর্ণা দাস এবং মোস্তাকিন খান তাঁর মেয়ের অপহরণে জড়িত। সেই কথা জানিয়ে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে চিঠি দেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও নাবালিকা জ্যোতিকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। সেইসঙ্গে দোষীদেরও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এমতাবস্থায় জ্যোতির পিতা মেয়েকে ফিরে পেতে সাহায্য চেয়ে হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্যের কাছে সহযোগিতা চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে অপহৃতা জ্যোতির পরিজনদের।

হিন্দু সংহতির সহায়তায় আসামে বিদেশী ঘোষিত ২ বাঙালি হিন্দু জামিন পেলো গুয়াহাটি হাইকোর্টে

আসামের কাছাড় জেলার ২ বাঙালি হিন্দু শ্রী সঞ্জীব দে এবং শ্রীমতি মায়ারানি দাসকে এই বছরেই বিদেশী ঘোষণা করেছিল আসামের বিদেশী ট্রাইবুনাল। বিদেশী ঘোষিত হওয়ার পরে ওই ২জনের পরিবারের আর্থিক সামর্থ ছিল না আইনি লড়াই চালানোর। তাছাড়া বিদেশী ঘোষিত হওয়ার পরে তাদেরকে গ্রেপ্তার হয়ে  ডিটেনশন ক্যাম্প-এ যেতে হতো এবং যতদিন না তারা নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমান করতে পারছেন, ততদিন তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটাতে হতো। এমতবস্থায় তারা হিন্দু সংহতির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে গত ৪ঠা হাইকোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল।  সে খবরও প্রকাশ করা হয়েছিল হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে গতকাল ১২ই এপ্রিল, শুক্রবার গুয়াহাটি হাইকোর্ট তাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। জামিন পাওয়ায় স্বভাবতই ওই হিন্দুর পরিবারের সদস্যরা খুশি এবং তারা হিন্দু সংহতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। তবে, হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত জানিয়েছেন যে, জামিন পেয়ে গেলেও আইনি লড়াই শেষ নয়। এরপরেও নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার দীর্ঘ লড়াই চলবে। এই লড়াইতে হিন্দু সংহতি এদের পাশে থাকবে।

রামনবমীর স্লোগান

লেখা- জয়

(১)
কৃত্তিবাসের অমর দান
বাংলা পেল রামের নাম। 

(২)
রামকৃষ্ণ, রামপ্রসাদ, রামমোহন
‘রাম’ নামে মাতলো আবার বঙ্গজীবন।

(৩)
হৃদয় জুড়ে তোমার নাম
জয় শ্রী রাম, জয় শ্রী রাম।

(৪)
বাংলা জুড়ে তোমার নাম
জয় শ্রীরাম জয় শ্রীরাম।

(৫)
ভারত জুড়ে তোমার নাম
জয় শ্রীরাম জয় শ্রীরাম।

(৬)
দিলাম মনের দরজা খুলে
রামের পূজা পদ্মফুলে।

(৭)
আমি শ্রীরামের যোদ্ধা
আমার হৃদয় অযোধ্যা।

(৮)
আমার প্রাণ আমার জমি
বাঁচাতে চাই রামনবমী।

(৯)
বাবর শাহর হিংসা নয়
প্রেম সে বলো রামের জয়।

(১০)
বখতিয়ারের বাংলা নয়
বাংলা বলে রামের জয়।

(১১)
জাগালো রামে বিশ্বাস
এই বাঙ্গলার কৃত্তিবাস।

মহারাজা প্রতাপাদিত্য – বাঙালির এক গর্বিত ও বিস্মৃত ইতিহাস

অঞ্জন বসু 

pratapadityaবঙ্গের বীর যোদ্ধা মহারাজা প্রতাপাদিত্য,বাঙালির এক গর্বিত ও বিস্মিত ইতিহাস।।
 গুহ বংশীয় কায়স্থ, মহারাজা বিক্রমাদিত্য ও রাজা বসন্ত রায় যশোর রাজ্যের কর্ণধার ও স্রষ্টা। এই বংশের স্বনামধন্য রাজা। মহারাজা প্রতাপাদিত্যই এখন আমাদের আলোচ্য বিষয়।১৫৬০ খৃষ্টাব্দে বা তার অব্যবহিতর পরে, শ্রীহরি বিক্রমাদিত্যর ঔরসে বসু কন্যার গর্ভে একটি সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় প্রতাপ গোপীনাথ। এই প্রতাপই বিশ্ববিশ্রুত বঙ্গেশ্বর মহারাজা প্রতাপাদিত্য। যুবরাজ অবস্থায় তিনি প্রতাপাদিত্য নামে পরিচিত হয়েছিলেন।
রাম রাম বসু প্রতাপ সম্পর্কে লিখেছেন, “জ্যোতিষিরা বললেন সব বিষয়েই উত্তম কিন্তু পিতৃদ্রোহী। হরিষেবিষাদ মনে রাজা অন্নপ্রাশনে পুত্রের নাম রাখলেন প্রতাপাদিত্য।” কার্যক্ষেত্রে প্রতাপ মাতার মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন এবং পিতৃদ্রোহী হয়েছিলেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র ৫দিন তখন সুতিকাগৃহে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। শ্রীহরি পত্নী বিয়োগে যেমন মর্মাহত হলেন তেমনি পুত্রের পিতৃঘাতী হওয়া নিশ্চিত মেনে নিয়ে অশান্তি ভোগ করতে লাগলেন। সুতরাং প্রথম হতেই তিনি প্রতাপের উপর বিরক্ত হলেন।
প্রতাপ পিতৃস্নেহ তিনি বিশেষ পাননি। অল্প বয়সে মা মারা যাওয়ায় কাকীমা বসন্ত রায়ের প্রথমা স্ত্রীর স্নেহে লালিত পালিত হতে থাকেন। পিতা তাঁর উপর বিরক্ত থাকলেও স্নেহমমতার মুর্তিমান অবতার রাজা বসন্ত রায়ের স্নেহগুণে তাঁর বিশেষ কোন ক্ষতি হয়নি। খুল্লতাত পত্নীর অতুল স্নেহে প্রতাপের যে নিজের জননী নাই তা তিনি জানতেন না। প্রতাপ কাকীমাকে মা জ্ঞান করে বড় ভক্তি করতেন। তাঁর ঔদ্ধত্য মায়ের স্নেহের কটাক্ষে বিলুপ্ত হতো। প্রতাপের রাজত্বকালে এই মাতাই “যশোহরের মহারাণী” বলে পরিচিত ছিলেন।
অতি শিশুকালে প্রতাপ শান্ত ও নিরীহ ছিলেন। আপত্য স্নেহের প্রভাবে বাল্যকালেই প্রতাপ চঞ্চল ও অস্থিরমতি হয়ে উঠলেন। এই সময় প্রতাপ বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও মেধাবী ছিলেন। তিনি জীবনে সংস্কৃত, ফারসী ও বাংলা ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি সংস্কৃতি তান্ত্রিক স্তবাদি অতি সুন্দর আবৃত্তি করতেন। ফারসীতে পত্র লিখতে ও অতি সুন্দরভাবে কথা বলতে পারতেন। প্রাদেশিক বাংলায় তিনি সৈন্যগণের সহিত কথা বলতেন। এই সব শিক্ষাই তাঁর তত মত ছিল না। তিনি শাস্ত্র অপেক্ষা শস্ত্র শিক্ষায় অধিক পক্ষপাতী ছিলেন। তাঁর সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট শিক্ষক ছিলেন রাজা বসন্ত রায় স্বয়ং। তিনি পিতৃব্য বসন্ত রায়ের সুযোগ্য অভিভাবকত্বের উত্তর কালে যশোর রাজ্যের সুযোগ্য ব্যাক্তিত্ব হিসেবে গড়ে ওঠেন। পূর্ব থেকেই রাজা বসন্ত রায় উদীয়মান যুবকের অদম্য উদ্যম ও লোক পরিচালনায় ক্ষমতা দেখে প্রতাপের সম্পর্কে অনেক কিছু আশা করতেন।
বাল্যকালে প্রতাপ যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি তরবারী, তীর চালনা ও মল্লযুদ্ধে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। জন্মাবধি সুন্দরবনের সাথে প্রতাপের নিবিড় সম্পর্ক ছিল। তিনি সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘ, হরিণ, গন্ডার (পূর্বে ছিল) প্রভৃতি শিকার করতেন। প্রতাপ বন্ধুবান্ধবসহ অরণ্যে প্রবেশ করে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন। এই সময় বালক প্রতাপের উচ্ছৃঙ্খলতায় বিক্রমাদিত্য ও বসন্ত রায় বড়ই বিপদে পড়লেন। অবশেষে উভয়ে পরামর্শ করে স্থির করলেন যে, বিবাহ দিলে প্রতাপের মতির পরিবর্তন হতে পারে। এই জন্য তারা উভয়ে উদ্যোগী হয়ে প্রতাপের বিবাহ দিলেন। ঘটকারিকায় প্রতাপের তিন বিবাহের কথা উল্লেখ আছে। সর্বপ্রথম প্রতাপের বিবাহ হয় পরমকুলীন, জগদানন্দ রায়ের (বসু) কন্যার সাথে। ১৫৭৮ খৃষ্টাব্দে প্রতাপ সম্মানিত জিতামিত্র নাগের কন্যা শরৎকুমারীর সাথে মহাসমারোহে বিবাহ করেছিলেন। এই শরৎকুমারীই তাহার পাটরাণী বা প্রধান মহিষী ছিলেন। প্রতাপের তৃতীয় বিবাহ হয়েছিল প্রতাপের রাজা হবার অনেক পরে। বিবাহ হইল পরমাসুন্দরী, গুণবতী, প্রণয়িনী রূপে স্ত্রী পেলেন, কিন্তু তার ঔদ্ধত্য ও মৃগয়াভিযান কমিল না।১৫৭৮ খৃষ্টাব্দের শেষভাগে প্রতাপ সূর্যকান্ত ও শংকরের সহিত রাজা বসন্ত রায়ের পত্র নিয়ে আগ্রার দরবারে উপস্থিত হন।এবং দিল্লির দরবারের সনদ নিয়ে নাম মাত্র বাৎসরিক করের বিনিময়ে যশোর রাজ্য শাসনের অনুমতি লাভ করেন, এভাবে প্রতাপ কৌশলে পিতাকে অপসারণ করে যশোর রাজ্যের অধীশ্বর হলেন।এবং বাংলায় ফিরে নিজের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।।
প্রতাপ রাজ্যের অধীশ্বর হবার পর রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেন। ১৫৮৩ সালে রাজা বিক্রমাদিত্যের মৃত্যুর পর যশোর নগরের ৮/১০ মাইল দক্ষিণে যমুনা নদী ও ইছামতী নদীর সংগম স্থলে সুন্দরবন ঘেষে ধুমঘাট নামক স্থানে এক নতুন নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। তথায় প্রতাপাদিত্যের রাজাভিষেক সম্পন্ন হয়। ধুমঘাটের ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে বাংলাদেশের তীরকাটি জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত। ধুমঘাটের দূর্গ নির্মাণের প্রধান ভার ছিল পাঠান সেনাপতি কামাল খোজার উপর। প্রবাদ আছে যে, প্রতাপের রাজ্যভিষেক উৎসবে এক কোটি টাকা খরচ হয়েছিল।
মহারাজা বিক্রমাদিত্যের মৃত্যুর পর যশোর রাজ্য দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন। প্রতাপ ও বসন্ত রায়ের মধ্যে জমিদারির সম্পত্তি বিভক্ত হইল। প্রতাপ জমিদারির দশ আনা অংশ এবং বসন্ত রায় জমিদারির ছয় আনা অংশ পেলেন। বসন্ত রায় এ অসম বন্টন আপোষেই মেনে নেন এবং স্বীয় পুত্রদের ভবিষ্যতে এ নিয়ে প্রশ্ন না তোলার জন্য নির্দেশ দেন। রাজ্য বিভাজনের পরও বসন্ত রায় অনেক দিন রাজ্যের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলার বার ভূঁইয়াদের অন্যতম প্রতাপাদিত্য সিংহাসনে আহরণ করেই সৈন্যবল বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। সুচতুর প্রতাপ প্রথম থেকেই মোঘলদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন।যেসব যুদ্ধযাত্রা করেন উড়িষ্যা অভিযান উল্লেখযোগ্য। উড়িষ্যা থেকে তিনি গোবিন্দ দেব বিগ্রহ এবং উৎকলেস্বর থেকে শিব লিংগ এনে গোপালপুর ও বেদকাশী নামক স্থানে স্থাপন করেন।
 মহারাজা প্রতাপাদিত্য রাজদন্ড গ্রহণ করে বঙ্গোপসাগরের উপকূল ভাগে মগ ও পর্তূগীজ জলদস্যুদের অত্যাচার দমনে মনোনিবেশ করেন। মগ ও ফিরিংদের অত্যাচারে ভারতের ভূস্বর্গ বঙ্গ দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হল। মগেরা কোন শাসন মানত না। মগেরা যে মুল্লুকের যেত সে এলাকাকে একেবারে ধ্বংস করে ছাড়িত। তৎকালে দক্ষিণ বঙ্গ জলদস্যুদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। তারা এদেশের নারী পুরুষ ধরে নিয়ে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করতো। বন্দীদেরকে হাতের তালুতে ছিদ্র করে সরু বেত ঢুকিয়ে হালি করে জাহাজের পাটাতনের নীচে বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হতো। ভাগীরথী থেকে সুদুর চট্টগ্রাম পর্যন্ত তারা এরুপ উপদ্রব চালাত। এসব জলদস্যুদের হার্মাদ বলা হত। প্রতাপাদিত এদের বশীভূত করেন। অনেকেই তাঁর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিল। প্রতাপ আরাকান রাজ কে পরাজিত করে তার কাছথেকে সন্দীপ নামক দ্বীপ জয় করেন।। মহারাজা প্রতাপাদিত্য ও মহারাজা কেদার রায় এর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। মহারাজ কেদার রায়ের মৃত্যুর পরে তার সেনাপতি কে কোবালো কে হত্যা করেন।
প্রতাপ রাজনীতি বিশারদ ছিলেন। প্রতাপের রাজত্বকালে তিনি প্রয়োজন বুঝে নানা স্থানে দূর্গ নির্মাণ করেন। প্রতাপের দূর্গসমূহ পশ্চিমে হুগলী নদী থেকে পূর্বে বালেশ্বর নদী পর্যন্ত এলাকা জুড়ে ছিল। তিনি বেশ কয়েকটি দূর্গ নির্মাণ করেন। সেগুলোর নাম হল – যশোর দূর্গ, ধূমঘাট দূর্গ, কমলপুর দূর্গ, বেদকাশী দূর্গ, শিবসা দূর্গ, জগদ্দল দূর্গ, সালিখা দূর্গ, সাতলা দূর্গ, আড়াই বাকী দূর্গ, মনি দূর্গ, রায়মঙ্গল দূর্গ, তকশ্রী দূর্গ ইত্যাদি। এই সমস্ত দূর্গের অনেকগুলি গভীর অরণ্যে অবস্থিত ছিল। এখনও কিছু কিছু দূর্গের ভগ্নাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়।
প্রতাপাদিত্য নিম্নবঙ্গ ও সুন্দরবন অঞ্চলে নদীনালা ও খাল বিলের কথা বিবেচনা করে নৌশক্তি ও নৌবাহিনীর দিকে মনোনিবেশ করেন। দেশে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংস্থান, নদীর অবস্থা ও উপকূলের প্রকৃতি বিচার করে কাতরী নির্মাণ করেন। প্রতাপ বাহিনীর ব্যবহৃত দ্রুতগামী নৌকা সমূহের মধ্যে ছিল – ঘুরাব, বেপারী, কোশা, বলিয়া, পাল, মাচোয়া, পশতা, জালিয়া, পিয়ারা, মহলগিরি প্রভৃতি। এই সকল নৌকাসমূহের মধ্যে ঘুরাব সবচেয়ে শক্ত ওশক্তিশালী। তার সময়ে যশোরের কারিগরগণ জাহাজ নির্মাণে বিশেষত্ব লাভ করেছিল। তৎকালে শায়েস্তা খাঁ যশোর হতে অনেক জাহাজ প্রস্তুত করে নিয়েছিলেন। প্রতাপাদিত্যের উৎকৃষ্ট কাতরীর সংখ্যা সহস্রাধিক ছিল। ইসলাম খাঁর নবাবী আমলে আব্দুল লতীফ নামে একজন ভ্রমণকারীর বিবরন হতে জানা যায়, “প্রতাপাদিত্য বঙ্গদেশের শক্তিশালী রাজা। তাঁর যুদ্ধসামগ্রীতে পূর্ণ সাতশত নৌকা এবং বিশ হাজার পদাতিক সৈন্য ছিল এবং তার রাজ্যের আয় পনের লক্ষ টাকা।” কালীগঞ্জ – শ্যামনগর সড়কের পূর্ব পার্শ্বে মৌতলার নিকট তার জাহাজ ঘাটা কুআর বন নামক স্থানে জাহাজের পোতাশ্রয় ছিল। নিকটবর্তী দুদলিয়া গ্রামে ছিল তার কাতরী নির্মাণের বন্দর। জাহাজঘাটার নৌবিভাগের সর্বাধ্যক্ষ ফ্রেডারিক ডুডলির নামে একটি গ্রাম আছে। বন্দরের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন নৌসেনার অধ্যক্ষ ছিলেন অগাষ্টস পেড্রো।
প্রতাপাদিত্যের সেনাপতিদের মধ্যে সূর্যকান্ত ও শংকর প্রতিপত্তিশালী ছিলেন। সুপন্ডিত, ধীরস্থির কর্তব্যকাসার এবং ব্রাহ্মনোচিত প্রতিভা সম্পন্ন শংকর চক্রবর্তী রাজস্ব ও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে পরিদর্শন করতেন। মহাযোদ্ধা, অসমসাহসী, সবশাস্ত্র বিশারদ এবং লোক পরিচালনে অদ্বিতীয়, ক্ষমতাশালী সূর্যকান্ত  রাজত্বের প্রথম ভাগে রাজ্যের প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তিনি সৈন্য রক্ষণ, যুদ্ধব্যবস্থা ও বলসঞ্চয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। শঙ্কর দেওয়ান ও মন্ত্রণা বিভাগের কর্তা এবং সূর্যকান্ত সৈন্যবিভাগের অধ্যক্ষ। প্রতাপ হিন্দুরাজা হয়েও পাঠান ও পর্তুগীজ সৈন্যরা যুদ্ধে অধিকতর দক্ষ ছিলেন বলে তাদের নিযুক্ত করতেন। প্রতাপের সেনাবাহিনীতে নয়টি ভাগ ছিল। প্রধান সেনাপতির অধীন এর প্রত্যেক বিভাগে পৃথক পৃথক সেনানী ছিল। সেনাবাহিনীতে ঢালি বা পদাতিক সৈন্য, অশ্বারোহী সৈন্য, তীরন্দাজ সৈন্য, গোলন্দাজ সৈন্য, নৌ সৈন্য, গুপ্ত সৈন্য, রক্ষী সৈন্য, হস্তী সৈন্য, পার্বত, কুকী সৈন্য, এই নয় বিভাগে বিভক্ত ছিল। যুদ্ধে ঢাল, তলোয়ার, শড়কী, বল্লম, লেজা, কামান, বন্দুক, বর্শা, তীর প্রভৃতি অস্ত্র শস্ত্র ব্যবহৃত হতো। প্রতাপের ঢালী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন মদন মল্ল। অশ্বারোহী বাহিনীর প্রধান অধ্যক্ষ প্রতাপ সিংহ দত্ত এবং সহকারী ছিলেন মাহিউদ্দীন, বৃদ্ধ নূরউল্লা প্রভৃতি। তীরন্দাজ বাহিনীর প্রধান ছিলেন সুন্দর ও ধুলিয়ান বেগ। গোলন্দাজ বাহিনীর অধ্যক্ষ ছিলেন ফ্রান্সিসকো রড়া। নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন অগষ্টাস পেড্রো। সুখা নামক এক দুঃসাহসী বীর গুপ্ত বাহিনীর প্রধান ছিলেন। রক্ষী বাহিনীর প্রধান ছিলেন রত্নেশ্বর বা যজ্ঞেশ্বর নয়, বিজয় রাম ভক্ত চৌধুরী প্রমুখ। হস্তী সৈন্য বাহিনীর কোন অধ্যক্ষের নাম পাওয়া যায় না। পাত্রি কুকী বাহিনীর প্রধান ছিলেন রঘু। মহারাজ প্রতাপাদিত্যের আরাধ্য দেবী ছিলেন মাদুর্গা যিনি যশোরেরস্বরি নামে পরিচিত ছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, ১৫৮৭ খৃষ্টাব্দে প্রতাপাদিত্য নিজ হাতে রাজ্য শাসন শুরু করেন। ঐ বছরই ধুমঘটি দুর্গ নির্মাণ শুরু হয় এবং অচিরেই কাজ সমাপ্ত হয়। উড়িষ্যা যুদ্ধ থেকে ফিরবার পরে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণার মনস্থ করেন এবং মোঘলদের বিরুদ্ধাচারণ করতে শুরু করেন। পিতৃব্য বসন্ত রায় তাঁকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করেন এবং ভয়াবহ পরিণামের কথা বুঝায়ে দেন। প্রতাপ নিষেধ বাণীর উল্টো মর্ম বুঝে বসেন। পিতৃব্য ও ভ্রাতুষ্পুত্র একে অপরের প্রতি বিশ্বাস থাকল না। প্রতাপ সর্বদা বসন্ত রায়কে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে লাগলেন।
প্রতাপ কিছুদিন তার খুড়ার সাথে সদ্ভাব রক্ষা করে চলেছিলেন। বসন্ত রায় নানাবিধ সৎকার্য সাধন করে প্রজাদের প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। পিতৃব্যের এই সুনাম প্রতাপের মনে বিদ্বেষভাবের জন্ম দেয়। এক শ্রাদ্ধ উৎসবে নিমন্তণ পেয়ে প্রতাপ পিতৃব্যের বাড়িতে গমন করেন এবং সামান্য একটা কথায় সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তিন পুত্র সহ তাহাকে হত্যা করেন। এই হত্যাকান্ডের সময় বসন্ত রায়ের কনিষ্ঠ পুত্র রাঘব রায় এক কচুবনে আত্মরক্ষা করেন বলে পরবর্তীকালে তিনি কচুরায় নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
কেউ কেউ বলেন যে, প্রতাপ ও তাহার জামাতা রামচন্দ্র রায়ের মধ্যে যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়েছিল, তার মূলে বসন্ত রায়ের কারসাজি ছিল। প্রতাপ শুধুমাত্র পিতৃব্যকে হত্যা করে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। পিতৃব্যের মৃত্যুর পর প্রতাপাদিত্য সমগ্র যশোর রাজ্যের অধিকার লাভ করেন এবং মহারাজ উপাধি ধারণ করে রাজ্য শাসন করতে থাকেন।
এই সময় বাংলা ও উড়িষ্যার মোঘল-পাঠান শক্তির মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। প্রতাপ স্বভাবতই পাঠান শক্তির অনুকূলে ছিল। সেসময় তার মনে ভাটি বাংলায় একটি স্বাধীন রাজ্য সংস্থাপনের আশাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। ১৫৯৯ খৃষ্টাব্দের কাছাকাছি প্রতাপ বাংলার মোঘল সুবেদারকে অমান্য করে রাজ্য শাসন করে যেতে লাগলেন এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন।
প্রতাপাদিত্যের সমর সজ্জার উদ্দেশ্য বাংলার সুবাদারের কর্ণগোচর হলে তিনি পর্যায়ক্রমে শের খাঁ এবং ইব্রাহীম খাঁ নামক দুইজন মোঘল সেনাপতিকে প্রতাপের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলেন। কিন্তু তার প্রতাপকে সামান্য ভূস্বামী মনে করে যশোহরে আসলে । প্রতাপও তার সেনা বাহিনীর নিকট পরাজয় স্বীকার করে পশ্চাদপসরণ করল।।
প্রতাপাদিত্যের এই সকল বিজয় বার্তা চারদিকে ছড়ায় পড়লো। বিভিন্ন এলাকার ভূইয়াগণ তাঁর সহিত মৈত্রী স্থাপন করে মোঘল বাদশাহের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে যুদ্ধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন। প্রতাপাদিত্যের এই সকল কীর্তি কথা স্মরণে কবি ভরতচন্দ্র রায় গুণাকর তার ‘অন্নদামঙ্গল কাব্যে’ লিখিয়াছেন-
যশোর নগর ধাম  প্রতাপাদিত্য নাম
মহারাজ বঙ্গজ কায়স্থ
নাহি মানে পাতশায়  কেহ নাহি আঁটে তায়
ভয়ে যত নৃপতি দ্বারস্থ।।
বরপুত্র ভবানীর  প্রিয়তম পৃথিবীর
বায়ান্ন হাজার যার ঢালী
ষোড়শ হলকা হাতী  অযুত তুরঙ্গ
যুদ্ধকালে সেনাপতি কালী।।
প্রতাপাদিত্য পর পর দুবার মোঘল বাহিনীকে পরাজিত করে । তিনি মোঘল শাসনাধীন সপ্তগ্রাম বন্দর লুট করে ধন সঞ্চয় করতে অগ্রসর হলেন। সপ্তগ্রামের ফৌজদার প্রতাপাদিত্যের অতর্কিত আক্রমণ রোধ করতে পারলেন না। ফলে সপ্তগ্রামের সমুদয় ধন সম্পদ প্রতাপাদিত্যের কুক্ষিগত হল।।
এই সময় আগ্রার দরবারে নানারকম অশান্তি বিরাজ করছিল। বাদশাহ আকবরের মৃত্যুর পর শাহজাদা সেলিম নুরুদ্দীন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। এইবার জাহাঙ্গীর দরবারে প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলো। এই সময়ে বসন্ত রায়ের পুত্র কচু রায়ও সমগ্র কাহিনী বাদশাহের গোচরীভূত করল। সমুদয় অভিযোগ শুনে জাহাঙ্গীর তাঁর সেনাপতি মানসিংহকে পাঠালেন প্রতাপাদিত্যকে দমনের জন্য। মানসিংহ বাংলায় এসে সসৈন্য যশোর রাজ্যের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলেন এবং কপোতাক্ষ নদের তীরে শিবির স্থাপন করে থাকলেন। কিন্তু নদীমাতৃক বাংলার বর্ষার সম্পর্কে মোঘল সেনাপতির কোনো ধারণা ছিলোনা। একদিকে বর্ষা ও মহারাজা প্রতাপের নৌসেনায় আক্রমণে মোঘল সেনা বিপর্যস্ত ও ছত্র ভঙ্গ হয়েযায়,বাধ্যহয়ে মানসিংহ পিছুহটতে বাধ্য হয়।
এবং বর্ষার শেষে কিছুকাল পরে  আন্দুলিয়া নিবাসী ভবানন্দ মজুমদার নামক এক জমিদার কে উৎকোচ প্রদান করে,রাজা মানসিংহ তাকে নিজের পক্ষে আনে। তারই সাহায্যে মানসিংহ ধুমঘাট আক্রমণ করতে সমর্থ হন।
প্রতাপ এবং তার পুত্র উদয়াদিত্য ও অন্যান্য সেনানায়কগণ দীর্ঘদিন ধরে মোঘল বাহিনীর সাথে কতিপয় খন্ড যুদ্ধ করলেন। অসীম সাহস ও অসামান্য রণচাতুর্য প্রদর্শন করে প্রতাপ শেষ যুদ্ধে বন্দী হলেন। রাজা মানসিংহ বন্দী প্রতাপাদিত্যকে পিঞ্জরাবদ্ধ অবস্থায় আগ্রায় প্রেরণ করলেন। পথিমধ্যে বানারসী ধামে উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে প্রতাপাদিত্য শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তার সেনাপতি শংকর কে বন্দী অবস্থায় দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়।
তার সাথে বাংলার স্বাধীন হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভূলুণ্ঠিত হয়।
যুদ্ধের পর মানসিংহ কচু রায়কে ‘যশোরে জিৎ’ উপাধি দিয়ে যশোহর রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ভবানন্দ মজুমদারকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করেন।
তথ্যসূত্র :- ১) বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস।
                  ২) বাংলার বারো ভূঁইয়া এবং মহারাজা প্রতাপাদিত্য

আসামে বিদেশি ঘোষিত ২ বাঙালি হিন্দু; পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

আসামের কাছাড় জেলার উধারবন্দ থানার অন্তর্গত দুর্গানগর উজানগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব দে। কয়েক পুরুষ ধরে তাঁর পরিবারের বসবাস ওই এলাকায়। কিন্তু গত ২৫শে ফেব্রূয়ারি, ২০১৯  তারিখে তাকে বাংলাদেশি ঘোষণা করে আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল(চতুর্থ) । এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লড়াই চালিয়ে নিজেকে ভারতের নাগরিক প্রমান করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল না তাঁর। উপায়ন্তর না দেখে সঞ্জীব হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত-এর সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতার আবেদন জানান।
 একই জেলার কচুরদম থানার অন্তর্গত  গনিরগ্রাম সোনাই এলাকার বাসিন্দা মায়ারানী দাস । তাঁর পরিবারও কয়েকপুরুষ ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে। কিন্তু এই বছর জানুয়ারি মাসে তাকে বাংলাদেশি ঘোষণা করে আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল( ষষ্ঠ)। কিন্তু নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার আইনি লড়াই চালানোর সামর্থ্য ছিল না তাঁর পরিবারের। তাঁর পরিবার হিন্দু সংহতির কাছে আওহযোগিতার আবেদন জানান ।
গত ৪ঠা এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এই দুজনকে ন্যায় দেওয়ার লক্ষ্যে গুয়াহাটি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলো হিন্দু সংহতি ।এ প্রসঙ্গে শ্রী সম্রাট দত্ত বলেন, “যতদিন না এরা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন, ততদিন হিন্দু সংহতি এদের আইনি লড়াইয়ে সহযোগী থাকবে”।

পশ্চিমবাংলায় বিরিয়ানি বিপ্লব

স্মৃতিলেখা চক্রবর্তী 

আমাদের ছোটবেলায় এত বিরিয়ানি-টিরিয়ানির চল ছিল না। চপ-কাটলেট, পরোটা-মোগলাই, এসবই তখন বাঙালির প্রিয় খাদ্য ছিল। বাজারের আশেপাশের দোকানগুলোয় সন্ধ্যে নামলেই রমরমা ব্যবসা শুরু হয়ে যেত। মস্ত চাটুর মাঝখানে গনগনে আঁচে টগবগ করে ফুটত কালচে পোড়া তেল। তাতে উল্টে পাল্টে এ পিঠ ও পিঠ করে ভাজা হত মুচমুচে মোগলাই। কিংবা বিস্কুটের গুঁড়োয় মোড়া ভেটকির ফিসফ্রাই। আর ছিল পাড়ার মোড়ে মোড়ে নিরামিষ তেলেভাজার দোকান। সকালে গরম কচুরি-জিলিপি, আর বিকেল নামলেই আলুর চপ, বেগুনি, পিয়াজি এসবের পসরা সাজত। রোল-চাউয়ের ঠেলাও ছিল। তবে ভাজা-পোড়া খাবারের প্রতি বাঙালির তীব্র আকর্ষণকে সেগুলো খুব একটা টেক্কা দিতে পারেনি।
এরপর হঠাৎ একদিন কি যে হল। সব হিসেব ওলট-পালট করে গোটা কলকাতা জুড়ে ছোট বড় বিরিয়ানির দোকান খুলতে লাগল। আলু, ডিম আর মাংসের টুকরো দেওয়া লম্বা চালের নোনতা পোলাও। বাজারে আসতেই সুপার হিট। দেদার বিক্রি। বিক্রি যত বাড়তে লাগল, দোকানের সংখ্যাও তত বাড়তে লাগল। বিরিয়ানি মহল, বিরিয়ানি সেন্টার, আলিবাবা, নানান নামে বিরিয়ানি ব্যবসা। দু পা হাঁটলেই বিরিয়ানির দোকান। ঢাকাই বিরিয়ানি, কলকাতা বিরিয়ানি, হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি ইত্যাদি নানান বিরিয়ানির সম্ভার আক্ষরিক অর্থেই একটা বিরিয়ানি যুগের সূচনা করল। এরপর শুরু হল বিরিয়ানির দোকানে দোকানে টক্কর। কে কত ভাল বিরিয়ানি বানাতে পারে-র থেকেও বড় কথা হল, কে কত বিশুদ্ধ বিরিয়ানি বানাতে পারে। নিজেদের বিরিয়ানির বিশুদ্ধতা প্রমাণ করতে, দোকানগুলো নানা রকম কলা-কৌশল অবলম্বন করল। এদের মধ্যে কিছু দোকান, যারা একটু অতিরিক্ত বুদ্ধিমান, তারা রটিয়ে দিল, তাদের দোকানে খাঁটি মুসলমান রাঁধুনি দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা হয়। এই প্রচারে বিপুল সাড়া মিলল। সব বাঙালিই মানে, বিরিয়ানি হল খাঁটি মুসলমানি রান্না। কাজেই মুসলমানি রান্না মুসলমানের থেকে ভাল কে রাঁধবে। যে বাঙালি দোকান থেকে কষা মাংস খাওয়ার আগে কখনো জানতে চায়নি, এর রাঁধুনি খাঁটি বাঙালি কিনা; সেই বাঙালিই দলে দলে ছুটল মুসলমান রাঁধুনির রাঁধা “খাঁটি বিরিয়ানি” খেতে।
মুসলমান ব্যবসায়ীরা এই ট্রেন্ড চিনতে ভুল করেনি। বাঙালি যে “খাঁটি বিরিয়ানি” বলতে তাদেরকেই বোঝাচ্ছে, এটা বাঙালি ক্রেতার হাবেভাবে বেশ পরিষ্কার হয়ে গেছিল। শুরুটা হল বড় দোকান গুলো দিয়ে। হঠাৎই বাঙালি পাড়ায় শাখা খুলতে শুরু করল আরসালান, আমিনিয়া, হাজী বিরিয়ানি, রহমানিয়ার দল। তারপরের ধাপে বাঙালি বিরিয়ানির দোকানগুলোর বদলে আসতে শুরু করল আসমা বিরিয়ানি, বরকত বিরিয়ানির মত দোকান। যেসব বাঙালি পাড়ায় আগে একটিও মুসলমান দোকান ছিল না, সেখানে বিরিয়ানির হাত ধরে একের পর এক পাখা মেলতে লাগল আসমা, বরকত, ফাতেমা, রহিমা-রা। মুখে তাদের মিষ্টি হাসি, আর মাথার উপর লেখা সাতশো ছিয়াশী।  আমি একে “বিরিয়ানি বিপ্লব” নামেই ডাকব, যে বিপ্লবের দখল মুসলমানেরা বাঙালির থেকে নিঃশব্দে কেড়ে নিয়েছে ।
বিরিয়ানি বিপ্লবের সাথে সাথে প্রায় নিঃশব্দে ঘটে গেল আরেকটা জিনিস। মুসলমানের বিরিয়ানির দোকানের হাত ধরেই বাঙালির খাবার প্লেটে ঢুকে পড়ল হালাল সংস্কৃতি। বিরিয়ানির লোভে গোগ্রাসে গেলা বাঙালি পাত্তাই দিল না যে সে হালাল খাচ্ছে। হালাল কি, হালাল কেন, সেটা সম্বন্ধে কিছু জানার আগেই হালাল খাওয়া নিয়ে বাঙালির মানসিক বাধা তৈরি হবার আগেই শূন্য হয়ে গেল। এখন KFC র মুরগি ভাজা থেকে মিত্র ক্যাফে-র ফাউল কাটলেট হালাল হলেও বাঙালির কিছু যায় আসে না।
 এতকিছু , কারণ বাঙালি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, বিরিয়ানি একটি মুসলিম খাবার। তাই, মুসলমানে চাল-মাংস ছুঁয়ে দিলেই সুস্বাদু কাবাব বিরিয়ানি তৈরি হয়ে যায়। বিরিয়ানির সাথে মুসলমানের সম্পর্ক নিয়ে বাঙালির এই মনোভাবের কথা আমি জানতেও পারতাম না, যদি না আমার এক অতিবাম স্কুলপাঠী ঠিক এই ঢঙে আমাকে এই কথাটা বলত। বিরিয়ানির মত প্রাক-ইসলামী যুগের রান্না নিয়ে এমন মনোভাব কেউ রাখতে পারে, কথাটা শুনেও ঠিক বিশ্বাস হয়নি। তবে ফেসবুকে বিভিন্ন খাবার গ্রূপে ঘুরে বিরিয়ানি সম্বন্ধে বাঙালির মনোভাব পড়ে আর অবিশ্বাস করতে পারিনি।
আজকে যদি বাঙালিদের ধরে ধরে প্রশ্ন করা হয়, তাদের প্রিয় খাবার কি, ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন বাঙালিই হয়তো উত্তর দেবে- বিরিয়ানি। বিরিয়ানি নিয়ে আমার ব্যক্তিগত আদিখ্যেতা না থাকলেও, “বিরিয়ানি বিপ্লব”-এর পর গোটা পশ্চিমবঙ্গে বিরিয়ানির বাজার ঠিক কতটা বড়, তার ধারণা করতে পারি। রাস্তায় ঘাটে, বাজার হাটে, বিরিয়ানির দোকান এখন সর্বত্র। এখন প্রশ্ন হল এই বিরিয়ানির দোকানগুলোর মধ্যে বাঙালির দোকান ঠিক কত শতাংশ? বিরিয়ানি ব্যবসার কতটুকু লাভ বাঙালি ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে? আরসালানের বিপুল ভিড় আর হাজি-র দোকানে বিশাল লাইন দেখে বিশ্বাস করতে ভরসা হয় না, বিরিয়ানি বিপ্লবের খুব বেশি লাভ বাঙালি পাচ্ছে। হয়তো দোষ সেই বাঙালি দোকানগুলোরই, যারা মুসলমান রাঁধুনি দেখিয়ে খদ্দের টানতে গেছিল। তারাই বাঙালি ক্রেতার মাথায় ঢুকিয়েছে বাঙালি রাঁধুনি অত ভাল বিরিয়ানি রাঁধতে পারবে না। সেক্ষেত্রে আর মাঝখানে শিখন্ডী রাখা কেন? চালাও পানসি আরসালান-আমিনিয়া। বাংলায় সব বিপ্লবেরই বোধয় একই পরিণতি হয়। বাঙালির কোলেপিঠে বড় হয়ে বিপ্লব একদিন বাঙালিকে ছাড়িয়ে অন্যত্র চলে যায়।

উত্তর ২৪ পরগনায় বিশাল অস্ত্র কারখানার হদিশ পেল পুলিস, গ্রেপ্তার শেখ আলী হোসেন

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত নারায়ণপুর থানা এলাকায় বড়সড় অস্ত্র কারখানার হদিশ পেলো পুলিস। গতকাল ৪ঠা এপ্রিল, বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিধাননগর পুলিস এবং কলকাতা পুলিসের এসটিএফ নারায়ণপুরের দোননগর এবং ছোট গাঁতির একটি বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে ৩০টি নাইন এমএম পিস্তল এবং ৬০টি অসম্পূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, শেখ আলি হোসেন ওরফে মুন্না বলে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এলাকায় ‘জামাই’ বলেই সে অতিপরিচিত ছিল। গত ছয়-আট মাস ধরে সাইকেলের বল বিয়ারিং তৈরির কারখানা চালাত বলেই বাসিন্দারা জানতেন। কিন্তু, এদিন সেখান থেকেই অস্ত্র কারখানা উদ্ধার হওয়ায় হতবাক এলাকার বাসিন্দারাও।
পুলিস সূত্রের দাবি,  আগের দিন এসটিএফ কলকাতা থেকে সদকাশ এবং টারজান নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এসটিএফের গোয়েন্দারা জানতে পারেন, নারায়ণপুর থানা এলাকার একটি জায়গায় পিস্তল তৈরি হচ্ছে। সেই পিস্তল চোরাপথে কলকাতায় ঢুকছে। আবার ভিন জেলাতেও তা পাঠানো হচ্ছে। এরপরেই নারায়ণপুর থানার পুলিসকে নিয়ে এসটিএফ যৌথভাবে মধ্যমগ্রামের রোয়ান্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দোননগরে হানা দেয়। পুলিস জানিয়েছে, দোননগরের বাড়িতে হানা দিয়ে জানা যায় বিধাননগর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ছোট গাঁতি এলাকায় এই পিস্তলগুলি তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকেই তা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। এরপরেই পুলিসের যৌথ দল ছোট গাঁতিতেও হানা দেয়। সেখান থেকেই হাতেনাতে মুন্না বলে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছোট গাঁতির বাড়িটিতে একটা অস্ত্র তৈরির কারখানা চলছিল। সেখানে মুঙ্গের থেকে বিভিন্ন কাঁচামালের পাশাপাশি শ্রমিকও আসছিল। তারপরে এই কারখানায় সেই কাঁচামালগুলিকে একত্রিত করে পিস্তল তৈরি করা হচ্ছিল। সেই কারখানা থেকেই ৬০টি অর্ধেক তৈরি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস আরও জানিয়েছে, ছোট গাঁতির একটি ক্লাবের পাশে ওই বাড়ি থেকে ৬০টি আধা তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও লেদ মেশিন এবং ড্রিলিং মেশিন সহ বিভিন্ন কাঁচামাল সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তর; জোড়াবাগান থানায় ডেপুটেশন দিলো হিন্দু সংহতি

কলকাতার দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তরের ঘটনায় জোড়াবাগান থানায় আজ হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া হলো। হিন্দু সংহতির এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী শান্তনু সিংহ ও শ্রী সমীর গুহরায়, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, কোষাধ্যক্ষ শ্রী সাগর হালদার এবং প্রমুখ কর্মী শ্রী অমিত মালী। প্রসঙ্গত, দুই বোনের মধ্যে ছোটবোনকে উদ্ধার করতে পারলেও, অপহরণকারী মুসলিম যুবককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। সেই কারণে ওই অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়ে এই ডেপুটেশন দেওয়া হয়। এছাড়াও, থানার তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। আলোচনার শেষে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেয় পুলিস।